ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ১৮ নভেম্বর ২০১৯

১৮ দিনেই ১ বিলিয়ন রেমিটেন্স-রিজার্ভ ৩২.২০ বিলিয়ন ডলার

১৮ দিনেই ১ বিলিয়ন রেমিটেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক: এ নিয়ে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সাড়ে ৯ মাসে রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৫০ কোটি (১৪.৫০ বিলিয়ন) ডলার। রপ্তানি আয়ে ধাক্কা খেলেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।চলতি মাসের ১৮ দিনেই ১০০ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তারা। এ নিয়ে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সাড়ে ৯ মাসে রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫০ কোটি (১৪.৫০ বিলিয়ন) ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৪৫১ কোটি ০৮ লাখ (৪.৫১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি।

সেপ্টেম্বরে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তারা। যা মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।

এর আগে গত মে মাসে রোজার ঈদকে সামনে রেখে ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছিল জুলাই মাসে; ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছিল ২০১৮ সালের মে মাসে ১৫০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

আর চলতি অক্টোবর মাসের ১৮ দিনে (১ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর‌্য পর্যন্ত) ৯৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলার (প্রায় ১ বিলিয়ন) রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

সবমিলিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৯ মাস ১৮ দিনে এক হাজার ৪৪৩ কোটি ৫১ লাখ (১৪.৪৩ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স এসেছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিটেন্সের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ১ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্সের মধ্যে ২২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। ৪০টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৭৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। নয়টি বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হল বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিটেন্স। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মত।

রিজার্ভ ৩২.২০ বিলিয়ন ডলার:

রেমিটেন্স বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নও (রিজার্ভ) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।রোববার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) অগাস্ট-সেপ্টেম্বর মেয়াদের ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে এসেছিল। গত কয়েকদিনে বেড়ে তা ফের ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ- এই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যে সব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি আয় কমেছে ৩ শতাংশ। এই তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ১১ শতাংশ।

Facebook Comments