ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২৮ মে ২০২০

পবিত্র রমজান মাসে গরুর গোশতের দাম বাড়বে ৫৫ টাকা

নতুন করে আবার গোশতের দাম নির্ধারণ করেছে সিটি করপোরেশন (ডিসিসি)। নগর ভবনে আজ মঙ্গলবার গোশত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে রমজানে প্রতি কেজি দেশি গরুর গোশতের দাম ৪৭৫ টাকা বিক্রির সিদ্ধান্তের কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

গত বছরের রমজান মাসে গরুর গোশতের দর ৪২০ টাকা ছিল বলে জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন গোশত ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম। সেই হিসাবে এবার প্রতি কেজি গরুর গোশতে বাড়তি ৫৫ টাকা গুনতে হবে ক্রেতাদের।

এ ছাড়া নতুন দর অনুযায়ী বিদেশি জাতের (বোল্ডার) প্রতি কেজি গরুর গোশত ৪৪০ টাকা, মহিষের ৪৪০ ও খাসির গোশত ৭২৫ টাকায় বিক্রি করা হবে। ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে ভেড়া ও ছাগলের গোশত।
এভাবে গোশতের দাম বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক মনে করছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি বলেন, ধর্মঘট করে গোশত ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ল ১০০ টাকার বেশি। তাঁরা বলেন, হাট ইজারাদারের চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে ৩০০ টাকা কেজিতে গরুর গোশত বিক্রি করতে পারবেন। এভাবে গোশতের দাম নির্ধারণ করায় ধর্মঘট ও হাট ইজারাদারদের চাঁদাবাজিকে যৌক্তিক করে দেওয়া হলো। এখন ভোক্তাদের বিকল্প আমিষের সন্ধানে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকল না।

গোশত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ২৬ রমজান পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় এ দামে গোশত বিক্রি করতে হবে। রোজার মাসে জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এবারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু কাঁচাবাজারের গোশতের দোকান ছাড়াও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ গোশত বিক্রি করে, এমন সব দোকানকে এই দামেই গোশত বিক্রি করতে হবে।

গত রোজার ঈদের পর ৪০০ টাকায় এক কেজি গোশত বিক্রি হতো। তবে এরপর গরুর গোশতের ব্যবসা নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোশত ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ইজারাদারদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কয়েকটি দাবিতে গত ১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় দিনের কর্মবিরতি পালন করেন গোশত ব্যবসায়ীরা। ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি কেজি গরুর গোশত ৫০০ টাকা হয়ে যায়। এরপর ১ রমজান থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেন গোশত ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ৩০ এপ্রিল বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে আলোচনার সময় ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন তাঁরা। এই আলোচনা ছাড়াও বিভিন্ন সময় গোশত ব্যবসায়ীরা বলেন, গাবতলী পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ, অবৈধভাবে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান থেকে গরু আমদানি করা, চামড়া বিক্রি করা গেলে গরুর গোশত ৩০০ টাকায় প্রতি কেজি দরে বিক্রি করতে পারবেন। তবে শবে বরাতের সময় রাজধানীর বহু এলাকায় ৫৫০ টাকা কেজিতে গরুর গোশত বিক্রি হয়।

রোজার ঈদের সময় ৪৭৫ টাকায় গরুর গোশত বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না, জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোশত ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো মানা হলে গরুর গোশত ৩০০ টাকায় বিক্রি করা যাবে। আজ মেয়র দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। ঈদের পরে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। ঈদের সময় গোশতের দাম যাতে না বাড়ে, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করব।’

Facebook Comments