ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ১৯ অক্টোবর ২০১৯

ক্ষীরার দামে খুশি কৃষক

নিউজ ডেস্ক:হবিগঞ্জে ক্ষীরার বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকরা। এ ক্ষীরা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। চাষে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় এ বছর জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষীরা চাষ বেড়েছে। নতুন করে ক্ষীরা চাষে যুক্ত হয়েছেন অনেক চাষি।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার জগৎপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার জমিতে ক্ষীরার বাম্পার ফলন হয়েছে। একই এলাকার মুসলিম উদ্দিন, ফজল মিয়াসহ অন্য চাষিরাও ক্ষীরা চাষে মনোযোগী হয়েছেন। কারণ বাজারে ক্ষীরার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পাইকাররা আগ্রহের সঙ্গে ক্ষীরা ক্রয় করছেন। জগৎপুরের মতো জেলার স্থানে স্থানে বিশাল এলাকাজুড়ে চলছে ক্ষীরার চাষ। চাষিরা মাঠ থেকে ক্ষীরা তুলে বস্তায় ভরছেন। বস্তাভর্তি ক্ষীরা কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এরপর ট্রাকে বোঝাই করে এসব ক্ষীরা সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।
চাষি কাজল মিয়া জানান, এবার ক্ষীরার বাম্পার ফলন হয়েছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ক্ষীরার পাইকারি দাম উঠেছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ক্ষীরা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। প্রতি সপ্তাহে তারা ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার ক্ষীরা বিক্রি করছেন তিনি।
রুস্তম আলী জানান, কয়েক বছর আগে পরিবারে অভাব দেখা দিলে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ১ কানি জমিতে ক্ষীরা চাষ করেন তিনি। এ বছর ক্ষীরা চাষ করেছেন ২ কানি জমিতে। চাষে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। খেত থেকে ক্ষীরা তোলা শুরু হয়েছে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে। এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলবে ক্ষীরা তোলা। প্রতি মাসে তিন থেকে চারবার ক্ষীরা তোলেন তিনি। দাম এখন একটু বেশি থাকলেও মার্চের পর দাম কমে যাবে। তবে সব মিলিয়ে খরচ বাদ দিয়ে এবার তার ক্ষীরা থেকে আয় হবে লাখ টাকা।
ক্ষীরা ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন হাইব্রিড ক্ষীরা পাওয়া গেলেও হবিগঞ্জের উঁচু জমিতে দেশীয় ক্ষীরার ভালো ফলন হয়েছে। এখানকার ক্ষীরায় স্বাদ রয়েছে। তাই বাজারে এর চাহিদা বেশি। স্থানীয় ভোক্তাদের চাহিদা মিটিয়ে কিছু ক্ষীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কলিমনগর কৃষি ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ জানান, এবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ক্ষীরা চাষ হয়েছে। লাভ বেশি হওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মধ্যে ক্ষীরা চাষের আগ্রহও বাড়ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, কৃষি বিভাগের উৎসাহ পেয়ে চাষিরা ক্ষীরা চাষে মনোযোগী হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষীরার ভালো ফলন পাওয়ায় চাষিরা মহাখুশি।

Facebook Comments