ইয়াওমুল জুমুআ (শুক্রবার), ২২ নভেম্বর ২০১৯

জাতীয় প্রেসক্লাবে সুন্নতি সামগ্রীর বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহাসম্মানিত সুন্নত সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে রাজারবাগ শরীফ উনার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত আন্তর্জাতিক সুন্নত প্রচার কেন্দ্রের উদ্যোগে এবং রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার শাখা প্রতিষ্ঠান আল মুত্বমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতালের সৌজন্যে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সুন্নতি খাবার, তৈজসপত্র, পোশাক পরিচ্ছদসহ বিভিন্ন সুন্নতি সামগ্রীর এক বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রদর্শনীতে প্রায় ৪০টি সুন্নতি খাবারসহ ৬৩টি সুন্নতি সামগ্রী প্রদর্শিত হয়।
সেমিনারে সম্মানিত সুন্নতের ফাযায়িল ফযীলত এবং সুন্নত পালনে রাজারবাগ শরীফের শায়খ আলাইহিস সালাম উনার অবদান তুলে ধরেন, দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মুফতিয়ে আ’যম আল্লামা আবুল খায়ের মুহম্মদ আযীযুল্লাহ এবং মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা উনার মুহতামিম আল্লামা মুফতি মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন। এছাড়া ব্যবহারিক জীবনে সম্মানিত সুন্নতের উপকারিতা এবং অপরিহার্যতা নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিশিষ্ট চাঁদ ও মহাকাশ গবেষক, ফার্মাসিষ্ট এবিএম রুহুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, মুহম্মদ আবু বকর সিদ্দীক হাসান।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার পবিত্র সুন্নত উনাকে মুহব্বত করলো সে আমাকে মুহব্বত করলো। আর আমাকে যে মুহব্বত করলো সে আমার সাথে পবিত্র জান্নাতে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! তাই যে ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেখানো আদর্শ তথা মহাসম্মানিত সুন্নত অনুযায়ী স্বীয় জীবনকে পরিচালিত করবে এবং মুহব্বত করবে, সে জান্নাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! আর এই সম্মানিত সুন্নত উনার ব্যাপক সমাহার রয়েছে, রাজারবাগ দরবার শরীফে।
বক্তারা বলেন, রাজারবাগ দরবার শরীফের আন্তর্জাতিক সুন্নত প্রচার কেন্দ্রে দুস্প্রাপ্য বিভিন্ন ধরনের সুন্নতি সামগ্রী পাওয়া যায়। যেমন, গরু-খাসির দস্তরখানা, কাঠের প্লেট, কাঠের বাটি, কাঠের গামলা, কাঠের চকি, চামড়ার নালাইন, চামড়ার মোজা, চামড়ার বালিশ, ইসমিদ সুরমা, রুমাল, ইজার, কোরতা, পাগড়ি ইত্যাদির পাশাপাশি সুন্নতি খাবার তালবীনাহ, নাবীয, ছারীদ, কিসসা, সিরকা, জয়তুন তেল, কালোজিরা, কালোজিরা তেল, মধুসহ দুস্প্রাপ্য সুন্নতি খাবার পাওয়া যায়। সরাসরি সংগ্রহ করা ছাড়াও ভ্রাম্যমান সুন্নত সুন্নত প্রচার কেন্দ্রের গাড়ী এবং অনলাইনে এসব সুন্নতি সামগ্রী অর্ডার করা যায়। তাছাড়া রাজারবাগ দরবার শরীফে মাসব্যাপী রুইয়াতুস সুন্নাহ বা সুন্নতি সামগ্রীর প্রদর্শনী চলছে। সেখান থেকেও সংগ্রহ করা যায়। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত সুন্নতের উপকারিতা এবং অপরিহার্যতা নিয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন, সম্মানিত সুন্নত পালনের মধ্যেই রয়েছে সুস্থতাসহ সকল কামিয়াবি। তারা বিভিন্ন ধরনের সুন্নতি খাবারের মধ্যে কয়েকটি খাবারের উপকারিতা তুলে ধরে বলেন, সুন্নতি খাবার তালবীনাহ একটি পরীক্ষিত পথ্য। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিসমূহের শেফায় (রোগমুক্তিতে) তালবীনার আশ্চর্যজনক উপকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। যেমন- তালবীনাহ হৃদরোগের প্রতিষেধক, হৃদপিণ্ডের শক্তি বাড়ায়, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে বিশেষ করে কোলন ক্যান্সার রোধ করে, অ্যালজেইমার প্রতিরোধ করে, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিকের ঝুঁকি কমায়, বিষন্নতা দূর করে, কোলেস্টেরল কমায়, অন্তরের কষ্ট, ব্যাথা বেদনা, শোক-দুঃখ দূর করে ইত্যাদি আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
বক্তারা বলেন, সুন্নতি খাবার সিরকা বিভিন্ন প্রকার রোগের চিকিৎসা, রান্না-বান্নাসহ অনেক কাজে ব্যবহৃত হয়। সিরকা খেলে দ্রুত দেহের ওজন কমে, ব্রণ ও রোদে পোড়া ভাব দূর করে, ক্ষুধা কম লাগে, পেটের চর্বি কমায়, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় এবং হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কার্যকরী, হজমে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়াসহ অন্ত্রের অন্যান্য রোগে উপকারী, ২ চা চামচ সিরকা ও ২ চা চামচ গোলাপ পানি দিয়ে ব্রণযুক্ত স্থানে লাগালে ব্রণ দূর হয়। এছাড়া সিরকার আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
যয়তুন উপকারিতা বর্ণনায় বক্তারা বলেন, যয়তুন চোখের কালোদাগ দূর করে, রোদে পোড়া থেকে রক্ষা করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, ত্বকে বয়সের ভাজ পড়া থেকে রক্ষা করে, চুল পড়া রোধ করে, খুশকি এবং হৃদরোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। যয়তুন খাদ্য হিসেবে ডায়াবেটিক প্রতিরোধ করে, ওজন কমায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূরসহ যয়তুনের অনেক উপকারিতা রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
বক্তারা বলেন, একজন বান্দা-বান্দীর কামিয়াবী নির্ভর করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরনের উপর। উনাকে যে যত বেশি অনুসরণ করবে সে ততবেশি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করতে পারবে। মূলত, পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার আমলের মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করা সম্ভব। কেননা মুহব্বতের অপর নাম অনুসরণ, এখন কোনো ব্যক্তি যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করতে পারে, তাহলে তার জন্য নাজাত অবধারিত। সুবহানাল্লাহ!

Facebook Comments