ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ১৪ নভেম্বর ২০১৯

ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩ দলের বিশাল মানববন্ধন

 আর.এফ.এন নিউজ :

ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩ দলের বিশাল মানববন্ধন

স্থান : জাতীয় প্রেসক্লাব, তারিখ : ১৬-০৯-১৮, সময় : সকাল ১০:০০ ঘটিকা
দাবী সমূহ :
১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানীকর বক্তব্য, লেখা, প্রকাশনা, টিভি প্রোগ্রাম, রেডিও প্রোগ্রাম, ইন্টারনেটে স্ট্যাটাসসহ যে কোন বিষয় প্রচার, প্রকাশ ও প্রদানকারীর শাস্তি শুধুমাত্র মৃত্যুদ- দিতে হবে। মানহানীকর সকল বিষয় নিষিদ্ধ করতে হবে এবং দোষী ব্যক্তির শাস্তি কার্যকরে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. নেদারল্যান্ডের কুখ্যাত এমপি গিয়ার্ট উইল্ডার্স কর্তৃক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যঙ্গচিত্র প্রতিযোগীতা আয়োজনের ঘোষণা দেয়ায় ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ড রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে। এই কুখ্যাত মুসলিম বিদ্বেষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে নেদারল্যান্ডের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন  করতে হবে।
৩. পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে আখেরী রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাল্যবিবাহের বিরোধিতাকারীদের শাস্তি মৃত্যুদ-। দেশে ১৮ বছরের নীচে ছেলে-মেয়ের একান্তবাস করার বিরুদ্ধে আইন নেই কিন্তু খাছ সুন্নত বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা ও অবক্ষয় আরো বাড়ছে। তাই ‘প্লান ইন্টারন্যাশনাল’ এনজিওসহ বাল্যবিবাহ বিরোধী ইসলাম বিদ্বেষী সকল এনজিও এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। অবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ নামক কুফরী আইন প্রত্যাহার করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবমাননাকারীদেরকে মৃত্যুদ- দিতে হবে।
৪. মুুসলমানদের সবচেয়ে বড় ঈদ আসন্ন পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষ্যে দেশের সকল মুসলমান কর্মচারীদের বোনাস দিতে হবে। কুফরী বৈশাখী ভাতা মুসলমানদের প্রয়োজন নেই। সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী ছুটি দিতে হবে।
৫. ঢাকা, চট্রগ্রামসহ যানজটপ্রবণ শহরগুলো থেকে পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন করে কর্মজীবী মানুষের পরিবার স্থানান্তরে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে কখনো যানজট নিরসন হবে না। বরং ঢাকার পরিবর্তে জেলা পর্যায়ে অফিস-আদালত, গার্মেন্টস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
৬. পার্বত্য বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দালাল, সরকার ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনাকারী শহিদুল দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় শাস্তি দিতে হবে। দেশদ্রোহী সুলতানা কামাল চক্রবর্তী, মেজবাহ কামালসহ অন্যান্য চিহ্নিত সি এইচ টি কমিশনের দালালদের গ্রেফতার করতে হবে।
৭. পবিত্র দ্বীন ইসলাম অবমাননাকর “জান্নাত” নামক সিনেমা নিষিদ্ধ ও এর প্রযোজক-পরিচালক, নায়ক-নায়িকাদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
৮. নাস্তিকরা নির্বাচনের পূর্বে দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ড করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। আসাদ নূরসহ অন্যান্য সকল নাস্তিকদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।
৯. পবিত্র আশুরা শরীফ উপলক্ষ্যে কমপক্ষে ৩ দিন ছুটি দিতে হবে। সারাদেশে ব্যাপক সমারোহে সব স্কুল কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারী-বেসরকারী সব প্রতিষ্ঠানে পবিত্র আশুরা শরীফ পালনের ব্যবস্থা নিতে হবে পাশপাশি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফযীলত ও মর্যাদা মুবারক সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
১০. দেশ চালাচ্ছে “র” এই প্রচারণার সমুচিত জবাব দিতে হবে। ভারতের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির প্রচারণার সমুচিত জবাব দিতে হবে। বাংলাদেশ ভারতকে উজার করে সব দিচ্ছে এই প্রচারের বিপরীতে তথ্য তৈরী করতে হবে। আওয়ামী লীগ ভারতের কথায় উঠে বসে এবং ভারতই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখেছে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এসব কথার শক্ত জবাব দিতে হবে।
১১. দ্বীন ইসলাম উনার নাম বা দোহাই দেয়া নিষিদ্ধ করতে হবে। দ্বীন ইসলামের নামধারী রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
১২. মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ, পবিত্র শবে বরাত, পবিত্র মীলাদ শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ এবং পবিত্র মাজার শরীফ জিয়ারত উনাদের বিরোধীতাকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহী আইনে গ্রেফতার করতে হবে।
১৩. ভারতীয় আদালত সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়ায় উল্লাস প্রকাশ এবং বাংলাদেশেও প্রচলনের দাবী করেছে বাংলাদেশের অঞ্জন রায় সহ উগ্র গয়েশ্বর মার্কা হিন্দুরা। আইনত নিষিদ্ধ সমকামিতা প্রচলনের দাবী করায় অবিলম্বে অঞ্জন রায়সহ সকল সমকামীদের গ্রেফতার করতে হবে।
১৪. মুসলিম এমপি বাদ দিয়ে ভারতীয় সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আরএসএস’ এর এজেন্ট উগ্র হিন্দুদের আসন্ন নির্বাচনে অধিক হারে মানোনয়ন দিয়ে দেশে সাম্প্র্রদায়িক সন্ত্রাস লাগানোর বিএনপি’র গয়েশ্বরদের চক্রান্ত এদেশবাসী মুসলমানরা মেনে নিবে না। যারা মুসলিমদের বাদ দিয়ে উগ্র হিন্দু এমপি অধিক হারে মনোনয়ন দিবে তাদের আগামী ভোটে বয়কটের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক চক্রান্ত প্রতিহত করবে মুসলমানরা।
আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন খতামুন নাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানীকর বক্তব্য লেখা, প্রকাশনা-প্রচার এবং সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনার বিরোধীদের শাস্তি মৃত্যুদ-, মুুসলমানদের সবচেয়ে বড় ঈদ আসন্ন পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষ্যে দেশের সকল মুসলমান কর্মচারীদের বোনাস প্রদান, বাকস্বাধীনতার ভন্ডামীর নামে নেদারল্যান্ডের এমপি গিয়ার্ট উইল্ডার্সের নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যঙ্গচিত্র প্রতিযোগীতা আয়োজনের ঘোষণা দেয়ায় নেদারল্যান্ড দূতাবাসের মাধ্যমে তার ফাঁসির দাবি, পবিত্র দ্বীন ইসলাম অবমাননাকর “জান্নাত” নামক সিনেমা নিষিদ্ধ এর প্রযোজক-পরিচালককে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, কুখ্যাত আসাদ নূরসহ অন্যান্য সকল সকল নাস্তিকদের ফাাঁসি, পবিত্র আশুরা শরীফ উপলক্ষ্যে কমপক্ষে ৩ দিন ছুটি, মুসলিম এমপি বাদ দিয়ে ভারতীয় সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আরএসএস’ এর এজেন্ট উগ্র হিন্দুদেরকে আসন্ন নির্বাচনে অধিক হারে মনোনয়ন দিলে উগ্র হিন্দু প্রার্থীদের ভোট দেয়া বয়কটের দাবিসহ ১৩ দফা দাবীতে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ১৩টি সংগঠন আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন করেছে।
 (১) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানীকর বক্তব্য, লেখা, প্রকাশনা, টিভি প্রোগ্রাম, রেডিও প্রোগ্রাম, ইন্টারনেটে স্ট্যাটাসসহ যে কোন বিষয় প্রচার, প্রকাশ ও প্রদানকারীর শাস্তি শুধুমাত্র মৃত্যুদ- দিতে হবে। মানহানীকর সকল বিষয় নিষিদ্ধ করতে হবে এবং দোষী ব্যক্তির শাস্তি কার্যকরে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও কর্তৃপক্ষের নীরবতার সুযোগে প্রগতিশীল, বুদ্ধিজীবী ও মুক্তমনার ছদ্মাবরণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে অবমাননার উদ্দেশ্যে নাস্তিকরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিকদের মুক্তমনা ব্লগ, ইষ্টিশন ব্লগ, ধর্মকারী ব্লগগুলো এদেশে এখনো তীব্র ইসলামবিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। গত ৭ই আগস্ট গণজাগরণ মঞ্চের কুখ্যাত নাস্তিক ‘মাহমুদুল হক মুন্সি’ তার ফেসবুক টাইমলাইনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো বোন উনাকে জড়িয়ে চরম গর্হিত, অত্যন্ত আপত্তিকর ও ক্ষমার অযোগ্য স্ট্যাটাস দিয়েছে। শুধু নাস্তিক মুন্সিই নয়; চরম ইসলামবিদ্বেষী আইডি নয়ন সাহা, সুষুপ্ত পাঠক, জুলিয়াস সিজার, জ ই মামুন, রাজেশ পাল, সুপ্রীতি ধর’রা এদেশে তীব্র সাম্প্রদায়িক উস্কানী ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। গত ৭ অক্টেবরও সুপ্রীতি ধর বাথরুমে রেখে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননা করার কথা বলেছে। অথচ পুলিশ, র‌্যাব, বিটিআরসি তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেয়নি, কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণদের ক্ষেপিয়ে দেয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! পুলিশ, র‌্যাব, বিটিআরসি সবাই নীরব ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রীসভায় অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ১৪ বছর কারাদন্ডের বিধান রাখলেও বঙ্গবন্ধুর যিনি হযরত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবমাননা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে শাস্তির জন্য ১০ বছর জেলের বিধান করা হয়েছে। যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটা সংশোধন করে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দন্ডবিধি সব আইনেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিন্দু থেকে বিন্দুতম অবমাননা করলে বা মানহানীকর বক্তব্য, লেখা, প্রকাশ ও প্রচার করলে তাৎক্ষণিক মৃত্যুদ-ের বিধান করতে হবে।
(২) নেদারল্যান্ডের এমপি গিয়ার্ট উইল্ডার্স কর্তৃক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যঙ্গচিত্র প্রতিযোগীতা আয়োজনের ঘোষণা দেয়ায় ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ড রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে। এই কুখ্যাত মুসলিম বিদ্বেষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে নেদারল্যান্ডের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন  করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নেদারল্যান্ডের কুখ্যাত পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক এমপি গিয়ার্ট উইল্ডার্স আবারো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যঙ্গচিত্র প্রতিযোগীতা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! এর আগে ২০১৫ সালে নেদারল্যান্ডের একটি জাতীয় টেলিভিশনে সে ব্যঙ্গ কার্টুন প্রদর্শন করেছে। কিন্তু নেদারল্যান্ড সরকার তার কর্মকান্ডকে প্রকাশ্যে সমর্থন না করলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তার অমার্জনীয় অপরাধ বন্ধ করার কথাও বলেনি। বরং এই নাস্তিকের বিরুদ্ধে মুসলমানদের দায়ের করা মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে নেদারল্যান্ডের আদালত রায়ে বলেছে, “পবিত্র দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে উইল্ডার্সের মন্তব্য বৈধ। পবিত্র দ্বীন ইসলাম ধর্ম চরিত্রগতভাবে সহিংস এবং নেদারল্যান্ডে মুসলমানদের অভিবাসন বন্ধ করা উচিত বলে উইল্ডার্স যে মন্তব্য করেছে তাকে নেদারল্যান্ডের অভিবাসন নীতিমালার আলোকে বিবেচনা করতে হবে।” নাউযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য এই কুখ্যাত পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী; পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে ফ্যাসিবাদী ধর্ম বলে বর্ণনা করেছে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে হিটলারের আত্মজীবনী মাইন কাম্ফের সাথে তুলনা করেছে। উগ্র খ্রিষ্টান মৌলবাদী ক্রুসেডার দল ‘পিভিডি’ প্রধান উইল্ডার্স তার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিল, তার দল জিতলে নেদারল্যান্ড থেকে মুসলিমদের বহিষ্কার, পবিত্র কুরআন শরীফ নিষিদ্ধ এবং চারশ পঞ্চাশ মসজিদ বন্ধে করে দেয়া হবে। তবে তার দল নির্বাচনে প্রথম না হলেও আসন জয়ে দ্বিতীয় হয়েছে।”
