ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ৩০ মার্চ ২০২০

ইসলাম গ্রহণের ১ মাস পরই কারারক্ষীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে কর্মরত কারা ফটকের ভেতরে এক নওমুসলিম কারারক্ষীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কারারক্ষী আমজাদ হোসেনের পূর্বের নাম ছিল ধৈর্য্য দাস। গত ১০ এপ্রিল সে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে। তার মুসলিম নাম রাখা হয় মুহম্মদ আমজাদ হোসেন। ওই দিন সে তার নারী সহকর্মী সাজেদা ইয়াসমিনকে ইসলাম ধর্মমতে বিয়ে করেন। জেলা কারাগারের ভেতরে জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের উপস্থিতিতে নতুন ধর্ম গ্রহণ ও বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। জেলা কারাগার সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নিহত আমজাদ হোসেন সূর্য্য (২৬) সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার গিলাতলা গ্রামের দীপন্দ্রে দাসের ছেলে।

শুক্রবার বিকালে কারা ফটকের ভেতরে নিজ কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে আত্মহত্যা করেছে তার সঠিক কারণ জানা যায়নি।

জেলা কারাগার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর স্ত্রী সাজেদার সঙ্গে তার সুন্দরভাবে সংসার চললেও তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তার বাবা-মা তার ধর্ম ত্যাগ ও বিয়ের বিষয়টি মেনে নেননি। এ নিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তার টানাপোড়েন চলছিল।

শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে তার স্ত্রী রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় আমজাদ হোসেন তার কক্ষে অবস্থান করছিল। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার কক্ষের দরজা লাগানো দেখে স্ত্রী সাজেদা ডাকাডাকি করলেও দরজা না খোলায় তার সন্দেহ হয়। এ সময় আশাপাশ রুমের সহকর্মীদের ডাক দিলে তারা দরজা ভেঙে আমজাদ হোসেনকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটি কারা কর্তৃপক্ষ ও সদর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।

এ ব্যাপারে জেল সুপার মো. আবুল কালাম যুগান্তরকে বলেন, ‘বিকালে খবর পেয়ে দেখি কারারক্ষী আমজাদ হোসেন ধৈর্য্য তার নিজ কক্ষে আত্মহত্যা করেছে। সে ৭-৮ মাস আগে সুনামগঞ্জ কারাগারে যোগদান করে। গত এপ্রিল মাসের ১০ তারিখ তার ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছে। তার সহকর্মী করারক্ষী সাজেদা ইয়াসমিনকে ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী বিয়ে করেছিল। তার বাড়িও সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়।

তিনি বলেন, কী কারণে আত্মহত্যা করেছে তা আমরা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। যতটুকু জানি, সাংসারিক জীবনে তারা সুখেই ছিল। তাদের পরিবারে কোনো অশান্তি ছিল বলে আমার জানা নেই। ’

সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মুহম্মদ শহীদল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে আমরা কারারক্ষী আমজাদ হোসেন ধৈর্য্যর লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে মানসিক চাপে এ রকম ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

Facebook Comments