ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ১৩ নভেম্বর ২০১৯

ইমরান খান ই হচ্ছেন পাকিস্তানের পরবর্তি প্রধানমন্ত্রি

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ভোটগণনা যত এগোচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী হবার জন্য ইমরান খানের পথ ততোই পরিস্কার হচ্ছে। যদিও সামনে হঠাৎ বাধা হয়ে দাঁড়ায় নীরবতা। থমকে যায় গণনার ফলাফল।

পাকিস্তানের চ্যানেল জিও টিভির শেষ আপডেট অনুযায়ী, পিটিআই ১২০, পিএমএল-এন ৬১ এবং পিপিপি ৪০। পাশাপাশি সব পরিসংখ্যানেই এটা নিশ্চিত দেখা যাচ্ছে, ভোটের ময়দানেও সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন ‘কাপ্তান’ ইমরান।

শেষ পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য ১৩৭ এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারলেও বিলাবল জারদারির পিপিপির সঙ্গে জোটের রাস্তাও প্রায় চূড়ান্ত। ফলে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

এদিকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধী মেটাতে উদ্যোগ নিতে চান বলে জানিয়েছেন ইমরান খান।

নির্বাচনের ফলাফলে এগিয়ে থাকা দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকালে তার বিজয় ভাষণে এমন মন্তব্য করেছেন।

শুরুতেই তিনি জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে।

তবে পিটিআই ছাড়া বাকি সব দলই কারচুপির অভিযোগে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনের প্রাথমিক বেসরকারি ফলে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান ইমরান খানের পিটিআই পেয়েছে ১১১টি আসন এবং নওয়াজের পিএমএল-এন পেয়েছে ৬৫টি আসন।

এ ছাড়া বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে ৪৩টি, এমকিউএম ৫টি এবং এমএমএ ৯টি আসন লাভ করেছে। পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করবে।

তবে ইমরান খান আলোচনার কথা বললেও তাকে নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ভারত। পাকিস্তানে তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার গঠন করছে এবং ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হলে ভারত ও মোদি সরকারের জন্য ৮টি সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতের আশঙ্কা, ইমরানের পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সমর্থন। তিনি সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়েই সরকার চালাবেন। ফলে জনমতের চেয়ে সেনা মত গুরুত্ব পেতে পারে। এতে পাকিস্তান সরকার আগের চেয়ে বেশি ভারতবিদ্বেষী হতে পারে।

কাশ্মীরে স্বাধীনতাকর্মীদের পাকিস্তান সমর্থন দিয়ে থাকে বলে দীর্ঘদিন অভিযোগ করে আসছে ভারত। ইমরান খান পাকিস্তান কাশ্মীর উপহার দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে। এটি নিয়ে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি অবস্থানে চলে যেতে পারে বা বড় কোনো ঘটনা ঘটতে পারে।

আফগানিস্তানের ভারতবিদ্বেষী তালিবানদের পাকিস্তান সমর্থন দিয়ে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে ভারতের। ইমরান খান তালিবানদের মধ্যে ভারতবিদ্বেষীদের মদদ দিতে পারে বলে শঙ্কিত।

ভারতকে অস্থিতিশীল করতে বা জম্মু-কাশ্মীর এলাকা থেকে ভারতকে হটাতে স্থানীয়দের মদদ দিয়ে অস্ত্র সরবাহ করতে পারে ইমরান খান। এটি নিয়েই বেশি ভাবনায় আছে ভারত।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা বন্ধের পর থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ রয়েছে। এক্ষেত্রে দেশটির যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে পারে। ফলে চীন-পাকিস্তান ঐক্য হলে ভারতের জন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পাকিস্তানের বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সেনাবাহিনী ও ইমরান খানের সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সরকারের ভেতরেই পাকিস্তান বিদ্বেষ বাড়বে এবং ইসলামি সংগঠনগুলো এক্ষেত্রে সরকারকে প্রভাবিত করবে।

নির্বাচনের আগে ইমরান খান নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তার মধ্যে একটি ছিল নওয়াজ শরীফ ভারতঘেঁষা নীতি অনুসরণ করেছেন। ইমরান ওই নীতি থেকে বেরিয়ে আসবেন। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

পাকিস্তানে ইতিপূর্বে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের সঙ্গে ভারতের অনেকের বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু ইমরান খানের সঙ্গে ভারতের রাজনীতিবিদদের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে ইমরানের সঙ্গে ভারতের কোনো বিষয় আলোচনা বা সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

Facebook Comments