ইয়াওমুল জুমুআ (শুক্রবার), ২২ নভেম্বর ২০১৯

আগামি মাসের শুরুতে ডাকসু নির্বাচনের তফসিলের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতে তফসিল ঘোষণার আভাস দিয়েছেন ডাকসু নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এম মাহফুজুর রহমান।

তিন দশক আটকে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে এই নির্বাচনের তোড়জোড়ের মধ্যে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর রোববার এই ইঙ্গিত দেন তিনি।

আগামী সপ্তাহেই তফসিল হতে পারে বলে অধ্যাপক মাহফুজকে উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে হতে পারে।

“মনে হয় কিছু খবর এখানে-ওখানে একভাবে গেছে চলে এবং তাতে হয়ত আমারও কিছু কন্ট্রিবিউশন আছে। সেখানে হয়ত আমি এভাবে ধারণা দিয়েছি, হয়ত এ সপ্তাহের শেষে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে (তফসিল ঘোষণা) হতে পারে।

“বাস্তবতা হল যে, এটা হয়ত কিছুটা দেরি হতে পারে। এটা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হতে পারে।”

তবে এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় জানিয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, “এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ডাকসুর সভাপতি অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর সাহেব।”

পদাধিকার বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন একসঙ্গেই হবে, তফসিলও হবে একইসঙ্গে।

১৯৯০ সালে সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল; তারপর আর হয়নি।

ডাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে রাজনীতিকদের খরা চলছে বলে মন্তব্য করে আসছেন বহুজন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে গিয়ে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে বলেছিলেন।

ডাকসু নির্বাচন চেয়ে আদালতে রিট আবেদন হয়েছিল, তাতে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা আসে গত বছর হাই কোর্ট থেকে।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনে ওই আদেশ স্থগিত করেছিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগ গত ৬ জানুয়ারি সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিলে নির্বাচন আয়োজনের বাধা কাটে।

এর ফলে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন করতে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমানকে এই প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আরও পাঁচজনকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নির্বাচনের জন্য ৭ অধ্যাপকের সমন্বয়ে একটি ‘আচরণবিধি কমিটি’ও গঠন করা হয়েছে।

ছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশ

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অছাত্র ও বহিরাগতদের হলগুলো ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বহিরাগত কাউকে হলে পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

রোববার প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভার সিদ্ধান্তের পর এই নির্দেশনা সব হলের নোটিস বোর্ডে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নোটিসে বলা হয়েছে, “মাস্টার্স শ্রেণির যে সকল ছাত্রের পরীক্ষা শেষ হয়েছে, তাদের অনতিবিলম্বে হল অফিসে সীট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হল। এছাড়া অছাত্র ও বহিরাগত ব্যক্তি কারও কক্ষে অবস্থান করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সব হলের জন্য এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য হলের প্রত্যেকের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

“ডাকসু নির্বাচন যাতে হয় এর জন্য সব কিছুই করা হবে। যদি সবাই সহযোগিতা না করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের কঠোর হতে হবে।”

Facebook Comments