ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ০৩ জুন ২০২০

বিমান কর্তৃপক্ষকে আটাবের ১০ দিনের আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ছয় দফা দাবি আদায়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ১০ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সিলেট জোনের নেতারা। দাবি আদায়ে তারা আন্দোলনের পাশাপাশি বিমানকে বয়কটের মতো কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন।

বুধবার (৬ মার্চ) দুপুরে সিলেটের জিন্দাবাজারের আটাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেন তারা।

দাবিগুলো হচ্ছে- সিলেট-জেদ্দা-সিলেট রুটে সপ্তাহে একটি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা বা কমন ভাড়ার নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ, জেদ্দা-দুবাই-লন্ডনসহ বিভিন্ন গন্তব্যে কমন ভাড়া বহাল রাখা, সিলেট-জেদ্দা-সিলেট/সিলেট-লন্ডন-সিলেট/সিলেট-দুবাই-সিলেটসহ সরাসরি সিলেট ফ্লাইটে কমন ভাড়ায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিলেট প্রবাসীদের জন্য আসন বরাদ্দ রাখা, সিলেটের যাত্রীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ পরিহার করা, জেদ্দা-সিলেট রুটে সিলেটের যাত্রীদের জন্য ‘ইউ’ ক্লাসে প্রয়োজনীয় আসন বরাদ্দ রাখা, সিলেট বিমানবন্দরের রানওয়ের শক্তি বাড়ানোর কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আটাব সিলেট জোনের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, সিলেট অঞ্চলের প্রায় ১৫ লাখ যুক্তরাজ্য প্রবাসির সুযোগ-সুবিধার জন্য সিলেট-লন্ডন-সিলেট সরাসরি ফ্লাইটের দাবি দীর্ঘদিন থেকে উপেক্ষিত। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও বৈরী মনোভাবের কারণে আমরা আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া সিলেটের ওমরাহ ও হজযাত্রীদের জন্য কৃত্রিম আসন সংকট সৃষ্টি করে বিমানের কিছু স্বার্থান্ধ কর্মকর্তার সহযোগিতায় কিছু নির্দিষ্ট এজেন্সিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, সিলেট/ঢাকা/চট্টগ্রামের জন্য কমন ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিলেটের যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার জঘন্য সিস্টেম চালু রেখেছেন। যেমন, সপ্তাহে জেদ্দা থেকে সিলেটে দু’টি ফ্লাইট চালু রাখা হলেও সেগুলোতে সিলেটের যাত্রীদের জন্য ওমরাহ ক্লাস বন্ধ (ক্লোজ) এবং ঢাকার যাত্রীদের জন্য খোলা (ওপেন) রাখা হয়।

এছাড়া সিলেটের যাত্রীদের জন্য জেদ্দার কোনো গ্রুপ টিকেট নেই। অথচ ঢাকার যাত্রীদের জন্য তা রয়েছে। লন্ডন-দুবাই-কাতার-ওমানসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য সিলেটের যাত্রীদের আসন সংকটে থাকতে হয়। অথচ প্রায়ই শূন্য আসন থাকার খবর মেলে। এমনকি দেড়/দুই মাস পর্যন্ত লন্ডন ফ্লাইটে কোনো আসন খালি নেই বলে জানিয়ে দেয় বিমান কর্তৃপক্ষ। এসব কারণে ও কর্মকর্তাদের বিমাতাসুলভ আচরণে সিলেট অঞ্চলের ট্রাভেল এজেন্ট ও প্রবাসীরা হয়রানির শিকার এবং প্রচুর আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে ইতোপূর্বে সরকারের বিভিন্ন দফতরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের এসব সমস্যা তুলে ধরে গত ২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, ১১ ফেব্রুয়ারি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, ১০ জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক বরাবর আবেদন করা হয়। এসব দাবি আদায়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন আটাব নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হজ্জ এজেন্সিজ অব বাংলাদেশ (হাব) সিলেট শাখার সভাপতি খাজা মঈন উদ্দিন জালালাবাদী, আটাব সিলেটের নির্বাহী সদস্য গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।

Facebook Comments