জুমুআ (শুক্রবার), ১২ আগস্ট ২০২২

৫৫১৪ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭২২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সারা দেশে মোট ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৭ হাজার ২২১ জন মারা গেছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হন ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। এ ছাড়া সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ পথে মোট ছয় হাজার ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৭৯৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৮০ জন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৭০টি। এতে মারা যান ৩৯৪ জন, আহত হন ২৪৮ জন। নৌপথে ১৫৯টি দুর্ঘটনায় মারা যান ১২৬ জন, আহত হন ২৩৪ জন। এসব দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন ৩৮৭ জন। ২০১৮ সালে আকাশপথে পাঁচটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন ৫৫ জন, আহত হন ৩২ জন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ আবদুল হক, সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদ, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

হোসেন জিল্লুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিবহন খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত না করতে পারায় সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাচ্ছে না।

সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরে। সেগুলো হলো- ট্রাফিক আইন, মোটরযান আইন ও সড়ক ব্যবহার বিধিবিধান সম্পর্কে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির, গির্জায় ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা, টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাস থেকে হাট-বাজার অপসারণ করা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা, জেব্রাক্রসিং অঙ্কন করা, গণপরিবহন চালকদের প্রফেশনাল ট্রেনিং ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, যাত্রী ও পথচারীবান্ধব সড়ক পরিবহন বিধি প্রণয়ন, গাড়ির ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার পদ্ধতি উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন করা, জাতীয় মহাসড়কে স্বল্পগতি ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা, অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করা, সড়ক নিরাপত্তা তহবিল গঠন করে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নকালে চালকের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা ও পর্যাপ্ত মানসম্মত গণপরিবহন নামানোর উদ্যোগ নেওয়া।

Facebook Comments Box