ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২১ নভেম্বর ২০১৯

মিয়ানমারে সেনা-বিরোধিতা উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:সেনাবাহিনীর আপত্তি উপেক্ষা করে মিয়ানমারে সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার মিয়ানমারের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতা এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে সেনা-আইনপ্রণেতারা এ সংক্রান্ত বিতর্ক প্রত্যাখ্যান করেছে।

সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি-এনএলডি’র অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল মিয়ানমারের সেনানিয়ন্ত্রিত সংবিধান সংশোধন করা। তবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় তিন বছর পর ২৯ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো সু চি’র দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আলোচনার জন্য গৃহীত হবে কিনা- এই বিষয়ে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সেনাপ্রধান নিয়োগকৃত ও অনির্বাচিত ২৫ শতাংশ সেনা এমপি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। সেনাবাহিনী ভোটাভুটি বর্জন করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য গৃহীত হয়।

ওই প্রস্তাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টকে উপযুক্ত সংখ্যক আইনপ্রণেতাদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত ৫ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দুপুরে আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করেন। অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) দল, সেনা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ও কয়েকটি জাতিগত দল বিতর্কে অংশ নেয়। তবে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় কোনও সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বকারী এমপির নাম ছিল না।

বিতর্ক শেষে সংবিধান সংশোধন উদ্যোগ সফল করতে একটি কমিটি গঠনের ব্যাপারে সম্মত হয় মিয়ানমারের পার্লামেন্ট। ৬১১ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ৪১৪ জন কমিটি গঠনের পক্ষে অবস্থান নেয়।

উল্লেখ্য, কথিত গণতান্ত্রিক উত্তোরণের নামে মিয়ানমারে আদতে জারি রয়েছে সেনাশাসন। ২০০৮ সালে প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের যে কোনও প্রস্তাব পার্লামেন্টে পাস হতে হলে ৭৫ শতাংশের বেশি সমর্থন প্রয়োজন। অথচ দেশটির পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের ১১টি আসনের মধ্যে ছয়টি আসনেও রয়েছেন সেনাবাহিনী মনোনীত ব্যক্তিরা। গণতান্ত্রিক সরকার বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে তাদের। সংবিধানে নাগরিকত্ব বিবেচনায় সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার অধিকারও ক্ষুণ্ন করে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিতর্কে এনএলডি’র আইনপ্রণেতারা দাবি করেন, সংবিধান সংশোধনের পক্ষে জনমত রয়েছে। নতুন যে কমিটি গঠন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, তাতে সব পক্ষের মতামত গুরুত্ব পাবে। তবে সেনা-আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি- ইউএসডিপি দাবি করে সংশোধনীর প্রস্তাবটি আইনসম্মত হয়নি।

Facebook Comments