ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ১৮ নভেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভাইরাল হওয়া ইমরান খানের জাতিসঙ্ঘের পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জোরপূর্বক বিতাড়িত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আমাদের জন্য একটি বড় বোঝা। আমরা কতদিন এ বোঝা বহন করবো? তাদের অবশ্যই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজ বাসভূমিতে ফিরে যেতে হবে।’
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গান্ধী, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল (হিউম্যান অ্যাফেয়ারস) মার্ক লোকক ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর মহাপরিচালক এন্তোনিও ভিতোরিনো বুধবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর জাতীয় সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে যৌথভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেন, ‘আমরা চাই আপনারা এ ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।’ শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহায়তার জন্য জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশকে ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা বলেন বলেন, ‘১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রবেশের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তাদের চাষের জমি, এমনকি স্থানীয় বনসম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পার্বত্য এলাকাগুলোতে যে কোনও সময় ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধস হতে পারে। এতে রোহিঙ্গারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘তাই তাদের এখান থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া ভালো হবে। না হলে ঝুঁকি বাড়বে।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার ভাসানচর নামে একটি দ্বীপ প্রস্তুত করছে, যেখানে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আরও উন্নত জীবন মান ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ স্থানান্তর করা হবে।

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা সম্পর্কে সরকার প্রধান বলেন, ‘যেসব শিক্ষক রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন, তারা রোহিঙ্গা শিশুদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা দিচ্ছেন।’

জাতিসংঘের তিন শীর্ষ কর্মকর্তা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।তাদের মিয়ানমারের সফরের কথা উল্লেখ করে তারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নে তারা মিয়ানমারে ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআর’র প্রবেশাধিকার চেয়েছেন।

তারা বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশেষ করে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখাতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলেন, ‘তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।’ তবে তারা ‘এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি খুবই মন্থর’ বলে উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস

Facebook Comments