বক্তারা বলেন, কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী এমপি উইল্ডার্সের পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান ক্লাব ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ সদস্য নেদারল্যান্ড সরকার কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পশ্চিমারা সবসময় ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়। কিন্তু নেদারল্যান্ড, ডেনমার্কসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যখন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে অবমাননা করা হচ্ছে তখন তারা নিশ্চুপ থাকে। মূলত ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে তারা খ্রিষ্টান মৌলবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম এবং মুসলিমবিদ্বেষ প্রচারকে সমর্থন করছে।
বক্তারা বলেন, পশ্চিমা খ্রিষ্টান রাষ্ট্রগুলো বাক স্বাধীনতার নামে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ করছে। অথচ আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার ঘোষণার চতুর্থ অনুচ্ছেদে স্বাধীনতার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: “স্বাধীনতার অর্থ হল এমন সব কিছু করার ক্ষমতা যা অন্য কারো উপর আঘাত হানে না বা অন্য কারো ক্ষতি করে না।” আন্তর্জাতিক আইনে এটা স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, বাক স্বাধীনতা সীমিত এবং এর নামে যে কোনো সীমারেখা লঙ্ঘন করা যাবে না।
বক্তারা আরো বলেন, পশ্চিমারা বাক-স্বাধীনতার কথা বললেও উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান এ্যসেঞ্জকে ‘বাক-স্বাধীনতা’ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ্যসেঞ্জকে ছাড় দেয়নি। বরং মামলা দিয়ে দেশ ছাড়া করেছে। শুধু তাই নয় ২০১২ সালে সাবেক মার্কিন নৌ কমান্ডো ম্যাট বিসোনেট্টে সন্ত্রাসী লাদেনকে নিয়ে ‘নো ইজি ডে’ নামে বই প্রকাশ করলে তাকেও বাক-স্বাধীনতার অধিকার দেয়নি পেন্টাগণ তথা যুক্তরাষ্ট্র। বরং লেখকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষনা দেয়। দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমা খ্রিষ্টান দেশগুলোই বাক-স্বাধীনতা হরণ করছে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুধীতা করার জন্যই কথিত বাক স্বাধীনতাকে ব্যবহার করছে।
সুতরাং বাক-স্বাধীনতার নামে ভন্ডামী না করে অবিলম্বে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকারী কুখ্যাত এমপি গিয়ার্ট উইল্ডার্সকে ফাঁসি দিতে হবে। তার সহযোগী সকল নাস্তিকদেরও ফাঁসি দিতে হবে। অন্যথায় নেদারল্যান্ডের কুটনৈতিক সর্ম্পক ছিন্ন করতে হবে সাথে সাথে মুসলিম বিশ্বকে নেদারল্যান্ডের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে হবে।
তাই মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেয়ার বিপরীতে নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরীতে বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে এবং সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করতে হবে। এতে দেশে-বিদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাবমর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণ সরকারকে ধর্মপ্রাণদের সরকার হিসেবে গণ্য করবে।
(৩) পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বাল্যবিবাহ মুবারক উনার বিরোধিতাকারীদের শাস্তি মৃত্যুদ-। দেশে ১৮ বছরের নীচে ছেলে-মেয়ের একান্তবাস করার বিরুদ্ধে আইন নেই কিন্তু বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে। এতে সামাজিক অস্থিরতা ও অবক্ষয় আরো বাড়ছে। তাই বাল্যবিবাহ বিরোধী ইসলাম বিদ্বেষী এনজিওসহ জড়িতদের সনাক্ত করতে হবে। অবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ নামক কুফরী আইন প্রত্যাহার করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবমাননার কারণে তাদেরকে মৃত্যুদ- দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, এনজিওগুলো কর্তৃক বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে অব্যাহত তথ্যসন্ত্রাসের শিকার হয়ে অনৈতিক বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রণয়ণ করেছে সরকার। অথচ দেশে ১৮ বছরের নীচের ছেলে মেয়েদের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ফলে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলে অবৈধ গর্ভপাত, ভ্রুণহত্যা ও কুমারী মাতার পরিমাণ। সে নিয়ে মুসলিম বিদ্বেষী এনজিও বা সরকারের কোন মাথাব্যাথা নেই।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বছরে কত সংখ্যক গর্ভপাত হয় তার একটি জরিপ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুতম্যাকার ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশে তাদের সঙ্গে গবেষণার কাজটি করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাবরশন বাংলাদেশ (বাপসা)। গুতম্যাকার ইনস্টিটিউটের জরিপে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ১১ লাখ ৯৪ হাজার অবৈধ গর্ভপাত হয়েছে। এ হিসাবে গড়ে দিনে ৩ হাজার ২৭১টি গর্ভপাত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা গাটমেচারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখের বেশি অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে। এদিকে আইসিডিডিআরবি’র এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ গর্ভপাতের ঘটনাই ঘটে বিবাহ-বর্হিভূত সম্পর্কের কারণে। বৈধ ও শরীয়তসম্মত বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বললেও ১৮ বছরের নীচের টিনেজ ছেলে মেয়েদের লাখ লাখ অবৈধ গর্ভপাতকে সমর্থন করছে বাল্যবিবাহ বিরোধীরা। অথচ বাংলাদেশের পেনাল কোড অনুযায়ী গর্ভপাত অবৈধ।
