ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ১৪ নভেম্বর ২০১৯

বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গুতুম মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উত্পাদনে সফলতা অর্জন

দেশে প্রথমবারের মতো বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গুতুম মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উত্পাদনে সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্বাদুপানি উপকেন্দ্র সৈয়দপুর। চাষি পর্যায়ে এখন থেকেই রেণু সরবরাহ সম্ভব হলে পোনা সরবরাহ করতে পাঁচ/ছয় মাস সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর আগে গুতুম মাছের কৃত্রিম   প্রজননে প্রাথমিক সফলতা অর্জন করেছিল। এখন চূড়ান্ত সফলতা পেয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ মাছটির কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উত্পাদন সম্ভব হওয়ায় দেশের মত্স্য খাতে এটি তাত্পর্যপূর্ণ অবদান রাখবে। দেশের মানুষের খাদ্য তালিকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মাছটি আবারো যুক্ত হবে বলে তিনি জানান।
নদীতে বানা দিয়ে মাছ ধরা ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা এবং চৈত্র মাসে নদী ও জলাশয়ে জমে থাকা পানি সেচে মাছ ধরা, কৃষি জমি এবং জলাশয়গুলোতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার কারণে এসব দেশি মাছ দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএফআরআই স্বাদুপানি উপকেন্দ্র সৈয়দপুর গুতুম মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উত্পাদন গবেষণায় এ সফলতা অর্জন করলো।
বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতায় স্বাদুপানি উপকেন্দ্র সৈয়দপুর ব্রুড প্রতিপালন পুকুর থেকে সুস্থ সবল গুতুম মাছ সংগ্রহ করে হ্যাচারিতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নির্দিষ্ট মাত্রায় হরমোন প্রয়োগ করে ১২ স্ত্রী মাছ হতে প্রায় ৫০ হাজার রেণু পোনা উত্পাদনে সক্ষম হয়েছে। সৈয়দপুর উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীগণ জানান, মাছটি ছোট আকারের হলেও ডিম ধারণক্ষমতা অনেক। প্রাথমিক গবেষণায় ১০ হাজার থেকে ২২ হাজার ডিম পাওয়া গেছে। কাজেই উক্ত সাফল্য মাছটির প্রাচুর্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
Facebook Comments