ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ১৪ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশকে জড়িয়ে বক্তব্যের প্রতিবাদে ভারতীয় দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রদান

বাংলাদেশকে জড়িয়ে বক্তব্যের প্রতিবাদে ভারতীয় দূতাবাসে স্মারকলিপি প্রদান

“ভারতের সাথে ছায়াযুদ্ধের অংশ হিসেবে পাকিস্তান পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ থেকে পূর্ব ভারতের রাজ্য আসামে অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে” ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের এমন মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্টজনরা। এক প্রতিবাদপত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধানকে তার মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানানো হয়।
একই সাথে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের “আগামী ২০ বছরের মধ্যে দুই বাংলা এক হয়ে যাবে” এই মন্তব্যও প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়ে ভারতীয় দূতাবাসে আরেকটি স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদলিপি দুটি পাঠিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলম, সাংবাদিক সাইয়্যিদ মুক্তাদুল হুসাইন ও সাংবাদিক মুহম্মদ আরিফুর রহমান; বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট এস.এম.শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মুহম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামালীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কাজী মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, বিশিষ্ট ফার্মাসিস্ট এ.বি.এম.রুহুল হাসান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ মুহম্মদ আব্দুল আলী, বিশিষ্ট প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ আমিনুল ইসলাম মিয়া।

আজ দুপুর ১২:২০ ঘটিকায় স্মারকলিপি দুটি ভারতীয় দূতাবাসে প্রদান করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা সেলিনা।

ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের মন্তব্য প্রসঙ্গে স্মারকলিপিতে বলা হয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলমান সংকট ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের জনগণ কোনোভাবেই সেখানে কোনো তথাকথিত ছায়াযুদ্ধের অংশ নয়। বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এমন ভিত্তিহীন, একপেশে ও দায়িত্বহীন মন্তব্যে বাংলাদেশের জনগণের সাথে ভারতীয় জনগণের দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের কেবল ক্ষতিই হবে। এভাবে অন্য দেশের ঘাড়ে দোষ চাপানোটা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের সহজ পথ বলে স্মারকলিপিতে বলা হয়।

ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের কতিপয় রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তার বাংলাদেশকে দায়ী করে বক্তব্য দেয়ার প্রবণতাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকগণ।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াতের উল্লেখিত মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।

পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মন্তব্যের প্রতিবাদে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র আর পশ্চিমবঙ্গ আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্রের একটি প্রদেশ মাত্র। তাই পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশকে একত্রিত করার চিন্তাটি অমর্যাদাকর, অপমানজনক ও আপত্তিকর। এটা স্পষ্টভাবে জানা উচিত যে, ভারত বা অন্য কোনো দেশের কাছে বাংলাদেশের জনগণ কোনো অবস্থাতেই তাদের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব সমর্পণ করতে আগ্রহী নয়। পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রীর ওই দায়িত্বহীন মন্তব্যে বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদায় চরম আঘাত লেগেছে। এই ধরনের খামখেয়ালিপূর্ণ, উদ্ভট ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের দ্বারা বাংলাদেশের জনগণের সাথে ভারতীয় জনগণের দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের কেবল ক্ষতিই হবে বলে উল্লেখ করেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।

পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্য প্রত্যাহারপূর্বক ক্ষমা প্রার্থনার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।

Facebook Comments