ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২২ আগস্ট ২০১৯

পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গ্যাস আমদানি যাচাই করা হচ্ছে

পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গ্যাস আমদানি যাচাই করা হচ্ছে

সংবাদ সম্মেলনে নসরুল:
পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গ্যাস আমদানি যাচাই করা হচ্ছে
সরকারি সংস্থার কাছে জ্বালানির বকেয়া ৫ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গ্যাস আনা লাভজনক কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেছেন, আমরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছি, জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা দেখছি। আমরা জ্বালানিকে সিকিউরড করছি। যাতে পিছিয়ে না থাকি, পিছিয়ে থাকা মানে এক্সপেনসিভ। এজন্য আশপাশের দেশগুলোকে আমরা ইনক্লুড করছি। গতকাল ইয়াওমুল খামীছ (বৃস্পতিবার) সচিবালয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

নসরুল হামিদ বলেন, যেভাবে আমাদের সম্ভাবনার জায়গা তৈরি হচ্ছে, সারাবিশ্বে এনার্জি ট্রানজিশন হচ্ছে, সেই ট্রানজিশনের কারণে আমরা কোন জায়গায় আছি। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্র বাছাই করে নিয়েছি, আমরা কয়লা, লিকুইড ফুয়েল, এলএনজি, নিজেদের ন্যাচারাল গ্যাস নিয়েছি। জ্বালানি হিসেবে রিনিউয়্যাবল এনার্জিকেও আমরা সঙ্গে নিয়েছি।

নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশা করছি, জ্বালানি ক্ষেত্রে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে একটা ভালো জায়গায় হবে। জ্বালানি ক্ষেত্রে সাশ্রয়ীটা সবচেয়ে বড় জায়গা তৈরি করছে। পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো আমরা নিচ্ছি এবং আরও এফিশিয়েন্টলি কীভাবে গ্যাস ব্যবহার করতে পারি তা দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, গ্যাসে যে যানবাহন চলে আমরা দেখেছি সেটার এফিশিয়েন্সি মাত্র ১৭ থেকে ২১ শতাংশ। সেই গ্যাস দিয়ে যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করি, সেই বিদ্যুৎ দিয়ে যানবাহন চালাই সেটার এফিশিয়েন্সি ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। এখানেও কিন্তু ভবিষ্যতে একটা ট্রানজিশন হবে হয়তো।

গ্যাসের চাহিদা ৩৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট:
তিনি বলেন, বর্তমানে দৈনিক ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হলেও চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে এবং এলপিজির ব্যবহারের প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, এলপি গ্যাসের চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত কোম্পানিসমূহের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন।

জ্বালানির বকেয়া ৫ হাজার কোটি টাকা
নসরুল হামিদ জানান, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে জ্বালানি বিভাগের পাঁচ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। আমরা মধ্যাঞ্চলে যেভাবে গ্যাস বিতরণ করেছি, চিন্তা করছি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কীভাবে গ্যাস দেওয়া যায়। অর্থাৎ, খুলনা ও যশোর অঞ্চলে। এছাড়া, উত্তরের দিকেও গ্যাস নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়কর বিবরণী চাওয়া হয়েছে। এটা প্রকাশ করা হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিতাসের আয়কর বিবরণী চেয়েছি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। আমরা এটা প্রকাশ করতে পারবো না। সেটা আয়কর বিভাগ থেকে নেওয়া বেটার (উত্তম) হবে। কারণ, এটা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য।

Facebook Comments