ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ১৪ নভেম্বর ২০১৯

পবিত্র রমাদ্বান মাসের ফযিলত তাৎপর্য

রমাদ্বান মাসের ফাযায়েল-ফযীলত অনেক, তদ্রুপ রমাদ্বান মাসের প্রতিটি ইবাদতের ফযীলতও বেশুমার। আর তাই দেখা যায় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রমযান মাসে এতবেশী ইবাদত-বন্দেগী করতেন, যেটা অন্য কোন মাসে কল্পনাও করা যায়না। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রমযান মাসে বাদতে যতটুকু কোশেশ করতেন, অন্য সময় তা করতেন না।” (মুসলিম শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম: হাদীস ১১৭৫)

এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,

হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা উনার হতে মরফূ হিসাবে বর্ণিত যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন রমযান মাস আসতো, তখন কোমর বেঁধে নিতেন (অর্থাৎ ইবাদতের জন্যে ভালরূপে প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন) অতঃপর নিজ বিছানায় আসতেন না, রমযান মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত।” (বায়হাক্বী শরীফ)

বিশেষ করে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রমযান মাসের শেষ দশ দিন অন্যান্য দশ দিনের চেয়ে আরো অধিক পরিমাণে ইবাদত-বন্দিগী করতেন। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে যে,

অর্থঃ- হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন রমযানের (শেষ) দশ দিন আসতো, নিজ কোমর বেঁধে নিতেন, রাত্রে নিজে জাগ্রত থাকতেন ও পরিবারবর্গকেও জাগ্রত রাখ্তেন।” (বুখারী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম, ফতহুল বারী শরহে বুখারী)

হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে যে,

অর্থঃ- হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সহিত ও সওয়াবের উদ্দেশ্যে রমযান মাসের রোজা রাখবে, তারাবীহ্ নামায আদায় করবে ও লাইলাতুল ক্বদরে দাঁড়িয়ে ইবাদত করবে, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তার পূর্ববর্তী সকল গুণাহ্সমূহ ক্ষমা করে দিবেন।” (মুসলিম শরীফ- কিতাবুছ ছলাতিল মুছাফীর)

তারাবীহ্ নামাযের ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে যে,

অর্থঃ- হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ পাক তাবারাক ওয়া তায়ালা তিনি তোমাদের জন্যে রমযান মাসের রোজাকে ফরজ করেছেন। আর আমি তোমাদের জন্যে তারাবীহ্ নামাযকে সুন্নত করে দিলাম। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সহিত ও সাওয়াবের লক্ষ্যে রমাযানের রোজাগুলো আদায় করবে ও রাত্রে তারাবীহ্ নামায পড়বে, সে গুণাহ্ হতে এরূপ পবিত্রতা লাভ করবে, যেন সে আজই মায়ের পেট হতে ভূমিষ্ট হয়েছে। (সুনানে নাসাঈ- কিতাবুছ ছিয়াম)

সূতরাং আগত রমাদ্বান মাস কাজে লাগিয়ে আমাদের উচিত জীবনের সকল গুনাহ খতাহ ক্ষমা করিয়ে নেয়া, এবং আল্লাহ ওয়ালা হওয়া। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে পবিত্র রমাদ্বান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করে এর পূর্ন ফযিলত হাছিল করার তৌফিক দান করুন।

মুফতী নাজমুস সায়াদাত, গাজীপুর

Facebook Comments