ইয়াওমুল জুমুআ (শুক্রবার), ১৫ নভেম্বর ২০১৯

এশিয়ায় নিয়ন্ত্রণ চায় যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র আধিপত্য বিস্তার চায় এশিয়ায়, এ লক্ষ্যে দেশটি এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারে চালাচ্ছে জোর তৎপরতা। এক সপ্তাহ ধরে এশিয়ার দুটো দেশ সফর করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার।

ভারত ও ফিলিপাইনের সঙ্গে সামরিক মহড়া, বিমানবাহী রণতরীতে ভ্রমণ ও দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকায় পরিদর্শন করে বেইজিংকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন অ্যাশটন কার্টার । পরাশক্তি হিসেবে চীনের আধিপত্য ঠেকাতে এ অঞ্চলে সামরিক পেশিশক্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে নিজেদের পেশিও শক্ত করতে যাচ্ছে চীন।

শুক্রবার অ্যাশ কার্টার একটি হেলিকপ্টার ও বিমানবাহী রণতরী নিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরের কাছাকাছি যান। ওই অঞ্চলকে নিজেদের মালিকানাধীন এলাকা বলে দাবি করে বেইজিং। এর আগে ম্যানিলার সঙ্গে ১১ দিনের নৌ-সামরিক মহড়া চালায় ওয়াশিংটন। সামরিক মহড়ার সময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবে। সামরিক সরঞ্জামাদি ও মার্কিন সৈন্যও সরবরাহ করবেন বলে জানান তিনি। শিগগিরই ফিলিপাইনের সঙ্গে বিমান মহড়ার আয়োজনও করবেন বলে জানান কার্টার।

গত সপ্তাহের শুরুতে ভারতের সঙ্গে একই ধরনের মার্কিন মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন অ্যাশ কার্টার। তখন ভারতের বিমানবাহী রণতরীতেও ভ্রমণ করেন তিনি, যা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের মধ্যে প্রথম। এ সময় কার্টার ঘোষণা দেন, ভারতের রণতরীর আধুনিকায়নে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী একটি নতুন ‘লজিস্টিক চুক্তির’ কথা উল্লেখ করে বলেন সামরিক প্রযুক্তির উন্নয়নে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

ছয় দিনের সফরে এসে ভারত ও ফিলিপাইনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এসব পদক্ষেপ মূলত দক্ষিণ চীন সাগর ঘিরে চীনের বিস্তৃত উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করা। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিচ্ছে চীনের প্রতিবেশীদের হাত করে তাদের বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে উসকে দেয়া ও সামরিক সহায়তা দেয়ার। বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান উত্থানকে দমাতে চীনা নেতৃত্বের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতে চায় ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব অনেকটা জুয়া খেলার মতোই। পরিণামে তা হিতে বিপরীতও হতে পারে। আঞ্চলিকভাবে পেশিশক্তির প্রদর্শন করে চীনকে ভয় দেখানো যেমন সত্যি, অপরদিকে পেন্টাগনের পদক্ষেপে চীন নিজেদের আরও বেশি প্রস্তুত করার চিন্তা করবে সেটাও বাস্তব। তাই দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত সীমানায় আরও বেশি দখলদারিত্ব, কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ ও সামরিকায়ন চালিয়ে যাবে। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এটা করবে বেইজিং।

শুক্রবার দক্ষিণ চীন সাগরে রণতরী নিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে অনেকটা নমনীয় সুরে কার্টার বলেছিলেন, তার এই সফরকে যেন ‘উসকানি’ মনে না করে চীন। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি নতুন কিছু নয়, বরং নতুন হচ্ছে চীনের (কর্তৃত্বমূলক) আচরণ।

বৃহস্পতিবার রাতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে থেকে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা দেখাচ্ছে। চীনা সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক স্বার্থ দৃঢ়ভাবে সংরক্ষণ করবে।’ যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতে সামরিক সংঘাতেরও আশংকা করছেন বিশ্লেষকরা।

অনেকে মনে করেন, দক্ষিণ চীন সাগর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। একে ওসিলা করে এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চায় দেশটি। এশিয়ায় ঢোকার ছুঁতো দক্ষিণ চীন সাগর। আর এই কাজে সহায়তা পাচ্ছে ভারত, ফিলিপাইন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ অনেকে দেশের। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) সদস্য হিসেবে ভারত ও ফিলিপাইন বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক থেকে দূরে থেকেছে। কিন্তু এখন চীনকে হুমকি মনে করে সেদিকে ঝুঁকছে। ফিলিপাইনে ৫টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের সঙ্গে মিলে আগামীতে দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক মহড়া চালাবে। অন্যদিকে ভারত মার্কিন মিত্র জাপানকে নিয়ে আন্দামান নিকোবরে সামরিকায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্র একইসঙ্গে ভিয়েতনাম-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তি করছে। আর এ সবকিছুর উদ্দেশ্য এশিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

Facebook Comments