ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ১৪ নভেম্বর ২০১৯

অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই ইরান-বিরোধী সম্মেলন নিয়ে হতাশায় আয়োজক দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন সরকার তার ইরান-বিদ্বেষী নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ’তে আগামী মাসে ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক একটি সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন যদিও ঘোষণা করেছে ওয়ারশ’ সম্মেলনে বিশ্বের বহু দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অঙশ নেবেন কিন্তু রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ এরইমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এ সম্মেলনে অংশ নেবে না।

বর্তমানে সিরিয়াসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতে অন্যতম প্রভাবশালী দেশ হচ্ছে রাশিয়া।কাজেই এই দেশটি ওয়ারশ’ সম্মেলনে অংশ না নিলে মার্কিন সরকার একথা দাবি করতে পারবে না যে,মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ঠেকাতে ওয়ারশ’ বৈঠকে বিশ্বের সব দেশ মতৈক্যে পৌঁছেছে। এমনকি আমেরিকার ইচ্ছায় আসন্ন সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ হতে সম্মত পোল্যান্ডের সরকারও এ বিষয়টি স্বীকার করেছে।

আসন্ন ওয়ারশ’ সম্মেলনে রাশিয়ার অনুপস্থিতির সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াতসেক চাপুতোভিচ বলেছেন,রাশিয়ার উপস্থিতি ছাড়া এই সম্মেলনের সফলতা আশা করা যায় না। তিনি বলেন, আগামী ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলন থেকে হয়ত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং আমার স্বাক্ষর করা বিবৃতিই কেবল প্রকাশ করতে হবে।
ইরান বিরোধী বৈঠকের আয়োজক দেশ পোল্যান্ডের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার তেহরান সফরে এসে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পূর্ব ইউরোপে আমেরিকার প্রধান মিত্র পোল্যান্ড সব সময় ওয়াশিংটনের তেহরান বিরোধী অবস্থানকে সমর্থন করে এসেছে। কাজেই এবারো পোল্যান্ড ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইরান বিরোধী সম্মেলনের আয়োজক দেশ হতে সম্মত হয়েছে।

পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, ইউরোপের পক্ষে আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিরোধিতা করা সম্ভব নয়।

ওদিকে আমেরিকার এই ইরান বিরোধী সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, আসন্ন এই সম্মেলন মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মস্কো মনে করছে না।রাশিয়া মনে করছে, ওয়ারশ’ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার বৈধতা আদায় করে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উপস্থিতি ও প্রভাবকে নস্যাত করতে চায়। এক কথায় ওয়াশিংটন চায় ইরান এই মুহূর্তে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সিরিয়ায় বিদেশি মদদে চাপিয়ে দেয়া সহিংসতা নিরসনে ইরানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার বিষয়টি ইহুদিবাদী ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি তাদের আরব মিত্ররা মেনে নিতে পারেনি।ইরানকে সিরিয়া থেকে বের করার শত প্রচেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত তারা সফল হতে পারেনি। আমেরিকা ও ইসরাইল এ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সিরিয়া থেকে ইরানি সামরিক উপদেষ্টাদের প্রত্যাহার করার ব্যাপারে রাশিয়াকে রাজি করানোর বহু চেষ্টা করেছে।

কিন্তু সিরিয়ায় ইরান সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তা বিবেচনা করে রাশিয়া পাশ্চাত্যের এই চাপে এখনো নরম হয়নি।এবার ওয়ারশ’ সম্মেলনে উপস্থিত হতে অস্বীকার করার মাধ্যমে রাশিয়া প্রকারান্তরে আমেরিকাকে একথাই জানিয়ে দিয়েছে যে, ওই সম্মেলন থেকে ইরান বিরোধী যে সিদ্ধান্তই গৃহিত হোক না কেন তা বাস্তবায়নে মস্কোর সমর্থন থাকবে না।সূ্এ: পার্সটুডে

Facebook Comments