ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কম উৎপাদনই লোডশেডিংয়ের কারণ

পর্যাপ্ত ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল সরবরাহ নেই, এই অজুহাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র। উৎপাদন বন্ধ থাকায় সারাদেশে আজ (মঙ্গলবার) বিদ্যুৎ সংকট ছিল নজিরবিহীন। ৭০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে তীব্র লোডশেডিং পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অস্বাভাবিক গরমের ওপর লোডশেডিং দুর্ভোগে বাড়তি মাত্রা যোগ করায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন।

পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ ক্ষমতায় হরিপুরের ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) এতদিন ধরে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে আসছিল। কিন্তু রোববার হঠাৎ করে ফার্নেস অয়েলের ঘাটতি দেখিয়ে ৯৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

একই অজুহাতে মঙ্গলবার ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম সামিট গ্রুপের মেঘনাঘাট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে ১০৫ মেগাওয়াট; সিদ্ধিরগঞ্জে ৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম দেশ এনার্জি ও সিলেটে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম খান জাহান আলী পাওয়ার প্ল্যান্ট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া গত রোববার কারিগরি সমস্যার কথা জানিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশের আরো বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।

পিডিবির তথ্য থেকে জানা যায়, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে সাত হাজার ৫৭৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে ছয় হাজার ৮৭৫ মেগাওয়াট।

এর মধ্যে মঙ্গলবার ঢাকায় বিদ্যুতের চাহিদা তিন হাজার মেগাওয়াট, যেখানে ঘাটতি ১৭৭ মেগাওয়াট। অন্যান্য বিভাগ ও জেলাশহরের মধ্যে চট্রগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ৮৬০ মেগাওয়াট, ঘাটতি ৮৫ মেগাওয়াট; খুলনায় চাহিদা ৮৯০ মেগাওয়াট, ঘাটতি ৯৯ মেগাওয়াট; রাজশাহীতে চাহিদা ৮২৫ মেগাওয়াট, ঘাটতি ১০৭ মেগাওয়াট; বরিশালে চাহিদা ১৭৫ মেগাওয়াট, ঘাটতি ২০ মেগাওয়াট; সিলেটে চাহিদা তিনশ’ মেগাওয়াট, ঘাটতি ৫১ মেগাওয়াট; রংপুরে চাহিদা চারশ’ মেগাওয়াট, ঘাটতি ৫৬ মেগাওয়াট; কুমিল্লায় চাহিদা ৬৭৫ মেগাওয়াট, ঘাটতি ৬২ মেগাওয়াট; এবং ময়মনসিংহে চাহিদা ৪৪২ মেগাওয়াট, ঘাটতি ৪৪ মেগাওয়াট।

সবমিলিয়ে সাব-স্টেশন পর্যায়ে লোডশেডিং ৭০১ মেগাওয়াট, আর তা গ্রাহক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে হাজার মেগাওয়াটে।

কিন্তু পিডিবি’র হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ৩৩৯ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

এ সম্পর্কে পিডিবি’র চেয়ারম্যান মো. শামসুল হাসান মিয়া বলেন, ‘অস্বাভাবিক গরমে হঠাৎ করে বিদ্যুতের চাহিদা আট হাজার চারশ’ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। বিদ্যমান সঞ্চালন ও বণ্টন ব্যবস্থায় এতটা চাপ নেওয়া সম্ভব নয় বলে উৎপাদন কিছুটা কম হচ্ছে। আর কারিগরি সমস্যার কারণে লোডশেডিং হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। তবে খুব শিগগিরই এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা যাবে।’

আর ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের সংকট হঠাৎ করে কেন সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Facebook Comments