ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ১৩ এপ্রিল ২০২১

সবজি চাষ করে দিনমজুর থেকে কোটিপতি

সিলেট সংবাদদাতা: মৌসুমি ও বারোমাসি সবজি চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন রাজনগরের দিনমজুর আজমল আলীর। মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ গ্রামের আজমল আলী দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতেন। একপর্যায়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সহায়-সম্বলহীন আজমল কোনো উপায় না পেয়ে সিদ্ধান্ত নেন সবজি চাষের। ২০১২ সালে মাত্র এক হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে শুরু করেন ঢেঁড়স চাষ। আট বছরের ব্যবধানে তিনি আজ কোটিপতি।

গ্রামের লোকদের কাছে জানা যায়, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আজমল একপর্যায়ে পাশের ইন্দেশ্বর চা বাগানে আত্মগোপনে থেকে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন। তাতেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিল না। পরে কয়েকজন কৃষকের পরামর্শে সবজি চাষ শুরু করেন।

প্রথম ২০১২ সালে ইন্দেশ্বর এলাকার এক ব্যক্তির এক বিঘা জমিতে মাত্র ৪০০ টাকার বীজ ও মজুরিসহ এক হাজার ৯০০ টাকা খরচে শুরু করেন ঢেঁড়স চাষ। ছোট দুই ভাইকে নিয়ে কঠোর পরিশ্রমে শুরুতেই সফলতা পেয়ে যান। প্রথমবারই এক হাজার ৯০০ টাকা খরচে লাভ করেন সাত হাজার টাকা। তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। পরের বছর অরো কিছু জমি বন্ধক নিয়ে শুরু করেন বেগুন, টমেটো ও শিমের চাষ। রবি মৌসুমে তিনি মোট ৩০ বিঘা জমি বন্ধক নিয়েছেন। প্রতি বিঘা জমির জন্য জমির মালিককে ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন। চুক্তি অনুযায়ী জমি বন্ধকের মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত। তবে ২০২৫ সালের পরে জমির মালিক বন্ধকী টাকা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত ওই জমিতে কৃষক আজমল চাষাবাদ করতে পারবেন। এ বছর ৩০ বিঘা জমিতে তার মোট তিন লাখ টাকা খরচে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন ২০ লাখ টাকার।

আজমল জানান, ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেতে পারি। বর্তমানে তার খামারে শিম, বেগুন, ওলকপি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, পানিকদু, মিষ্টিকদু, আলু, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি রয়েছে। এ ছাড়াও সবজি খামারের সাথে আখক্ষেতও করেছেন তারা। খামারে তারা তিন ভাই ছাড়াও আরো পাঁচ শ্রমিক কাজ করছেন। যাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে মোট ৫০ হাজার টাকা মজুরি দিচ্ছেন। আজমলের সবজি চাষে সফলতা দেখে তার অনেক প্রতিবেশীও বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ শুরু করেছেন।

কৃষক আজমল আলী জানান, উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অনেক কৃষক মৌসুমি ও বারোমাসি সবজি চাষ করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছেন। প্রতিদিন শত শত মণ বিভিন্ন সবজি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে এই সবজি চাষ করে তার কোটি টাকার মতো আর্থিক সামর্থ্য হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় সবজি চাষ করে একসময়ের দরিদ্র আজমল আলী প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। সবজি চাষে তার সফলতা দেখে এখন রাজনগরের অনেকেই সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তিনি শুধু উপজেলার নয়, এ দেশের সফল চাষিদের উদাহরণ হতে পারেন।

Facebook Comments