ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ২০ নভেম্বর ২০১৯

পুরোপুরি বিষ মুক্ত হতে পারেনি বিটি বেগুন

নিউজ ডেস্ক: কীটনাশক প্রয়োগের পরিমাণ অনেক কমলেও পুরোপুরি বিষ মুক্ত হতে পারেনি বিটিবেগুনও। ডগা এবং ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে রক্ষা পেলেও জাবপোকা, থ্রিপস ও জাব জাসিডসহ অন্যান্য কীটের কবল থেকে বাঁচতে পারে না বিটিবেগুন। তাই কম হলেও বেশ কয়েকবার বিটিবেগুণের ক্ষেতেও দিতে হয় ইমিডা ক্লোরোপিডসহ বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক কীটনাশক।
এদিকে বিটিবেগুন নিয়ে কৃষক ও ভোক্তাদের আতংক কমেনি। এই বেগুন চাষ কতটা লাভজনক এ প্রশ্নেরও পরিচ্ছন্ন জবাব মিলছে না অনেক ক্ষেত্রে। কৃষক ও কৃষিবিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য মিলেছে।
অনেকের মতে, ‘যে বেগুন খেয়ে পোঁকা মারা যায় সেই বেগুনে মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না এ কথা বলা যায় না। এধরণের অনেক নেতিবাচক কথার জালে জড়িয়ে দেশের অনেক কৃষক ও ভোক্তা এখনো বিটি বেগুনকে এড়িয়ে চলছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্বাবধায়নে কিছু সংখ্যক প্রদর্শনী প্লট ছাড়া মাঠের কৃষক পর্যায়ে এই বেগুন চাষে এখনো গতি আসেনি। আবার অন্যান্য বেগুন থেকে আলাদা করে চেনার উপায় না থাকায় ভোক্তারা বাজারের কোনটা বিটি আর কোনটা বিটি নয় তা বুঝতে পারছেন না। তাই ভোক্তা পর্যায়ে কেউ বলতে পারছে না বিটি বেগুন ভালো না মন্দ। যদিও বিটি বেগুন আলাদাভাবেই বাজারে আসার কথা ছিলো। কিন্তু কি কারণে তা হচ্ছে না তারও কোনো প্রকৃত জবাব মিলছে না। অনেকে প্রশ্ন করে বলেছেন, বিটি যদি ভালোই হবে তাহলে তা সহজে চেনার উপযোগী করে বাজারজাতকরণ করা হচ্ছে না কেন? বাজার থেকে কিনে বেগুন খেয়ে যদি কারো ক্ষতি হয় তবে তার দায়িত্ব নেবে কে বা কারা?
অপরদিকে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার পুনঃর্বাসনের ব্যবস্থা রেখেই বিটি বেগুন চাষ করা হচ্ছে। এজন্য বিটি বেগুণ ক্ষেতের চারিদিকে ফলস বা বর্ডার ক্রপস হিসেবে এক থেকে দুই সারি প্রচলিত জাতের বেগুনের গাছ লাগানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যাতে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা এই বেষ্টনী পেরিয়ে সরাসরি বিটিবেগুণের গাছে আক্রমণ করতে না পারে। অনেকের মতে এই বেষ্টনীর পিছনে কৃষকতে তেমন কোনো বেগ পেতে হবে না। এতে চাষের জমির মধ্য থেকে ধর্তব্য পরিমাণ জমিও পড়ে থাকবে না। এ বাবদ খুবই সামান্য পরিমাণ জমি ব্যবহৃত হবে। তবে এতে চাষ বাবদ আলাদা কতটুকু পরিমাণ জমি এবং অতিরিক্ত কোনো খরচ ও শ্রম লাগবে কিনা তা এখনো হিসেবের আওতায় আসেনি।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মীর নূরুল আলম বললেন, বিভিন্ন গবেষণা ও মাঠের ফলাফলে দেখা গেছে প্রচলিত বেগুণের চেয়ে বিটিবেগুন অনেক ভালো। এই বেগুন চাষও অনেক বেশি লাভজনক। এতে কীটনাশক ব্যবহার করা লাগে না বললেই চলে। বর্ডার ক্রপের জন্য যে সামান্য জমি লাগবে তা হিসেবের মধ্যে আনার মতো নয়। বাজারে বিটি বেগুন আলাদাভাবে চেনানোর কথা ভাবনার মধ্যে আছে।
অধিদপ্তরের মেহরপুরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, অফিসিয়ালীসহ এই জেলায় এ বছর প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে বিটি বেগুনের চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয় ১০ থেকে ১৫ মেট্রিক টন। বিটি বেগুন চাষে কীটনাশক প্রয়োগের পরিমাণ খুবই কম। এই বেগুন চাষে কীটনাশকের ব্যবহার ৯০ ভাগ কমেছে। অন্যান্য পোকা দমনে কিছু রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। দেশের অন্যান্য এলাকায় থাকলেও আমাদের মেহেরপুরে বিটি বেগুন সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক ধারণা নেই। আমাদের এখানকার কৃষক আধুনিক প্রযুক্তিকে সহজেই গ্রহণ করে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ‘যে বেগুন খেয়ে পোকা মারা যায়, সেই বেগুন খেয়ে মানুষের কিছু হবে না’ এই প্রচারণায় এখানকার কেউ সাড়া দেয় নি। এখানে বিট বেগুন চাষ ও বিক্রি সবই হচ্ছে।

Facebook Comments