ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার), ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

২০ জুমাদাল উখরা হযরত ফাতেমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বিলাদত শরীফ

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহিলাগণ উনাদের সাইয়্যিদাহ।’
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মূল ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্ত।

তাই প্রত্যেকের জন্য ফরয হচ্ছে, উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী বা জীবনী মুবারক জানা, উনাকে মুহব্বত ও অনুসরণ-অনুকরণ করা।
বিশেষ করে সমস্ত মহিলাদের জন্য ফরয হলো, উনাকে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করা।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বিশ্বের সকল মহিলাদের সাইয়্যিদাহ, তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার, হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমামছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদের সম্মানিতা মাতা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোশত মুবারক উনার টুকরা মুবারক এবং সর্বপ্রথম উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ৭ জন আওলাদ উনাদের মধ্যে তিনি হলেন ৭ম।

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিক নুবুওয়াত প্রকাশের ৩ বৎসর পূর্বে ২০ জুমাদাল উখরা শরীফ, ইয়াওমুল জুমুয়াতি বা জুমুয়াবার পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক ছিল ৩৭ বৎসর। যেমনিভাবে আবনাউ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কেউ জীবিত থাকেননি, তদ্রুপ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে ব্যতীত অন্য কোনো বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের থেকে কোনো বংশীয় ধারা জারি নেই। কেবল সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বংশ মুবারক উনার মুবারক ধারা চালু হয়েছে ও চালু রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
অল্প বয়স মুবারক হতেই তিনি সম্মানিত পিতা উনার খিদমত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন তায়েফ গমন করেন তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ-এ ছিলেন। তায়েফ হতে তিনি দুশমনদের আঘাতে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় ফিরে আসেন। সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি তখনো উনার সেবা শ্মশ্রুষা করেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র বদর জিহাদের পর দ্বিতীয় হিজরী যিলহজ্জ মাসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক উনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এ অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মোহর মুবারক ধার্য করেন ৫ শত দিরহাম। এ পরিমাণ মোহর বরকতময় বলে গণ্য করা হয়। যা ‘মহরে ফাতিমী’ বা ‘মহরে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম’ হিসেবে মশহুর। স্বামীগৃহে তুলে দেয়ার সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদিয়া হিসেবে দশটি জিনিস প্রদান করেন। শয়নের চৌকি মুবারক, দুইটি তোষক মুবারক, একটি চাদর মুবারক, পানির পাত্র মুবারক, মশক মুবারক, কলসি মুবারক, বদনী মুবারক, মাটির দুইটি পাত্র মুবারক, একটি কাঠের পেয়ালা মুবারক ও যাঁতা মুবারক। সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সহযাত্রী হিসেবে উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং বনী হাশিম ও আনছার মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাগণ উনারা সানন্দে বরের ঘর পর্যন্ত গমন করেন।
মুবারক বিবাহ উনার দশ মাস পর ১৫ই শাবান শরীফ ৩য় হিজরী হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। ৪র্থ হিজরী ৫ই শাবান হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। ৫ম হিজরীতে হযরত জয়নব আলাইহাস সালাম, ৬ষ্ঠ হিজরীতে হযরত রোকাইয়া আলাইহাস সালাম, ৭ম হিজরী সনে হযরত উম্মে কুলছুম আলাইহাস সালাম এবং ৯ম হিজরী সনে হযরত মুহসিন আলাইহিস সালাম উনারা পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন।
হিজরী ১১ সনের প্রথম দিকে অর্থাৎ পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অসুস্থতাকে গ্রহণ করেন এবং ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। এতে উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি জুদাইর কারণে চিন্তিত হয়ে পড়েন। এ জুদাই উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণের পরে মাত্র প্রায় ছয় মাস যমীনে ছিলেন। তিনি হিজরী ১১ সনে ৩রা রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ বাদ আছর পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। উনার জানাযার নামায হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি পড়ান। উনার রওজা শরীফ পবিত্র জান্নাতুল বাক্বীতে অবস্থিত।
মূলকথা হলো- সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মূল ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্ত। উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার মাস হচ্ছে ‘পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ’। অর্থাৎ তিনি এ পবিত্র মাসের ২০ তারিখ জুমুয়ার দিন সুবহে সাদিকের সময় পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। তাই প্রত্যেকের জন্য ফরয হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহে উমরী বা জীবনী মুবারক জানা, উনাকে মুহব্বত ও অনুসরণ-অনুকরণ করা। বিশেষ করে সমস্ত মহিলাদের জন্য ফরয হলো, উনাকে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন দুনিয়ার সমস্ত মহিলাগণকে সেই তাওফিক দান করেন।

 

Facebook Comments