বক্তারা বলেন, যমুনা টিভি’র এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসেছে, বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৫ লক্ষ ভ্রুণ শিশু হত্যা করা হচ্ছে। বলাবাহুল্য এর অধিকাংশ হচ্ছে ১৮ বছরের নিচের কুমারী মাতাদের অবৈধ ফসল। এনজিও, নারীবাদী এবং সরকার অবৈধভাবে কুমারী মাতা হতে সমর্থন করছে তাই এর বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। এমনকি আইন প্রণয়নও করছে না। কিন্তু বৈধ বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, ইউনিসেফ দাবি করেছে বাল্যবিবাহের কারণে বাংলাদেশে ২৩ হাজার শিশু মারা যায়। অপরদিকে বাংলাদেশ সরকারের হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় ১৪ জন শিশু মারা যায়। সে হিসেবে বছরে মারা যায়, ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬৪০ জন। ইউনিসেফের দাবি অনুযায়ী, অল্প বয়সে বিয়ে করলে যদি ২৩ হাজার শিশু মারা যায়, তবে বাকি ৯৯,৬৪০ জন শিশু মারা যায় কেন? তারা তো সম্মানিত বাল্যবিবাহের ফলে মারা যায়নি। সুতরাং বাল্যবিবাহের কারণে শিশু মৃত্যুর প্রচারণা মূলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষীদের নির্ঝলা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। এছাড়া বাল্যবিবাহ রোধে আইন প্রণয়ণ করা হলো কিন্তু দেশে কথিত বাল্যবিবাহে শিশুমৃত্যুর ৪ গুণেরও বেশী শিশু মৃত্যু হচ্ছে সেজন্য তো কোন আইন প্রণয়ণ না হওয়া সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে মূলত খাছ সুন্নতি বাল্যবিবাহ উনার বিরোধীতা করা।
বক্তারা বলেন, মেয়েরা বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিবাহ অস্বাস্থ্যকর নয় বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত। গবেষণা মতে, ১৯ এর নিচে মা হতে যদি সিজারিয়ান অপরেশন লাগে ৫%, সেখানে ২৬-এ মা হলে সিজারিয়ান হার বেড়ে দাড়ায় ২৫% -এ। এছাড়া লন্ডন থেকে প্রকাশিত গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, অতি সম্প্রতি বিজ্ঞানিরা আবিষ্কার করেছেন, সময় যত কাছে আসছে, ছেলে ও মেয়েরা তত তাড়াতাড়ি বয়ঃপ্রাপ্ত হচ্ছে। কয়েক বছর আগে, জার্মান বিজ্ঞানিরা এক গবেষণায় বলেছে, ১৮৬০ সালে মেয়েরা বয়ঃপ্রাপ্ত হতো ১৬.৬ বছর বয়সে, ১৯২০ সালে তা নেমে আসে ১৪.৬ বছর বয়সে, ১৯৫০ সালে তা হয় ১৩.১ বছর বয়স, ১৯৮০ সালে তা আরো নেমে দাড়ায় ১২.৫ বছর বয়স, এবং ২০১০ সালে তা দাড়িয়েছে ১০.৫ বছর বয়সে এবং সূত্রমতে ২০১৮ সালে এই বয়স ৯ এর ঘরে নেমে এসেছে (যঃঃঢ়ং://রং.মফ/ঘঋগু৬ু) । সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সম্মানিত বাল্যবিবাহের ফলে মায়ের স্বাস্থ্যগত ঝুকির প্রচারণাও মূলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী এনজিও, নারীবাদীদের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা।
বক্তারা বলেন, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজ নামধারী নারীবাদী তথা কথিত প্রগতিবাদীদের দৃষ্টিতে ১৮ বছরের আগে কেউ বিচার, বুদ্ধি-বিবেচনাবোধসম্পন্ন হতে পারে না। অথচ নারীবাদীদের পৃষ্ঠপোষক ইউরোপ-আমেরিকার বহু দেশেই ১৮ বছরের নীচে বিয়ে দেয়া ও করা সম্পুর্ণ বৈধ এবং তারা বিচার, বুদ্ধি-বিবেচনাবোধসম্পন্ন হিসেবে স্বীকৃত। এক্ষেত্রে তারা আপত্তি জানাতে ব্যর্থ।
বক্তারা বলেন, নারীবাদীদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলো ১৬ বা ১৮ বছর বয়সের নীচে বিবাহকে শুধুই যে অনুমতি দিচ্ছে তাই নয় বরং অবৈধ কুমারী মাতাকেও স্বীকৃতি দিচ্ছে। তাদের অবৈধ সন্তানের ভরণ-পোষণও করছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘চাইল্ড ট্রেন্ড’র সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ জরিপ অনুযায়ী নারীবাদীদের পৃষ্ঠপোষক আমেরিকায় ২০০৯ সালে কুমারী মায়ের সংখ্যা ছিল ৪১ শতাংশ। গত ৫ দশকে অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী কুমারী মায়ের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। তাছাড়া ইউএস সেন্টার ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের সমীক্ষা অনুযায়ী আমেরিকায় প্রতি সপ্তাহে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিশোরী মা হচ্ছে। সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিজের (সিএসজে) গবেষণায় দেখা গেছে ব্রিটেনে, ৪৬ শতাংশ শিশু জন্ম নেয় কুমারী মায়ের গর্ভে। ২০১৭ সালে আমেরিকায় ২  লাখের বেশী বাল্যবিবাহ হয়েছে যাদের বয়স ১৫ বছরের নীচে। অথচ এসব দেশের বিরুদ্ধে তথাকথিত নারীবাদীদের প্রতিবাদ নেই। কুমারী মাতা নামক এসব অবৈধ সর্ম্পকের প্রতিকারে জাতিসংঘে তাদের কোন আবেদন নিবেদনও নেই। বরং বাংলাদেশের মতো মুসলমান দেশগুলোতেই তাদের সব অপতৎপরতা।
বক্তারা বলেন,  বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী বিবাহের ক্ষেত্রে, ছেলের ২১ ও মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে আইন অনুযায়ী তা বাল্যবিবাহ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য। এক্ষত্রে বিবাহকারী, বিয়ে পরিচালনাকারী ও অভিভাবককে ২ বছর কারাদ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ)
 অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে করার ও বিয়ে দেয়ার জন্য কোনো বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ ৫, ১০, ১৫ ইত্যাদি বছরের কমে অথবা ৪০, ৬০, ৮০ ইত্যাদি বছরের চেয়ে বেশি বয়সে বিয়ে করা যাবে বা যাবে না- এমন কোনো শর্ত-শারায়িত সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে উল্লেখ নেই।
বক্তারা বলেন, স্বয়ং বঙ্গবন্ধু দশ বছর বয়সে তিন বছর বয়সী বঙ্গমাতা ফযীলাতুন্নেছাকে বিয়ে করেছেন। যা বঙ্গবন্ধুর ৯৫ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স¦রচিত লিখনীতেও রয়েছে। বাল্যবিবাহ সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে রয়েছে বলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পিতা-মাতা বাল্যবিবাহ করেছেন।
