ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২২ আগস্ট ২০১৯

নিষেধাজ্ঞার পরও আসছে ভারতীয় গরু-মহিষ

নিষেধাজ্ঞার পরও আসছে ভারতীয় গরু-মহিষ

সিলেট সংবাদদাতা: দেশীয় খামারি ও পশু বিক্রেতাদের স্বার্থে পবিত্র ঈদুল আযহা পর্যন্ত সীমান্ত পথে পশু আমদানি নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন হয়নি, বন্ধ হয়নি পশু আমদানি। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন চোরাইপথে ভারত থেকে আসছে শত শত গরু। মাঝে মাঝে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গরু-মহিষের দু-একটি চালান জব্দ করলেও বেশির ভাগ সময়ই চোরাকারবারিরা নির্বিঘ্নে দেশে গরু নিয়ে আসছে।

জানা যায়, সিলেটের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি গরু ও মহিষ আসছে। আর সুনামগঞ্জের বাঁশতলা, ছাতক, দোয়রাবাজার, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে আসছে ভারতীয় গরু। বোশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোররাতে আসছে এসব ভারতীয় গরু। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দিনেও গরু নিয়ে আসছে চোরাকারবারিরা।

প্রতিদিন আসা শতাধিক গরুর মধ্যে মাঝে মধ্যে দু’একটি চালান আটক করে বিজিবি। সর্বশেষ গত ৪ আগস্ট জৈন্তাপুরের জঙ্গিবিল সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আদমানিকালে ১১টি গরু জব্দ করে বিজিবির লালাখাল ক্যাম্পের সদস্যরা। এর দুদিন আগে গত ২ আগস্ট সুনামগঞ্জের বাঁশতলা সীমান্ত থেকে ৬টি গরু, ৩১ জুলাই দোয়রাবাজারের মাঠগাঁও সীমান্ত থেকে ৩টি গরু আটক করে বিজিবি। সাম্প্রতিক সময়ে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে আমদানিকালে ১৩৭টি গরু আটক করা হয় বলে জানান বিজিবির ২৮ সেক্টরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাকসুদুল আলম।

জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত পশু দিয়েই কুরবানির পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব। এতে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হতেন। কিন্তু ভারত থেকে চোরাইপথে গরু আসায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এজন্য বিজিবির নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার।
জানা যায়, ভারত কখনোই বৈধভাবে গরু রফতানি করে না। তবুও প্রতিবছর কুরবানির ঈদের আগে সেখান থেকে বিপুল সংখ্যক গরু আসে বাংলাদেশে। বিজিবির সহযোগিতায় অবৈধভাবে আসা এসব গরু দেশে এসে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বৈধ হয়ে যায়।

Facebook Comments