ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ১৫ অক্টোবর ২০১৯

টুপি তৈরি করে লাক্ষোপতি

জেলার উলিপুর উপজেলার পাতিলাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, রঙবেরঙের কাপড়ে সুঁইয়ের ফোঁড়ে নারীরা ফুটিয়ে তুলছেন নানা রকম নকশা।

ওই গ্রামের মোর্শেদা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শোনালেন তার শুরু গল্পটা।

বছর পনের আগে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় মোর্শেদার বিয়ে হয় একই গ্রামের জোবেদ আলীর সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে চলে যান টাঙ্গাইলে। সেখানে এক তোয়ালে তৈরির কারখানায় কাজ নেন। সেটা ১৯৯৫ সালের কথা।

মোর্শেদা বলেন, “সে সময় প্রতিবেশী কমলা বেগমের টুপি তৈরির কাজ দেখে দেখে রপ্ত করি কলাকৌশল। প্রথম টুপি তৈরি করে মজুরি পাই ৩৫০ টাকা। তারপর একসময় গ্রামে ফিরে আসি।”

তার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে বেসরকারি সংস্থার এক কর্মকর্তা তাকে ৫০টি টুপির ফরমায়েশ দেন বলে তিনি মোর্শেদা।

এ কাজে ভালো লাভ হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এরপর আরও ফরমায়েশ পেয়ে দরিদ্রপীড়িত এলাকার বেকার নারীদের কাজের ব্যবস্থা করে মঙ্গা নিরসনের জন্য কাজ শুরু করেন।

“সংসারের কাজের ফাঁকে টুপি তৈরি করে যে আয় করা যায় – এটা বোঝাই গ্রামের নারীদের। তাদের প্রশিক্ষণ দিই আমার নিজের বাড়িতে। সাফল্যের গল্প শুনে দলে দলে নারীরা আসতে থাকে।”

এখন পাতিলা গ্রামের গণ্ডি ছাড়িয়ে নাগরাকুড়া, থেতরাই, কুকুয়াপাড়া, চরুয়াপাড়া, দলদলিয়া, থেতরাই, পাণ্ডুল, গুনাইগাছ, বাঙালি গ্রামসহ পৌর এলাকার কয়েকটি গ্রামের নারীরা টুপি তৈরি করেন বলে জানান মোর্শেদা।

তিনি বলেন, ফেনীর দুই ব্যবসায়ীর কাছে তারা তাদের টুপিগুলো বিক্রি করেন।

“এই টুপি তারা মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি করেন। ওই ব্যবসায়ীরাই কাঁচামাল সরবারহ করেন। আর আমরা স্রেফ সুঁই-সুতা দিয়েই তৈরি করি নানা ধরনের নক্শাখচিত এসব টুপি।”

প্রতিটি টুপির জন্য তারা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পারিশ্রমিক পান বলে জানান মোর্শেদা।

সব টুপি মোর্শেদার তদারকে তৈরি হয়। প্রতিটি টুপি থেকে তিনি ৩০-৪০ টাকা কমিশন পান জানিয়ে বলেন, “আমি নিজে ও আমার সুপারভাইজাররা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কাজ তদারক করেন।”

মাসে গড়ে পাঁচ হাজার টুপি সরবারহ করেন মোর্শেদা। তবে ধান কাটার মৌসুমে গ্রামের নারীরা ফসল নিয়ে ব্যস্ত থাকে বলে সে সময় উৎপাদন কমে যায়।

হাতে অন্য কাজ না থাকলে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে টুপির কাজে। তারা মাসে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা আয় করেন বলে জানান মিয়াপাড়ার সীমা (২২), হোকডাঙ্গার রোকসানা (১৯), খাদিজাসহ (২০) অনেকে।

থেতরাই হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছাত্রী শাপলা বলেন, “স্কুল থেকে এসে কিছুক্ষণ এই কাজ করি। নিজের উপার্জন দিয়ে খাতাকলম কিনি।”

উলিপুর এলাকার আনোয়ারা (৫০), রুপালি (৫৫), সুরমা (৪০), রহিমা বেগম (২২) বলেন, মোর্শেদার কল্যাণে এখন শুধু স্বামীর উপার্জনের উপর নির্ভর করতে হয় না। তারা সবাই অবসরে কাজ করেন।

বছর পাঁচেক এ কাজ করে মোর্শেদা চার রুমের আধাপাকা বাড়ি করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, “জমি কিনেছি কয়েক বিঘা। দুই মেয়েকে লেখাপড়া শেখাচ্ছি।”

Facebook Comments