ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

 শনিবার থেকে পুরোদমে এলএনজি সরবরাহ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে ৯ ফেব্রুয়ারি, শনিবার থেকে পুরোদমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শুধু চট্টগ্রামেই নয়, ঢাকা অঞ্চলেও গ্যাসের প্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন।

কর্মকর্তারা জানান, আজ থেকে দেশে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হবে। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও তা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। গত সাত মাস ধরে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছিল।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার খায়ের আহমদ মজুমদার বলেন, ‘আমাদের দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এটি একটি সুখবর। পুরোদমে এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে গ্যাস সেক্টরের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

পেট্রোবাংলার একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক দুই হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত এ প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব না হওয়ায় বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তের আলোকে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এলএনজি মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনালে প্রক্রিয়াজাত করে সরবরাহ করার জন্য আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেটের মাধ্যমে পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়।

মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানো হয়েছে। এখানে একটি সিজিএস (সিটি গেট স্টেশন) রয়েছে। সেই সঙ্গে আনোয়ারা থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ফৌজদারহাট সিজিএস পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের ৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ লাইনের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেড় কিলোমিটার লাইন রয়েছে। নদীর তলদেশে মাটি থেকে ৮২ ফুট গভীরে থাকা এ লাইন স্থাপনে নানা জটিলতার কারণে দেশে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল।

নদীর তলদেশের পাইপ লাইন কার্যকর না হওয়ায় শুধু আনোয়ারা সিজিএস ব্যবহার করে প্রথমে ১০০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হয়েছিল। পরে তা বাড়িয়ে ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়। গ্যাস নিয়ে জাহাজ বসে থাকলেও পাইপ লাইন সংকটের কারণে পুরোদমে সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরে নদীর তলদেশের পাইপ লাইনের সমস্যা দূর করে হাইড্রোটেস্ট করার পর গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত করা হয় দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের আয়োজন। সরবরাহ শুরুও করা হয়। কিন্তু তখন দেখা দেয় নতুন জটিলতা। শুরু হয় আমদানিকৃত এলএনজি সংকট। বিশেষ করে কাতার থেকে এলএনজি জাহাজ আসলেও ওমান থেকে সময় মতো এলএনজি না আসায় সরবরাহে রেশনিং করা হয়। অর্থাৎ মহেশখালীতে পৌঁছা গ্যাস রেশনিং করে পরবর্তী জাহাজ আসা পর্যন্ত সরবরাহ টিকিয়ে রাখার জন্য ৫০০ মিলিয়নের পরিবর্তে দৈনিক ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হয়।

অবশেষে কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে জাহাজ আসায় রেশনিং পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে এলএনজি গ্যাস সরবরাহ কর্তৃপক্ষ। আজ থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৩২০-৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চট্টগ্রামে রেখে বাকি গ্যাস ঢাকায় দেওয়া হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

Facebook Comments