সুতরাং ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনকে ঘষেমেঝে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ নামক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী কালো আইন এদেশের মুসলমানদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি ছেলে-মেয়ের বিয়ের নুন্যতম বয়স নির্দিষ্ট নয় বরং ছেলে বা মেয়ে যখন বিয়ের উপযুক্ত হবে তখন বিয়েতে সব ধরনের সহযোগীতা সরকারকে করতে হবে।
বক্তারা বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীস শরীফ উনাদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ সালে প্রণীত আইনে এদেশে কোনো মেয়ের বিয়ে বসা বা বিয়ে দেয়ার জন্য কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আইন বা শর্ত করে দেয় এবং ১৮ বছর বয়সের নিচে কোনো মেয়েকে বিয়ে দেয়া, বিয়ে করা বা কোনো মেয়ের জন্য বিয়ে বসা দ-নীয় অপরাধ বলে সাব্যস্ত করেছে। অথচ তাদের দেশে অনুমতি সাপেক্ষে ১৬ বছরে বিয়ের অনুমতি দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বিবাহ বা বাল্যবিবাহ নিয়ে এদেশের জনগণ বা সরকারের কোন মাথাব্যথা না থাকলেও পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী পশ্চিমা এনজিওগুলোর মাথাব্যথা বেশী। বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসংখ্যা হ্রাসে তারা কথিত সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবি, মিডিয়া, সরকারের কর্তাব্যক্তিদের পেছনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। সভা সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে নিয়ে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলাচ্ছে, মিডিয়ায় লিখাচ্ছে। প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিনিময়ে নগদ খাম ধরিয়ে দিচ্ছে। দেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক বন্ধন ধ্বংস, এইডস ছড়ানো, জনসংখ্যা হ্রাস, দেশদ্রোহী হাজারো তৎপরতার সাথে জড়িত এসব এনজিও। এসবের মধ্যে রয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা টেরেডেস হোমস নেদারল্যান্ডস, নিউইয়র্ক ভিত্তিক প্রোটেকটিং হিউম্যান রাইটস (পিএইচআর), যুক্তরাজ্যভিত্তিক সেভ দ্য চিলড্রেন, ইহুদী স্বার্থ সংরক্ষণকারী ইউনিসেফ, কুখ্যাত ইহুদী জর্জ সরোসের অর্থায়নে পরিচালিত ব্র্যাক। বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ এবং দেশ ও মুসলিম বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত এসব এনজিওদের নিষিদ্ধ করতে হবে। অবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ নামক কুফরী আইন প্রত্যাহার করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবমাননার কারণে তাদেরকে মৃত্যুদ- দিতে হবে।
(৪) মুুসলমানদের সবচেয়ে বড় ঈদ আসন্ন পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষ্যে দেশের সকল মুসলমান কর্মচারীদের বোনাস দিতে হবে। কুফরী বৈশাখী ভাতা মুসলমানদের প্রয়োজন নেই। মাসব্যাপী ছুটি দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, পহেলা বৈশাখের উৎসব মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পহেলা বৈশাখ মুসলমানদের ঈদ নয়। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ঈদ সাইয়্যিদে ঈদে আযম সাইয়্যিদে ঈদে আকবর মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ। কাজেই যেখানে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম দ্বীন ইসলাম সেখানে মুসলমানদের পহেলা বৈশাখের বোনাস বাদ দিয়ে মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ উপলক্ষ্য্যে বোনাস দেয়া উচিত। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে নববর্ষ উদযাপন ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের সকল মুসলমান কর্মচারীকে নববর্ষের পরিবর্তে পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে বোনাস প্রদান করতে হবে।
(৫) ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে কখনো যানজট নিরসন হবে না। বরং ঢাকার পরিবর্তে জেলা পর্যায়ে অফিস-আদালত, গার্মেণ্টস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রতিটি জেলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অচল শহর হওয়া থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে রাজধানী ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, ঢাকা পরিণত হয়েছে দেশবাসীর প্রধান গন্তব্যস্থলে। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে ঢাকাকে কেন্দ্র করে। অতিরিক্ত চাপ সইতে না পেরে ঢাকা অচল শহর হতে চলেছে ঢাকা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঢাকা শহরের বিকেন্দ্রীকরণ-এর কোন বিকল্প নেই।
বক্তারা বলেন, গবেষণায় এসেছে, সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০টিই ঢাকায়। ৩৮টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ৩২টিই এ ঢাকা মহানগরীতে। শুধু সংখ্যার বিচারেই নয়, মানের দিক থেকেও দেশের সেরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এ শহরটিতে কেন্দ্রীভূত। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (মে, ২০০৯) তথ্য অনুযায়ী, ৬টি বিভাগে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ১ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এরমধ্যে ৩০ লাখ ৩০ হাজার (২৮ শতাংশ) শিক্ষার্থী শুধু ঢাকা বিভাগেই। এর বড় অংশটি ঢাকা শহরে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের চরম ভারসাম্যহীন অবস্থার এটিই বাস্তবচিত্র।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কর্তৃক ‘দ্য গ্লোবাল লিভেবিলিটি রিপোর্ট ২০১৭’ ১৪০টি শহরের রাজধানী ঢাকা ৩৮ দশমিক ৭০ স্কোর নিয়ে বিশ্বের বাস-অযোগ্য শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ঢাকায় বর্তমানে ২ কোটি লোকের বসবাস। ১৯৮০ সালে ঢাকায় ৩০ লাখ লোকের বসবাস ছিল। এর মধ্যে ৩৫ লাখ মানুষ বস্তিতে বসবাস করে। ২০৩৫ সালে ঢাকায় মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৫ মিলিয়ন হবে। ১০ বছর আগে ঢাকার গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার, আর বর্তমানে তা প্রায় ৪ কিলোমিটারে নেমে আসছে। মানুষের হাঁটার গতির মান ঘণ্টায় গড়ে পাঁচ কিলোমিটারের মতো। সবমিলিয়ে অচল শহরে পরিণত হতে চলেছে ঢাকা। এ থেকে পরিত্রাণে অবিলম্বে ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণের কোনই বিকল্প নেই। প্রতিটি জেলার সুষম উন্নয়ন করতে গেলেও বিকেন্দ্রীকরণের ছাড়া কোন উপায় নেই। অবিলম্বে ঢাকা শহরের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
