ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার), ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

আগামী রবিবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

ঢাকা: উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে রোববার (২৩ জুলাই)। এদিন পৌনে ১২ লাখ পরীক্ষার্থী ফলাফল পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে সকালে ফলাফল হস্তান্তর করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এসময় বোর্ড চেয়ারম্যানরা উপস্থিত থাকবেন।

এরপর দুপুর ১টায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবেন।

গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার জানান, দুপুর দেড়টার সময় নিজ নিজ কেন্দ্র/প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট (www.dhakaeducationboard.gov.bd) কর্নারে ক্লিক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের EIIN এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করতে হবে।

এছাড়া www.educationboard.gov.bd ওয়েবসাইটে রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের EIIN এর মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ই-মেইলে কেন্দ্র/প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট শিটের সফট কপিও পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ফলের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলের হার্ডকপি সরবরাহ করা হবে না।

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ এপ্রিল। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ মে। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৬ মে শুরু হয়ে শেষ হয় ২৫ মে। আগামী ২৪ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষার শেষের ৬০ দিন পূর্ণ হবে।

এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেন।

চলতি বছর এইচএসসিতে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে নয় লাখ ৮২ হাজার ৭৮৩ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৯৯ হাজার ৩২০ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএম-এ ৯৬ হাজার ৯১৪ জন এবং ডিআইবিএসে চার হাজার ৬৬৯ জন পরীক্ষায় বসেন।

গত বছরের তুলনায় ৩৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্র ৪৫টি বাড়লেও পরীক্ষার্থী কমেছে ৩৪ হাজার ৯৪২ জন। গত বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন।

এবার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছয় লাখ ৩৫ হাজার ৬৯৭ জন এবং পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ জন ছাত্রী।

আট হাজার ৮৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুই হাজার ৪৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এবার বিদেশের সাতটি কেন্দ্রে ২৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

২০১২ সালে শুধু বাংলা প্রথমপত্রের সৃজনশীল বিষয়ে পরীক্ষা হলেও এবছর ২৬টি বিষয়ের ৫০টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এরমধ্যে এইচএসসিতে ৭২ দশমিক ৪৭ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৮৮ দশমিক ১৯ শতাংশ ও কারিগরিতে পাসের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৮ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী।

ইন্টারনেট ও মোবাইলে ফল

পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

আটটি সাধারণ বোর্ডের ক্ষেত্রে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

মাদরাসা বোর্ডের আলিমের ক্ষেত্রে ফল জানতে Alim লিখে স্পেস দিয়ে Mad (বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর) স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

এইচএসসি ভোকেশনালের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাবে আবেদনকারীরা।

পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৪-৩০ জুলাই

মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হবে ২৪ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। শুধুমাত্র টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল দিয়ে ফল যাচাই করার আবেদন করা যাবে।

আবেদন করতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে।

ফিরতি এসএমএস এ আবেদন ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে মেসেজ অপশনে গিয়ে আরএসসি লিখে স্পেস দিয়ে ইয়েস (yes) লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের ফোন নম্বর লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

যেসব বিষয়ে দু’টি পত্র (বাংলা ও ইংরেজি) রয়েছে সেসব বিষয়ে একটি বিষয় কোড (বাংলার জন্য ১০১, ইংরেজির জন্য ১০৭) এর বিপরীতে দু’টি পত্রের জন্য আবেদন হিসেবে গণ্য হবে এবং আবেদন ফি হিসেবে ৩০০ টাকা লাগবে। একই এসএমএসের মাধ্যমে একাধিক বিষয়ের জন্য আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে কমা দিয়ে দিয়ে লিখতে হবে।

Facebook Comments