ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ০৩ জুন ২০২০

‘ভারতে পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ভারতে তৈরী পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভারত চায়, বাংলাদেশের তৈরী পণ্য ভারতে রপ্তানি হোক। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। বাণিজ্য সহজ করতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভারত একটি বড় বাজার। ভারতে বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের বিপুল চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক ভারতের বাজারে বিক্রয় করলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। বাংলাদেশ সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্ডার হাট ভারত এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে চারটি বর্ডার হাট চালু আছে। আরো ছয়টি বর্ডার হাট স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। উভয় দেশের মানুষের পণ্য ক্রয়ের লিমিট বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বর্ডার হাটের পরিধিও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ভারতের অনেক বিনিয়োগ আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে মিরসরাই এবং মোংলায় দুটি বড় আকারের ইকোনমিক জোনে ভারত বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামীতে উভয় দেশের বাণিজ্যে দৃশ্যমান অনেক পরিবর্তন আসবে।

রিভা গাঙ্গুলি দাস বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির অনেক সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। ভারত চায়, বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। এজন্য ভারত বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। বাংলাদেশের পণ্য ভারতের বাজারে বিক্রয় হচ্ছে। অনেক পণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে ভারতে। উভয় দেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রে যেসকল সমস্যা বা জটিলতা রয়েছে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এগুলো সমাধান করা হবে। বর্ডার হাটের প্রতি উভয় দেশের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বর্ডার হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে কাজ চলছে। বর্ডার হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ব্যবসা সহজ করতে যা প্রয়োজন তাই করা হবে।

টিপু মুনশি বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে ৮৭৩.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৮৬১৯.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশ রপ্তানি পণ্যের অনেক কাঁচামাল ভারত থেকে আমদানি করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। সেখানে বাংলাদেশের আমদানির চেয়ে রপ্তানি অনেক বেশি।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব এস এম রেজোয়ান হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মো. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments