ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ১২ নভেম্বর ২০১৯

আদালতের নির্দেশ মানছে না চীনা প্রতিষ্ঠান

নিউজ ডেস্ক:বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘সিইআইপি’ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অন্যের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র জমির মালিক দাবি করে চীনাদের কাছে মাটি বিক্রি করে দেয়। মূল মালিকপক্ষ নিষেধাজ্ঞার কাগজপত্র দেখিয়ে মাটি কাটতে বাধা দেয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকেরা মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে। উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামে আদালতের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে চলছে এই মাটি কাটার কাজ।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মাটি কাটা মেশিন দিয়ে বিশাল পুকুর খনন করা হচ্ছে। প্রায় এক একর জমিতে ১২ ফুট গভীর করে ওই মাটি কাটা হচ্ছে। ১০টি ট্রলিতে করে এসব মাটি বেড়িবাঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

জমির মূল মালিক উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মো. মেহেদী হাসান খান দোহার অভিযোগে জানা যায়, রায়েন্দা মৌজায় ছয়টি খতিয়ানের ১১টি দাগে তাদের ১০ দশমিক সাত একর জমি রয়েছে। ওই জমি থেকে দক্ষিণ কদমতলা এলাকার আলিমুল মোল্লা, শাহ আলম মোল্লা ও সরোয়ার মোল্লা গ্রুপ জমির কথিত মালিক সেজে সাড়ে তিন একর জমির মাটি চীনাদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এ ব্যাপারে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় বাগেরহাট আদালতে যাই। গত ৭ মার্চ মাটি কাটা বন্ধের আদেশ দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করেন আদালত। সেই সঙ্গে উভয় পক্ষকে আগামী ৩০ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে।

এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষের মো. সরোয়ার মোল্লা বলেন, আমাদের জমির মাটি আমরা চীনা ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করেছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে নির্ধারিত তারিখে আদালতে জবাব দেব আমরা।

সিইআইপি প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শ্যামল দত্ত বলেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আদলত এবং জমির মালিকের ব্যাপার। তারপরও আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখব।

এ বিষয়ে শরণখোলা থানা পুলিশের ওসি দিলীপ কুমার সরকার বলেন, জমিজমার বিষয় আমরা কোনো সমাধান দিতে পারি না। তাই অভিযোগকারীকে আদালতে পাঠিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা কেউ অমান্য করতে পারে না। বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিবাদীদের হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছিল। সমাধান না হওয়ায় বাদী আদালতে যান। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত।

Facebook Comments