ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সংবিধানে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল দাবি

সংবিধানে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন সংবিধান সমুন্নত সংগ্রামী আইনজীবী পরিষদ। গতকাল বিকাল ৩ ঘটিকায় সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সফিউর রহমান মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে; সংবিধানে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের অপরিহার্যত শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় বক্তারা ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশের সংবিধানে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সভায় বক্তারা গত ২৮ এপ্রিল ২০১৬  তারিখে মহামান্য আদালত কর্তৃক রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার প্রেক্ষিতে দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি অব্যক্ত শুকরিয়া আদায় করেছেন এবং মহামান্য আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সংবিধানে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন-

আসলে দ্বীন ইসলাম কি? দ্বীন ইসলাম মূলত পবিত্র কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ, ইজমা ও কিয়াসের প্রকাশ। পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিত রয়েছে “ইসলাম পরিপূর্ণ দ্বীন।” আরো বর্ণিত রয়েছে, “তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো।” দেখা যাচ্ছে ইসলাম মানেই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস এর প্রতিফলন। সুতরাং রাষ্ট্রধর্ম দ্বীন ইসলাম রাখা হবে অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখা হবে না তা কিভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে? রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে অথচ সংবিধানে ‘মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’ থাকবে না তা কি সাংঘর্ষিক নয়?
বক্তারা বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, “তোমরা কিতাবের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ মানবে না তা গ্রহণযোগ্য হবে না।” সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিতে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা যেভাবে অপরিহার্য একইভাবে সংবিধানে ‘মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’ রাখাও অপরিহার্য।

সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা স্বরণ করিয়ে দিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের ওয়াদা ছিলো ‘কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না।’ আবার আ’লীগের সব পোস্টারে প্রচার করা হয় ‘আল্লাহ পাক সর্বশক্তিমান’। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয়, আওয়ামী লীগ ‘মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’-এ বিশ্বাসী। জনগণও এই বিশ্বাস-এর প্রতি আস্থা দেখেই আ’লীগকে ভোট দিয়েছে। তাই জনগণ সংবিধানে এই আস্থা বিশ্বাসের পুনঃপ্রতিফলন দেখতে চায়।

ধর্ম নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, আজকে ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে বলতে চায়, সংবিধানে ‘মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’ রাখা যাবে না। কিন্তু ৭২’এর সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা অন্যান্য দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার মতো নয়। ৭২’এর সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মের কথা বলা যাবে না তা নয়; বরং বঙ্গবন্ধু নিজেই এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।”
বক্তারা বলেন, এদেশে ১০ লাখ মসজিদ আছে। প্রতি জুমুয়াহ এবং ঈদে ৫ কোটি লোকের সমাবেশ হয়। এদেশের কোটি কোটি মুসলমান পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে আল্লাহু আকবার বলে, কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে, শুকরিয়া আদায়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে, গুনাহ-খতা করলে আস্তাগফিরুল্লাহ বলে, আল্লাহ পাকের শান প্রকাশে সুবহানাল্লাহ বলে। অর্থাৎ যে দেশের জনগণ সব অবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ভরসা করে সে দেশের জনগণের অভিব্যক্তি সংবিধানে প্রতিফলিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কেননা সংবিধানের আর্টিক্যাল ৭-এ জনগণের অভিব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। আর এটা বাস্তবায়ন করতে হলে জনমতকে প্রাধান্য দিতে হবে। সুতরাং জনগনের মত ‘মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’কে সংবিধানে প্রতিফলিত করতে বিজ্ঞ আদালত ও বিজ্ঞ আইনজীবীরা এগিয়ে আসবেন বলে আমরা সুদৃঢ় আশাবাদী।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে কী ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ছিল উল্লেখ করে বক্তারা বলেন-
একশ্রেণীর লোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে ধর্মনিরপেক্ষতা, ইসলাম ও মুসলিম পরিচয়ের সাথে সম্পর্কহীনতা বুঝাতে চায়। অথচ ৭২’ সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা অন্যান্য দেশের কথিত ধর্মনিরপেক্ষতার মতো নয়। এটা বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব দর্শন। তিনি বলেছেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।” বরং যার যার ধর্মের কথা বলাই বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষতা। সে জন্যই আ’লীগের নির্বাচনী প্রচারণা, বক্তৃতা-বিবৃতিতে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয়গুলো বারবার এসেছে। মদীনা সনদের কথা এসেছে। শুধু তাই নয়, খোদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিই ছিল পবিত্র দ্বীন ইসলাম।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র’-এর ২য় খন্ডের  উদ্বৃতি দিয়ে বক্তারা বলেন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচীর মুলনীতি হিসাবে সর্বাগ্রে ঘোষণা করা হয়: “কোরআন-সুন্নাহর মৌলিক নীতির খেলাফ কোনো আইন প্রণয়ন করা হইবে না এবং ইসলামী সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে নাগরিকগণের জীবনধারণের ব্যবস্থা করা হইবে।”

