ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২৮ মে ২০২০

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধকোটি মানুষ ও সোয়া ৫ লাখ ঘরবাড়ি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধকোটি মানুষ ও সোয়া ৫ লাখ ঘরবাড়ি

নিউজ ডেস্ক : অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে দেশের নদ-নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বেড়ে এ পর্যন্ত ২৮ জেলা প্লাবিত হয়েছে। পানি নেমে গেছে ১১টি জেলায়। এখনও পানিবন্দি ১৭ জেলা। পানি প্লাবিত ১৬ জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫১৬ জন মানুষ। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩১ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৮ জন এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৩৮ জন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনডিআরসিসি) তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতির চিত্র পাওয়া গেছে।

এখনও বন্যায় প্লাবিত রয়েছে কুড়িগ্রাম, বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ জেলা। এসব জেলায় ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫১৬ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে জামালপুরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা পাওয়া না গেলেও ৪২ হাজার ৭৩০ জন আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিআরসিসি। আর চাঁদপুরে ১৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কতজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার তথ্য নেই।

এরই মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, ফেনী, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, নীলফামারী, লালমনিরহাট, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজারে পানি নেমে গেছে।

এই মুহূর্তে বন্যাপ্লাবিত ১৬ জেলায় মোট এক লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৮ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা ৫ লাখ ৩১ হাজার ৯৯৪টি। আর পাঁচ হাজার ২১৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ৯৩টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ১৯টির, পানি বেড়েছে ৪২টির, কমেছে ৫০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১টির।

পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, ধরলা ও তিস্তা নদ-নদীর পানি সমতল বাড়ছে অপরদিকে, গঙ্গা-পদ্মা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল ও বিহারের কতিপয় স্থানে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে, অপরদিকে পদ্মা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গানদীর পানি বাড়তে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে। অপরদিকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার। নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় হতে পারে ভূমিধস।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ২৫ জেলায় ২৬ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন জিআর চাল, চার কোটি ২৮ লাখ জিআর ক্যাশ টাকা, এক লাখ আট হাজার শুকনো খাবার, আট হাজার ৫০০ তাঁবু সেট, দুই হাজার ৬০০ বান্ডিল ঢেউটিন, গৃহ নির্মাণ মজুরি বাবদ টাকা ৭৮ লাখ টাকা, গোখাদ্য ক্রয় বাবদ টাকা ১৬ লাখ টাকা, শিশুখাদ্য ক্রয় বাবদ টাকা ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উত্তরের দুর্গত এলাকায় রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল এবং কর্মকর্তারা।

তিনি জানান, রংপুর, কুড়িগ্রাম, কাউনিয়া, চিলমারী, রৌমারি, রাজিবপুর এলাকায় ঘুরছি। কোথাও ত্রাণ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। জেলায় জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। জেলা প্রশাসকদের বলেছি কোথাও যদি স্বল্পতা থাকে সঙ্গে সঙ্গে বরাদ্দ দিতে হবে। নতুন করে গোখাদ্য ও শিশুখাদ্য বরাদ্দ দিয়েছি।

Facebook Comments