ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার), ৩১ মে ২০২০

জোর করে কাউকে গম দেওয়া যাবে না : হাইকোর্ট

আর.এফ.এন নিউজ :

 জোর করে কাউকে গম দেওয়া যাবে না : হাইকোর্ট

ব্রাজিল থেকে আনা গম কাউকে জোর করে দেওয়া যাবে না এবং কেউ ফেরত দিতে চাইলে সরকারকে তা ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে গতকাল বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক এবং বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ইতিমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, আনসার, জেলখানা, বিভিন্ন ডিলার ও আটা কল ছাড়াও টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখাসহ (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) নানা কর্মসূচিতে বিতরণ করা ওই গম কেউ ফেরত দিতে চাইলে সরকারকে তা ফেরত নিতে হবে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। আদালতের আদেশের পর মাহবুবউদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, খাদ্য অধিদফতর ওই গম খাওয়ার উপযোগী বললেও তাতে কীট থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আদালত কাউকে জোর করে গম সরবরাহ করতে নিষেধ করেছেন এবং সরবরাহকৃত গম কেউ ফেরত দিতে চাইলে সরকার তা নিতে বাধ্য থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন। আদেশের পর ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, খাদ্য অধিদফতরের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত বলেছেন, গম, খাওয়ার উপযোগী নয়- এ কথা কোথাও বলা হয়নি। অর্থাৎ, ওই গম খাওয়ার উপযোগী। ব্রাজিল থেকে আমদানি করা চারশ কোটি টাকার গমের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন তদন্ত চেয়ে এই রিট করেন আইনজীবী পাভেল মিয়া। রিট আবেদনে গম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনও যুক্ত করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি করে ৩০ জুন হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন।
ওই গম মানুষের খাওয়ার উপযোগী কিনা, সে বিষয়ে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।
সে অনুযায়ী, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের পাঠানো প্রতিবেদন ৫ জুলাই আদালতে দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খাদ্য অধিদফতরের পরীক্ষাগারসহ বিভিন্ন পরীক্ষাগার থেকে পাওয়া সব রিপোর্ট মোতাবেক ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত আলোচ্য গম চুক্তিপত্রে উল্লেখিত নির্দেশ মোতাবেক গ্রহণীয় সীমার মধ্যে থাকায় মানুষের খাওয়ার উপযোগী বলে প্রত্যয়ন করা হলো।

Facebook Comments