ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ১৩ নভেম্বর ২০১৯

চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়াল

চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ জনে। এর মধ্যে আজ বুধবার ও গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় তিনজন এবং বরিশালে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যই বলছে, গতকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৫ হাজার ৩৬৯ জন রোগী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া ১ হাজার ৩৩৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যা চলতি বছর এক দিনে ভর্তি হওয়া রোগীর দিক থেকে সর্বোচ্চ।

২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৩৫ জন
৬২ জেলায় ডেঙ্গু রোগী
এ বছর গতকাল পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩৬৯ জন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল

সরকারি হিসাবে গতকাল পর্যন্ত দেশের ৬০টি জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল। জয়পুরহাট, বরগুনা, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী না থাকার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল ১০ জন ও বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল। সে হিসাবে ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২ জেলাতেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। গতকাল বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত এমন রোগী পাওয়া গেছে, যারা গত কয়েক মাসেও ঢাকায় আসেনি। এর আগে দেখা গিয়েছিল, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ ঢাকা থেকে ওই সব এলাকায় গিয়েছিল।

কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন নাজমুল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নাজমুলের মৃত্যু হয়।
সোমবার দিবাগত রাতে ও মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফারজানা হোসেন (৪৩) ও মো. লিটন (২৫)। স্বজনেরা হাসপাতাল থেকে তাঁদের লাশ নিয়ে গেছেন। এ নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে চলতি মাসে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল আটে।

এদিকে বরিশালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার দিবাগত রাতে একজন এবং গতকাল ভোরে আরেকজনের মৃত্যু হয়। তাঁরা হলেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার আসলাম খান (২৪) ও পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার গোসনতারা এলাকার মো. সোহেল (১৮)। এই হাসপাতালে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল।

হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেওয়া ডেঙ্গু রোগীর তথ্য ২০০০ সাল থেকে সংরক্ষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম। তারা বলছে, এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি ছিল ২০১৮ সালে। ওই বছর ১০ হাজার ১৪৮ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নেয়। এবার সেই রেকর্ড ভেঙেছে। কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, এ বছর গতকাল পর্যন্ত ১৫ হাজার ৩৬৯ জন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আর গতকাল বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৪ হাজার ৪০৮ রোগী ভর্তি ছিল।

Facebook Comments