ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে বাংলাদেশে

এডিবি থেকে আরও ৫০০ কোটি ডলার ঋণ নেয়া হচ্ছে

নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। কিন্তু এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশের প্রকৌশলগত বা কারিগরি দক্ষতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। সেই পথই অনুসরণ করছে বাংলাদেশ। মিশনারি পদ্ধতিতে নির্ভরশীল হয়ে পড়লে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।

আজ সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এডিবি আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করে সংস্থাটি।

এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়াসুকি সাওদা বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের ইকোনমিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে গতিশীল অর্থনীতি বাংলাদেশের। গত বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামীতে আরও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। সম্প্রতি চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ পাশের দেশগুলো উপকৃত হবে। সেই সুবিধা পেতে হলে বাংলাদেশকে দক্ষ জনশক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ব্যবসা বান্ধব সরকার। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ বাংলাদেশ উপকৃত হবে এবং সেই সুবিধা গ্রহণের জন্য যে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেগুলো গ্রহণ করবে সরকার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)’র বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাণিজ্যযুদ্ধের সুবিধার পাশাপাশি শঙ্কাও রয়েছে। ২০২৪ সালের পর এলডিসি সুবিধা থাকবে না। সে ক্ষেত্রে নতুন সমস্যার সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ। প্রকৌশলগত উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশের তীব্র কর্মসংস্থানের সংকট দেখা দিতে পারে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার।

১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন স্থাপনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ইকোনমিক জোন স্থাপন করা হলে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে ঠিকই তবে তা স্থাপন করতে কতটুকু খরচ হচ্ছে সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বাড়লেও বৈষম্যের দিকটাও বিবেচনাযোগ্য। অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েছে সামাজিক বৈসম্য। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা আভ্যন্তরীণ উদ্যোক্তাদের। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উপকৃত হচ্ছে উচ্চ শ্রেণির লোকজন। উন্নত দেশে পরিণত হতে এই বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন মুস্তাফিজুর রহমান।

Facebook Comments