ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ১৮ নভেম্বর ২০১৯

জনপ্রিয় হচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সোলার পাম্প

সেচ মৌসুমে কম-খরচে ক্ষেতে পানি দেয়ার ক্ষেত্রে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সোলার পাম্প প্রকল্প। যা কৃষি অর্থনীতিতে খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। শনিবার সময় টিভির এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এসব তথ্য।  প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ‘ইডকল’ বলছে- ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের প্রায় শতভাগ ডিজেল চালিত পাম্পগুলোকে সৌর প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের আশা- পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে কমবে আমদানি নির্ভরতা। এদিকে সোলার সরঞ্জামাদি দেশে উৎপাদন করতে না পারলে কৃষকরা এই প্রকল্পের সুফল পাবে না বলে মত দিচ্ছেন  বিশেষজ্ঞরা।   কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বাংলাদেশে ডিজেলের ঘাটতি কিংবা বিদ্যুৎ সংকটে প্রায় প্রত্যেক বছরই বিঘ্নিত হয় সেচ কার্যক্রম, ব্যাহত হয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা। সেচ সমস্যা দুর করতে সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইডকল এরই মধ্যে দেশব্যাপী ফসলি জমিতে স্থাপন করেছে প্রায় ২শ’রও বেশি সোলার পাম্প। এমনই একটি প্রকল্প চলছে ঢাকার ধামরাই এলাকার একটি মাঠে। যেখানে ৭.৫ কিলোওয়াটের ২টি পাম্প দিয়ে সেচ কার্যক্রম চলছে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে। ডিজেল বা বিদ্যুতের চেয়ে এতে খরচ কম বলে আশার আলো দেখছেন চাষিরাও।

কৃষকের উৎসাহকে পূঁজি করে ইডকলের আশা- ২০১৮ সালের মধ্যে ডিজেল চালিত পাম্পগুলোকে প্রায় পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। নুসরা ধামরাই শাখার ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান আলমগীর বলেন, ‘সবার মধ্যে একটা আনন্দের জোয়ার বইছে। সেজন্য তারা চাচ্ছে একক উদ্যোগে সোলার পাম্প দেয়া যায় কিনা।’ অন্যদিকে, এমন প্রকল্পে জ্বালানিতে আমদানি নির্ভরতা কমে আসার সম্ভাবনা দেখছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৩ লাখেরও বেশি ডিজেল চালিত সেচ পাম্প আছে। এই সমস্ত সেচ পাম্পগুলোতে যদি সৌর শক্তি ব্যবহার করা যায়, তাহলে একদিকে ডিজেল সাশ্রয়ী হবে। অন্যদিকে, এটা পরিবেশের জন্যই অনেক ভালো।’

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন- এই প্রকল্পের সফলতা ধরে রাখতে হলে সৌর পাম্পের সরঞ্জামাদি আমদানি নয়, উৎপাদন করতে হবে দেশেই। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সাইফুল হক বলেন, ‘এগুলো আমদানি নির্ভর। বিদেশ থেকে আমদানি করে বসানো হচ্ছে। আমি মনে করি, দেশীয় প্রযুক্তিগুলোকে উৎসাহিত করে ছোট ছোট আকারে সেচ কাজের যন্ত্রপাতি তৈরি করতে পারলে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া যাবে।’ সেচ মৌসুমে ফসল উৎপাদনে ডিজেল পাম্পের জায়গায় সোলার পাম্প স্থাপন করা গেলে, বছরে প্রায় ১০ লাখ টন জ্বালানি তেল সাশ্রয় করা সম্ভব।

Facebook Comments