ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ২৩ অক্টোবর ২০১৯

কুরবানি ঈদে ভারতীয় গরুর শঙ্কায় দেশীয় খামারিরা

নওগাঁ সংবাদদাতা: নওগাঁর বিভিন্ন হাট কুরবানির পশুতে ভরে গেছে। প্রান্তিক খামারিরা জানিয়েছেন তারা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু পালন করে হাটে নিয়ে আসছেন। এ জন্য যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে সেই তুলনায় হাটে দাম কম বলছেন ক্রেতারা। এছাড়া ভারত থেকে গরু আসলে তাদের লোকসান গুনতে হবে। তাই এই কুরবানি ঈদে ভারতীয় গরুর শঙ্কায় দেশীয় খামারিরা।

আর মাত্র কয়েক দিন বাদেই কুরবানির ঈদ। এ উপলক্ষে গবাদিপশু আসা শুরু করেছে নওগাঁর বিভিন্ন পশুর হাটে। জেলার সবচেয়ে বড় পশু কেনাবেচার হাট মান্দার চৌবাড়িয়া ও সতিহাট, মহাদেবপুরের মাতাজী ও সাপাহারের দিঘীর এবং পোরশার মর্শিদপুর হাট। গত জুমুয়াবার চৌবাড়িয়া হাটে বিপুল সংখ্যক গরু আমদানি হয়। এ হাটে প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে প্রায় ৫-৬ হাজার পশুর আমদানি হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় হাটের নির্দিষ্ট সীমানা ছাড়িয়ে সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

গ্রামের প্রান্তিক মানুষ লাভের আশায় দেশি জাতের গরু মোটাতাজা করে বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছেন। প্রতিটি দেশি জাতের গরু ৩৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের আনাগোনা কম এবং সাধারণ মানুষ কেনার চাইতে ঘুরে ঘুরে দেখছে। শেষ পর্যন্ত এ অবস্থা থাকলে লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করতে হবে কিংবা অনেক গরু অবিক্রীত থেকে যাবে। সারণত বড় গরুর চেয়ে ছোট গরুর চাহিদা থাকে বেশি। খামারিরা বলছেন, গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে গো খাদ্যের দাম বেশি পড়েছে। তবে সে তুলনায় হাটে নিয়ে আসা গরুর দাম কিছুটা কম বলে জানিয়েছে তারা।

জেলার পোরশা উপজেলার আব্দুর রহমান বলেন, বাড়িতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে খৈল, ভূষি, ব্যান্ড গুঁড়া, চালের খুদ ও খড় দিয়ে গরু লালন পালন করা হয়েছে। খাবারের দাম বেশি। প্রতিদিন গরু প্রতি দেড়শ থেকে দুইশ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও এবার দুটি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। তবে দাম তুলনামূলক কম বলছেন ক্রেতারা। আর হাটে প্রচুর ভারতীয় গরু উঠেছে। ব্যবসায়ীদের আনাগোনা কম। এজন্য হয়ত গরুর দাম কমে গেছে।

মান্দার মজিদপুর গ্রামের রফিক বলেন, গত ১০ মাস আগে চারটি ভারতীয় গরু (বলদ) ৬ লাখ টাকা দিয়ে কিনে খামারে রেখে লালন পালন করেছি। হাটে নিয়ে এসে দাম চেয়েছি ১২ লাখ টাকা। ব্যবসীরা ১০ লাখ টাকা বলেছেন। ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। গত তিন বছর যাবত এ হাট থেকে গরু কিনছেন। এবার দুই ট্রাক গরু কেনার জন্য এসেছিলেন। হাটে গরুর দাম তুলনামূলক বেশি। যে গরুর দাম ৮০ হাজার হবে সেটা দাম চাওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উত্তম কুমার জানায়, ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে খামারিরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং ভেজালমুক্ত খাবার দিয়ে পশু লালন পালন করেছেন। জেলার ১১ উপজেলায় এ বছর ৩২ হাজার ২৪২টি খামারে প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার কুরবানির পশু প্রতিপালন করা হয়েছে। জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার। অবশিষ্ট পশু দেশের অন্য জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা হবে। সে আরো জানায়, গত বছর খামারিরা ভালো লাভ করেছিলো। যদি ভারত থেকে পশু না আসে তাহলে এ বছরও খামারিরা লাভবান হবে।

ভালো দামের আশা বিক্রেতাদের:
ভারতীয় গরু প্রবেশে কড়াকড়ির কারণে যশোরের বেনাপোল-শার্শা সীমান্তের পশু খাটালগুলো শুন্য। ফলে খামারীরা দেশীয় পশুতেই ভালো দামের আশা করছেন। আসন্ন কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় গরু না এলেও স্থানীয় খামারিদের পশুতে জমজমাট হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ পশুহাট শার্শার বাগআঁচড়ার সাতমাইলসহ অন্যান্য হাট’। দেশীয় গরু-ছাগলে জমজমাট এসব হাট।
খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরু না আসলে এ বছর তারা ভালো দাম পাবেন। অপরদিকে দাম কিছুটা বেশি হলেও দেশি গরু কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তদারকি থাকায় এবার পুষ্টিমান সম্পন্ন পশু পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের। তবে ঈদকে ঘিরে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

Facebook Comments