১৯৬৯ সালের আইয়ুব বিরোধী ছাত্র-গণ আন্দোলনের ছাত্র সমাজের ১১ দফা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উক্ত ১১ দফায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকলেও “ধর্মনিরপেক্ষতার” কথা কোথাও বলা হয়নি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে পরিষ্কার ঘোষণা দেয়া হয় যে “কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না।” নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করার পর তাদের সংবিধান কমিটি কর্তৃক প্রণীত খসড়া সংবিধানের প্রস্তাবনায় তদানীন্তন “পাকিস্তানের মুসলমানদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গড়ে তোলার” কথা স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছিলো।

সেই খসড়া সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সন্নিবেশিত হয়েছিল:
“(১) কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন পাস করা হবে না,
(২) কোরআন ও ইসলামিয়াত শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে,
(৩) মুসলমানদের মধ্যে ইসলামী নৈতিকতা উন্নয়নের পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

কাজেই এ কথা সুস্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগের জন্ম হতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত জনগণের সামনে ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার কোনো রাষ্ট্র গঠনের কোনো প্রস্তাব বা কর্মসুচী পেশ করা হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন ভাষায় জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর কুশাসন ও আঞ্চলিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন মূলত ইসলামের বিপক্ষে কিছু নয় এবং ক্ষমতায় গেলে ‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন পাস করা হবে না’। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জনগণের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়া হবে। জনগণ ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টকে, ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির আশায়, আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন পাস করা হবে না- এই ওয়াদার কারণে। জনগণ কোনোক্রমেই ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য ভোট দেয়নি।

উপরোল্লেখিত বইয়ের ৩য় খন্ডের ১৯-২২ পৃষ্ঠার উদ্বৃতি দিয়ে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার গোড়ার দিকে কি কথা বলে, কোনো চেতনাকে উজ্জ্বীবিত করে দেশের সাধারণ জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিলো তার উৎকৃষ্ট নজির মিলে ১৯৭১-এর ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার মাত্র চারদিন পর প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি যে নির্দেশাবলী প্রদান করা হয় তার মধ্যে।

নির্দেশাবলীপত্রের শীর্ষেই “আল্লাহু আকবার” লিখা হয়। তারপর স্বাধীনতার প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করে বলা হয়, “বাঙালির অপরাধ তারা অবিচারের অবসান চেয়েছে, বাঙালির অপরাধ তারা তাদের মা-বাপ, ভাই-বোন, সন্তান-সন্ততিদের জন্যে অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-চিকিৎসার দাবী জানিয়েছে, বাঙালির অপরাধ- আল্লাহর সৃষ্ট পৃথিবীতে, আল্লাহর নির্দেশমত সম্মানের সাথে শান্তিতে সুখে বাস করতে চেয়েছে। বাঙালির অপরাধ- মহান স্রষ্টার নির্দেশমত অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে এক সুন্দর ও সুখী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবার সংকল্প ঘোষণা করেছে। আমাদের সহায় পরম করুণাময় সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য। মনে রাখবেন- আপনার এ সংগ্রাম ন্যায়ের সংগ্রাম, সত্যের সংগ্রাম। পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার দুশমনরা বাঙালি মুসলমান নারী-পুরুষ, বালক-বালিকা কাউকে হত্যা করতে, বাড়ি-ঘর লুট করতে, আগুন জ্বালিয়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা করেনি। মসজিদে-মিনারে আজান প্রদানকারী মুয়াজ্জিন, মসজিদ গৃহে নামাযরত মুসল্লী, দরগাহ-মাজারে আশ্রয়প্রার্থীরাও হানাদারদের গুলি থেকে বাঁচেনি। এ সংগ্রাম আমাদের বাঁচার সংগ্রাম। সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ন্যায়ের সংগ্রামে অটল থাকুন। স্মরণ করুন: আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, “অতীতের চাইতে ভবিষ্যৎ নিশ্চয় সুখকর।” বিশ্বাস রাখুন- “আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী।”

সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে এটি ছিলো প্রবাসী সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম নির্দেশনামা। এটি শুরু হয়েছে “আল্লাহু আকবার” দিয়ে। শেষ হয়েছে পবিত্র কুরআনের দু’টো পবিত্র আয়াত শরীফ দিয়ে। এতে রয়েছে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের কথা, এতে আছে “আল্লাহর নির্দেশ মতো”সম্মানের সাথে সুখে-শান্তিতে, অন্যায়-অবিচার, শোষণ-নির্যাতন, সুখী ও সুন্দর সমাজে বাস করার অঙ্গিকার। এ নির্দেশনামা বিশ্লেষণ করলে ধর্মনিরপেক্ষতা জন্য নয় বরং ধর্মের প্রতি, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বাসের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এবং এটাই মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও চেতনা।

প্রচলিত শিক্ষানীতি সংশোধন এবং শিক্ষা আইন বাতিলে আইনগত প্রতিকার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন-
শিক্ষামন্ত্রী বলেছে, শিক্ষানীতি ধর্মগ্রন্থ নয় যে, তা পরিবর্তন করা যাবে না। তবে অনেক দাবি জানালেও এটা সংশোধনের কোনো সদিচ্ছা এখনো লক্ষ্য করা যায়নি। কারণ প্রচলিত শিক্ষানীতিতে ইসলামবিরোধী ও ইসলামী মূল্যবোধ বিরোধী বিধর্মীদের লিখনী ও বিধর্মী সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। অথচ এটা সংশোধন না করে উল্টো মাত্র ১৪ দিন সময় দিয়ে আইনে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এত গোপনীয়তা কেন? প্রিন্ট মিডিয়ায় পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। অথচ এটার জন্য কমপক্ষে একবছর সময় প্রয়োজন। সুতরাং প্রচলিত শিক্ষানীতি সংশোধন এবং শিক্ষা আইন বাতিলে আইনগত প্রতিকারে বিজ্ঞ আদালত এবং বিজ্ঞ আইনজীবীদের সহযোগিতা পাওয়া অতীব জরুরী।

রাষ্ট্রীয় ও মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল করার দাবি  উত্থাপন করে বক্তারা বলেন-
অর্পিত সম্পত্তি মূলত ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময়ের শত্রু সম্পত্তি আইন থেকে এসেছে। পাক-ভারত যুদ্ধের সময় যারা দেশ ত্যাগ ভারতের পক্ষাবলম্বন করেছিল তাদের সম্পত্তিকে ‘শত্রু সম্পত্তি’ গণ্য করা হয়। পাক-ভারত যুদ্ধের সময় ভারত কর্তৃক ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষিত মুসলমানদের সম্পত্তি; ভারত সরকার এখনো ভারতীয় মুসলমানদের ফেরত দেয়নি। বর্তমানে শুধু মুম্বাইতে ১৬০০০ শত্রু সম্পত্তি হিসেবে গণ্য মুসলমানদের সম্পত্তি রয়েছে। যা ফেরত পেতে ৫৫০টি মামলা হলেও মুসলমানদেরকে তাদের ভূমি ফেরত দেয়া হয়নি। তাহলে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পাকিস্তান কর্তৃক ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষিত সম্পত্তি; ‘অর্পিত সম্পত্তি’র মোড়কে বাংলাদেশের বিধর্মীরা কিভাবে পেতে পারে? তাছাড়া যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া বা দেশ ছেড়ে যাওয়া নাগরিকরা সম্পত্তির দাবিদার হতে পারে না। যারা দেশপ্রেম বাদ দিয়ে শত্রু দেশে আশ্রয় নেয় এবং স্বদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তারা কিভাবে ভুমি ফেরত পেতে পারে? তাই ‘শত্রু সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য সম্পত্তিকে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য করা ঠিক হবে না। এটা এখন সরকারি সম্পত্তি। সরকারকেই তা রক্ষা করতে হবে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলম, সম্পাদক- মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল ইহসান এবং সভাপতি, আর্ন্তজাতিক সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ (ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উদযাপন কমিটি; বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- প্রফেসর ডক্টর আলহাজ্ব এম.এম. আনোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট আইনজীবী-বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, প্রিন্সিপাল-বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এডভোকেট ডক্টর মুহম্মদ ইউনুছ আলী আকন্দ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, ডাক্তার মুহম্মদ আব্দুল আলী, জি.এম- আল মুতমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতাল, প্রফেসর সোহেল এমএ রহমান প্রমুখ।

Facebook Comments