(৬) পার্বত্য বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দালাল, সরকার ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনাকারী শহিদুল দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় শাস্তি দিতে হবে। দেশদ্রোহী সুলতানা কামাল চক্রবর্তী, মেজবাহ কামালসহ অন্যান্য চিহ্নিত সি এইচ টি কমিশনের দালালদের গ্রেফতার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, কুখ্যাত দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে গ্রেফতারের পর দেশে ও বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন হচ্ছে। তার মুক্তি দাবি করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় শহীদুল দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বিদেশী অপশক্তির দালাল। বিদেশীরা তার মাধ্যমে দেশ বিরোধী কাজ করাতে চেয়েছিল। তার গ্রেফতারে দেশ ভয়াবহ ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পেয়েছে। শহীদুলের মতো দেশদ্রোহীরা দেশের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে লিপ্ত। এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ ও বাঙ্গালী বিরোধী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্নতাবাদে চক্রান্তে জড়িত সুলতানা কামাল চক্রবর্তী, ঢাবি অধ্যাপক মেজবাহ কামালসহ সিএইচটি কমিশন সদস্যরা। এছাড়া রয়েছে কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী ইহুদী জর্জ সরোজের ফান্ডে পরিচালিত সুদখোর ইউনুস, ফযলে হাসান আবেদরা। দেশের বিরুদ্ধে কলকাটি নাড়ানো এসকল ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।
(৭) পবিত্র দ্বীন ইসলাম অবমাননাকর “জান্নাত” নামক সিনেমা নিষিদ্ধ এর প্রযোজক-পরিচালক, নায়ক-নায়িকাদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
বক্তারা বলেন, ৯৮ ভাগ মুসলমানের দেশে মুসলমানদের স্পর্শকাতর ধর্মীয় অনুভূতি সম্পন্ন “জান্নাত” নামক সিনেমা তৈরী করে অমার্জনীয় গর্হিত অপরাধ করেছে এস এস মাল্টিমিডিয়া। এর আগে জাজ মাল্টিমিডিয়াও দ্বীন ইসলামে উনার বিরুদ্ধে অবমাননাকর সিনেমা তৈরী করেছে। ইনুর চক্রান্তে বাংলাদেশ ভারত যৌথ সিনেমা চালুর পর থেকে দ্বীন ইসলামে উনার বিরুদ্ধে অবমাননাকর সিনেমা তৈরী হচ্ছে। এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষীদের যেকোন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। সারাদেশে এই কুখ্যাত সিনেমা অবিলম্বে বন্ধ না করলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি এর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক এবং নায়ক-নায়িকা সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহি’কে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
(৮) নাস্তিকরা আবারো মাথাচাড়া দিচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ড করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার  ষড়যন্ত্র করছে। আসাদ নূরসহ অন্যান্য সকল সকল নাস্তিকদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।
বক্তারা বলেন, নাস্তিকরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিকদের মুক্তমনা ব্লগ, ইষ্টিশন ব্লগ, ধর্মকারী ব্লগগুলো এদেশে এখনো তীব্র ইসলামবিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। গণজাগরণ মঞ্চের কুখ্যাত নাস্তিক ‘মাহমুদুল হক চরম ইসলামবিদ্বেষী আইডি নয়ন সাহা, সুষুপ্ত পাঠক, জুলিয়াস সিজার, জ ই মামুন, রাজেশ পাল, সুপ্রীতি ধর’রা এদেশে তীব্র সাম্প্রদায়িক উস্কানী ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। গত ৭ অক্টেবরও সুপ্রীতি ধর বাথরুমে রেখে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননা করার কথা বলেছে। অথচ পুলিশ, র‌্যাব, বিটিআরসি তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেয়নি, কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণদের ক্ষেপিয়ে দেয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! পুলিশ, র‌্যাব, বিটিআরসি সবাই নীরব ভূমিকা পালন করছে।
দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী ধরলেও আবার ছেড়ে দেয়ায় তারা ছাড়া পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নাস্তিক গড ফাদার আসিফ মাহিউদ্দিন তসলিমা নাসরিনরা দেশের বাহিরে থেকে আরো বেশী পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি নাস্তিক আসাদ নুরকে জামিন দেয়ায় নাস্তিকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আসন্ন নির্বাচনের আগ মুহুর্তে দেশে পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষ ছড়িয়ে ৫মে’র মতো দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। অবিলম্বে আসাদ নূরসহ অন্যান্য সকল নাস্তিকদের গ্রেফতার করে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।
(৯) পবিত্র আশুরা শরীফে উপলক্ষ্যে কমপক্ষে ৩ দিন ছুটি দিতে হবে। সারাদেশে ব্যাপক সমারোহে সব স্কুল কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারী-বেসরকারী সব প্রতিষ্ঠানে পবিত্র আশুরা শরীফ পালনের ব্যবস্থা নিতে হবে পাশপাশি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফযীলত ও মর্যাদা মুবারক সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
