ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ১২ নভেম্বর ২০১৯

এবার সিয়াট টায়ার তৈরি হবে বাংলাদেশে

নিউজ ডেস্ক:
জমি নিয়ে জটিলতা কেটেছে, কারখানা নির্মাণ শুরু করছে সিয়াট। উৎপাদনে গেলে দেশে তাদের টায়ারের দাম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমবে

বাংলাদেশে একটি টায়ার কারখানা করছে ভারতের আরপিজি গ্রুপ। কোম্পানিটি তাদের সিয়াট ব্র্যান্ডের টায়ার বাংলাদেশে তৈরি করবে। এতে বাংলাদেশের মানুষ এখনকার চেয়ে বেশ কম দামে সিয়াট টায়ার কিনতে পারবেন। আগামী বছর এ কারখানাটি উৎপাদনে যাবে বলে জানিয়েছে সিয়াট।
সিয়াট বাংলাদেশে কারখানা করছে এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। এ জন্য সিয়াট এ কে খান লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। এ কোম্পানি বাংলাদেশে মোট ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি।
বাংলাদেশে কারখানা করার মাধ্যমে সিয়াট দেশের টায়ারের বাজারের এক নম্বর অবস্থান চায় বলে জানিয়েছেন সিয়াট এ কে খান লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্যোতিব্রত ব্যানার্জি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ দেশে কারখানা হলে সিয়াটের টায়ারের দাম কমবে। এতে দেশের মানুষ আরও কম দামে সিয়াট টায়ার কিনতে পারবেন। ফলে বিক্রিও বাড়বে। তিনি বলেন, ভারত থেকে টায়ার আমদানি করতে এখন বেশি খরচ পড়ে। দেশে উৎপাদনে গেলে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ দাম কমবে।
দেশে এখন সিয়াট গ্রিপ নামের মোটরবাইকের একটি টায়ারের দাম প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা। দেশে উৎপাদনে গেলে এর দাম বাজারে ১ হাজার ৭০০ টাকায় নেমে আসবে বলে জানান সিয়াটের ওই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশে সিয়াটের বিনিয়োগ উদ্যোগ বেশ পুরোনো। ২০১২ সালে কোম্পানিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। তখন কথা ছিল, ২০১৪ সালে টায়ার উৎপাদন শুরু হবে। তবে জমিসংক্রান্ত জটিলতায় কারখানাটি স্থাপন দুই বছর পিছিয়ে গেছে। এ কারখানার জন্য যেসব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল তা নিজেদের আরেকটি কারখানায় নিয়ে গেছে আরপিজি গ্রুপ। তবে সিয়াট জানিয়েছে, সম্প্রতি কারখানার জমিসংক্রান্ত জটিলতা কেটে গেছে। ফলে শিগগিরই তারা অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করবে। এ কারখানাটি হচ্ছে ময়মনসিংহের ভালুকায়।
সিয়াট এ কে খানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্যোতিব্রত ব্যানার্জি বলেন, তাঁরা প্রথমে মোটরবাইক, অটোরিকশা, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ট্রাক্টর, ছোট বাণিজ্যিক পরিবহনের টায়ার তৈরি শুরু করবেন। ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কারের টায়ার তৈরি হবে এর পরবর্তী পর্যায়ে।
জানতে চাইলে এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানির পরিচালক আবুল কাসেম খান প্রথম আলোকে বলেন, উদ্যোগটি সফল হলে বাংলাদেশে আরও ভারতীয় বিনিয়োগ আসবে। তখন ভারতীয় উদ্যোক্তারা কম খরচে পণ্য তৈরি করে আবার ভারতে রপ্তানি করবেন। বাংলাদেশের কারখানায় সিয়াট টায়ার তৈরি করে ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে রপ্তানি করা হবে বলেও জানান তিনি।
জ্যোতিব্রত ব্যানার্জি বলেন, তাঁরা বাংলাদেশে সিয়াটের কারখানায় উৎপাদিত টায়ারের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ রপ্তানি করতে চান। বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা ভারতীয় রাজ্যগুলোতে তখন আরও কম খরচে সিয়াট টায়ার বিক্রি করা যাবে।
সিয়াট ভারতের অন্যতম টায়ার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান কার্যালয় মুম্বাইয়ে। ১৯৫৬ সাল থেকে সিয়াট বিভিন্ন ধরনের টায়ার প্রস্তুত করে আসছে। কোম্পানিটির টায়ার উৎপাদন–ক্ষমতা প্রতিদিন ৯৫ হাজার। সিয়াটের মূল প্রতিষ্ঠানের নাম আরপিজি এন্টারপ্রাইজ।

Facebook Comments