ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ১৬ নভেম্বর ২০১৯

মাদক নির্মূল করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘মাদকের আগ্রাসন থেকে শিক্ষার্থীসহ তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে। তরুণ প্রজন্ম আমাদের সম্পদ। তাদের মেধা বাঁচিয়ে রাখতে হলে মাদক নির্মূল করতে হবে। দেশ থেকে মাদক নির্মূল করাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই যে কোনও মূল্যে মাদকদ্রব্য ব্যবহার বন্ধ ও চোরাকারবারিদের চিরতরে নির্মূল করা হবে।

রবিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কালিরবাজার এলাকায় জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ফুলছড়ি থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমাবেশে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তাই মাদক বেচাকেনা ছেড়ে অন্য ব্যবসা করতে হবে তাদের। মাদকসেবী ও চোরাকারবারিদের সুস্থ পথে ফিরে আসতে বিভিন্ন চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বেচ্ছায় মাদক বেচাকেনা ছেড়ে দিলে তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। দেশকে মাদকমুক্ত করার আন্দোলনে জনগণের সহযোগিতা চান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ, র‌্যাব, নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা এবং দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থেকে কাজ করছেন তারা। দেশে চুরি, ডাকাতি, বনদস্যু, জলদস্যুসহ যে কোনও অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে। গাইবান্ধা অঞ্চলে নৌ ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক নির্মূল ও জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

মাদকবিরোধী সমাবেশে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকার ৭৪ জন আত্মসমর্পণ করেছে, যাদের মধ্যে তালিকাভুক্ত মাদক চোরাকারবারি ২০ জন এবং মাদকসেবী রয়েছে ৫৪ জন। এ সময় তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফেরার শপথ নেওয়ায় তাদের হাতে বিশেষ পুরস্কারও তুলে দেওয়া হয়। আত্মসমর্পণকারীদের সুপথে রাখার জন্য গাইবান্ধা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মামলার বিষয়ে আইনগত সহায়তা এবং পুনর্বাসনে সহায়তা করবে পুলিশ।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি, গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন, জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। এছাড়া সমাবেশে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সুধী সমাবেশ শেষে বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গাইবান্ধা পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের বার্ষিক সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

Facebook Comments