বক্তারা বলেন, পবিত্র মুহররম মাসের দশ তারিখ অর্থাৎ ১০ই মুহররম “আশুরা” দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয় এই দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনেই। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এ দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এ দিনেই সংঘটিত হয়। তাছাড়া পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক হৃদয়বিদারক ঘটনা এদিনেই সংঘঠিত হয়েছে। ৬১ হিজরী সনের এ দিনে মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যমণি সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারবালার প্রান্তরে সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
বক্তারা বলেন, পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে “তোমরা মুহররম মাসকে এবং এর মধ্যস্থিত আশুরার দিনকে সম্মান করো। যে ব্যক্তি মুহররমুল হারাম মাসকে তথা আশুরার দিনকে সম্মান করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
বক্তারা বলেন, সঙ্গতকারণেই এ দিনটি সবার জন্য এক মহান আনুষ্ঠানিকতা বা আমলের দিন। সাথে সাথে রহমত, বরকত, সাকীনা, ফযীলত ও মাগফিরাত হাছিল করার দিন। তাই সারাদেশে ব্যাপক সমারোহে সব স্কুল কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারী-বেসরকারী সব প্রতিষ্ঠানে পবিত্র আশুরা শরীফ পালনের ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩দিন ছুটি দিতে হবে। পাশপাশি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফযীলত ও মর্যাদা সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
(১০) ‘দেশ চালাচ্ছে- র’ এই প্রচারণার সমুচিত জবাব দিতে হবে। ‘ভারতের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি’র প্রচারণার সমুচিত জবাব দিতে হবে। বাংলাদেশ ভারতকে উজার করে সব দিচ্ছে এই প্রচার বিপরীতে তথ্য তৈরী করতে হবে। ‘আওয়ামী লীগ ভারতের কথায় উঠে বসে’ এবং ‘ভারতই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখেছে’- মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এসব কথার শক্ত জবাব দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধেরপক্ষের সরকারের বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা সব সময় সরকারের দোষ ধরতে ব্যস্ত সরকারের ভাল কর্মকান্ডও তাদের পছন্দ হয় না। দেশের জিডিপি’র উন্নতি, কর্মসংস্থান, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া ইত্যাদি অনেক ভাল কাজ থাকলেও তারা সরকারের সমালোচনা করে থাকে। তারা ‘দেশ চালাচ্ছে- র’। ‘ভারতের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নতজানু’। ‘বাংলাদেশ ভারতকে উজার করে সব দিচ্ছে’। ‘আওয়ামী লীগ ভারতের কথায় উঠে বসে’ এবং ‘ভারতই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখেছে’ ইত্যকার আজগুবী অপপ্রচার করে জনগণকে আওয়ামী লীগ বিমুখ করতে চায়। আওয়ামী লীগের নামে এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
(১১) দ্বীন ইসলাম উনার নাম বা দোহাই দেয়া নিষিদ্ধ করতে হবে। দ্বীন ইসলাম উনার নামধারী রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
বক্তারা বলেন, দ্বীন ইসলাম উনার নাম ধারণ করে অনৈসলামিক কাজ করছে বিভিন্ন ইসলামী দলগুলো। দ্বীন ইসলামের দোহাই দিয়ে ভোট চাইছে। নিজের দলকে ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া যাবে বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! উল্লেখ্য ওলামা লীগ ইসলামের নাম ব্যবহার করে না। ‘ইসলামী ওলামী লীগ’ দাবী করে না। কিন্তু ওলামা লীগ পবিত্র দ্বীন ইসলামের কথা বলে। যারা মুখে দ্বীন ইসলাম বলে আর কাজ করে ধর্মব্যবসায়ীদের মতো, এসকল ভোট ব্যবসায়ী ধর্ম ব্যবসায়ী দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।
(১২) আজিমুশ্বান মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ, পবিত্র শবে বরাত, পবিত্র মীলাদ শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ এবং পবিত্র মাজার শরীফ জিয়ারত উনাদের বিরোধীতাকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহী আইনে গ্রেফতার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, পবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ পালন করার জন্য স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আদেশ মুবারক করেছেন। যা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে পালন করেছেন, হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও পালন করেছেন হযরত আউলিয়ায়ে ক্বিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও পালন করেছেন। এদেশে সরকারীভাবে সর্বপ্রথম সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ ও পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ প্রচলন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে। এ যাবত কাল পর্যন্ত সরকারীভাবে প্রতিবছর সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ পালিত হয়ে আসছে। সেই পবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ এবং পবিত্র মীলাদ এবং পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ উনার বিরোধীতা করে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দুশমন হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে প্রমাণ করেছে ওহাবী-সালাফী গোষ্ঠী। পবিত্র শবে বরাত, পবিত্র মীলাদ শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ এবং পবিত্র মাজার শরীফ জিয়ারত  ইত্যাদি আমলেরও বিরোধীতা করছে ওহাবী-সালাফী-আইএস গোষ্ঠী। এসব নেক আমলের বিরোধীতার মাধ্যমে এক দিকে তারা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী অন্যদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত আমলগুলোর বিরোধীতা করার কারণে রাষ্ট্রদ্রোহী। অবিলম্বে এসব ওহাবী-সালাফী-আইএস সন্ত্রাসীদের রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে গ্রেফতার করতে হবে।
