ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ১৬ নভেম্বর ২০১৯

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তি বাতিলের দাবি সবার মুখে

আরএফএন ডেস্কঃ রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সমালোচনায় মুখর দেশবাসী।

তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা কমিটি ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিতব্য রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চুক্তি বাতিলের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছে, অন্যথায় রামপাল অভিমুখে লংমার্চ করা হবে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সেভ দ্য সুন্দরবন আয়োজিত ‘সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে রামপালের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের বিকল্প নেই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সভায় তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রামপালের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন বন্ধ করা না হলে ঢাকা থেকে রামপাল পর্যন্ত লংমার্চ করবে তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা কমিটি।’

P1_Rampal zakir-naik-wb

তিনি আরও বলেন, ‘তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে সুন্দরবন ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সুন্দরবন রক্ষার কথা না চিন্তা করেই এক সপ্তাহের মাথায় তড়িঘড়ি চুক্তি স্বাক্ষর করে।’

আনু মুহাম্মদ বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার রামপালের সাপমারী-কাটাখালী মৌজায় ১৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ কাজ প্রায় শেষ করেছে। যা সুন্দরবন থেকে মাত্র ১০ কি.মি. দূরে অবস্থিত। অথচ সরকার কাগজে দূরত্ব দেখিয়েছে ১৪ কি.মি.। এই বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকার জলাশয় ভরাট, কার্বন নির্গমন, বন ক্ষতিগ্রস্তকরণ, বিশ্ব ঐতিহ্যের ধারক বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্তকরণসহ দেশি-বিদেশি মোট পাঁচটি আইন বা কনভেনশন লঙ্ঘন করতে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে এ স্থাপনা বাতিল করার জোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেন, “সুন্দরবন ধ্বংস করে এই রামপাল প্রকল্প নির্মাণ প্রশ্নে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের অনমনীয় অবস্থান একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশা করি, গতকালের (মঙ্গলবার) সম্পাদিত চুক্তিটি বাতিল করার পাশাপাশি সুন্দরবনকে বাঁচানোর স্বার্থে প্রকল্পটি অবিলম্বে বাতিল করবে।”

তিনি বলেন, সুন্দরবনের এত কাছে এই কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে তা থেকে বিষাক্ত গ্যাস ও রাসায়নিক বর্জ্যে ‘নিশ্চিতভাবেই সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য ধ্বংস হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তজনিত সংকটে ধ্বংসলীলার চারণভূমিতে পরিণত হবে’।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কমিটির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরেন সুলতানা কামাল।

এগুলো হলো- অবিলম্বে মঙ্গলবার সম্পাদিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের  অবকাঠামোগত উন্নয়ন চুক্তি বাতিল, রামপাল কয়লভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবিলম্বে বন্ধ ও নিরাপদ নিরাপদ দূরত্বে স্থানান্তর, সুন্দরবনের পাশে প্রস্তাবিত ওরিয়নসহ অন্যান্য ক্ষতিকর সকল অবকাঠামোর কার্যক্রম বন্ধ এবং সুন্দরবন রক্ষায় বিজ্ঞানসম্মত সার্বিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন।

এদিকে এ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন। কয়লা আমদানির বিষয়েও সুস্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে। ফলে আমদানি নির্ভর কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Facebook Comments