(১৩) ভারতীয় আদালত সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়ায় উল্লাস প্রকাশ এবং বাংলাদেশেও প্রচলনের দাবী করেছে বাংলাদেশের অঞ্জন রায় সহ উগ্র গয়েশ্বর মার্কা হিন্দুরা। আইনত নিষিদ্ধ সমকামিতা প্রচলনের দাবী করায় অবিলম্বে অঞ্জন রায়সহ সকল সমকামীদের গ্রেফতার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে সমকামিতা সুস্পষ্ট হারাম। দ্বীন ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হারাম একটি বিষয়কে এদেশে ভালবাসার স্বাধীনতা’র নামে ছড়িয়ে দেওয়ার অপপ্রয়াস চালানো হলেও প্রশাসন বাঁধা দিচ্ছে না বিষয়টি রহস্যজনক। গত ৭ সেপ্টেম্বর একুশে টিভির সাংবাদিক অঞ্জন রায় তার ফেসবুক ষ্ট্যাটাসে ভারতের মতো বাংলাদেশে সমকাম চালু করার কথা বলেছে। কিন্তু এই সমকামী অঞ্জন রায়কে গ্রেফতার করা হয়নি। বাংলাদেশে আইনত সমকামী হওয়া নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ সমকামিতা প্রচলনের দাবী করায় অবিলম্বে অঞ্জন রায়সহ সকল সমকামীদের গ্রেফতার করতে হবে।
(১৪) মুসলিম এমপি বাদ দিয়ে ভারতীয় সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আরএসএস’ এর এজেন্ট উগ্র হিন্দুদের আসন্ন নির্বাচনে অধিক হারে মানোনয়ন দিয়ে দেশে সাম্প্র্রদায়িক সন্ত্রাস লাগানোর বিএনপি’র গয়েশ্বরদের চক্রান্ত এদেশবাসী মুসলমানরা মেনে নিবে না। যারা মুসলিমদের বাদ দিয়ে উগ্র হিন্দু এমপি অধিক হারে মনোনয়ন দিবে তাদের আগামী ভোটে বয়কটের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক চক্রান্ত প্রতিহত করবে মুসলমানরা।
বক্তারা বলেন, মুসলিম এমপি বাদ দিয়ে ভারতীয় সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আরএসএস’ এর এজেন্ট উগ্র হিন্দুদের আসন্ন নির্বাচনে অধিক হারে মানোনয়ন দিয়ে দেশে সাম্প্র্রদায়িক সন্ত্রাস লাগানোর চক্রান্ত করছে বিএনপি’র গয়েশ্বররা। মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করতে ভারতের সন্ত্রাসী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) অপতৎপরতা চালাচ্ছে। সন্ত্রাসী সংগঠন আরএসএস ৩০ শতাংশ হিন্দু এমপি মনোনয়ন দেয়ার এমপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে ঢুকানোর জন্য দেনদরবার করছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নালিশকারী আরএসএস এজেন্ট রানা দাশগং এই অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে। আরএসএস এর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে বিএনপি’র গয়েশ্বরগং।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে অবস্থান করে ইতিমধ্যে এদেশে গরু কোরবানী নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্টান নামের সাম্প্রদায়িক পরিষদ। এসব মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দু এমপি হলে ভারতের মতো বাংলাদেশেও গরু কোরবানী করলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে মুসলমানদের পিঠিয়ে হত্যা করবে। জাতিগত দাঙ্গা লাগিয়ে মুসলিমদের পাকিস্থান যেতে বলবে। গয়েশ্বর, সুনীল শুভ, পংকজদের চক্রান্ত রুখে দেয়া হবে। তাদের চক্রান্ত এদেশবাসী মুসলমানরা মেনে নিবে না। যারা মুসলিমদের বাদ দিয়ে উগ্র হিন্দু এমপি অধিক হারে মনোনয়ন দিবে তাদের আগামী ভোটে বয়কটের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক চক্রান্ত প্রতিহত করবে মুসলমানরা।
সমাবেশ ও মানবন্ধনে সমন্বয় করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি- পীরজাদা, পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান বিপ্লবী জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল)। বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সহ সভাপতি- মাওলানা মুহম্মদ শোয়েব আহমেদ গোপালগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক- হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফেয়ী সভাপতি বাংলাদেশ ফেৎনা প্রতিরোধ কমিটি, লায়ন আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ মুজিবুর রহমান আল মাদানী, হাফেজ ক্বারী মুহম্মদ শাহ আলম ফরাজী, হাফেজ মুহম্মদ আব্দুল বারী, কারী মাওলানা মুহম্মদ আসাদুজ্জামান আল কাদেরী, আলহাজ মুহম্মদ খোরশেদ আলম রেজভী, হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আল আমীন, আলহাজ্জ মাওলানা রফিকুল ইসলাম সিদ্দীকি আল কুরাইশি, হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক, মুহম্মদ গরীব মাহাবুব (রুপগঞ্জ), অধ্যাপক কাজী মাওলানা মুহম্মদ নোমান চৌধুরী, হাফেয মাওলানা মুহম্মদ খালেদ হাসান (মির্জাগঞ্জ), মৌলভী মুহম্মদ মোকাম্মেল হুসাইন, মাওলানা মুহম্মদ ইকরাম ফারুক (মির্জাপুর), মাওলানা শেখ মুহম্মদ আলী নূর- সভাপতি শ্রীনগর উপজেলা ওলামা লীগ, মাওলানা মুহম্মদ আব্দুর রব-সা:সম্পাদক শ্রীনগর উপজেলা ওলামা লীগ, মাওলানা মুহম্মদ মাহবুব আলম, মাওলানা মুহম্মদ জয়নাল আবেদীন, মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সুবহান, মাওলানা মুহম্মদ মুখতারুজ্জামান আশরাফী, মাওলানা মুহম্মদ আবুল বাশার (নাগরপুর), হাফেয মাওলানা মুহম্মদ এনামুল হক, হাফেয মাওলানা মুহম্মদ কাজী মুহম্মদ শাহীন মক্কি, মাওলানা মুহম্মদ আব্দুল কাদের, হাজী মুহম্মদ শাহাবুদ্দীন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার। মিছিল শেষে শহীদ বঙ্গবন্ধু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহের মাগফিরাত কামনা করে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াতে তৈয়বার জন্য দোয়া মোনাজাত করেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।
বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩ দলের পক্ষে-
 (আলহাজ্ব কাজী মাওলানা মো: আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী)
সাধারণ সম্পাদক-
বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি
Facebook Comments