ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ২৪ জুলাই ২০২১

শতবর্ষী কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ

শতবর্ষী কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অতীত ঐতিহ্যের জন্য ঢাকা সমাধিক পরিচিত বিশ্বের দরবারে। আর ঠিক তেমনি এক ঐতিহ্যবাহী মসজিদ হলো শতবর্ষী কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ। নামে না চিনলেও ছবি দেখে অনেকেই একে চিনে উঠতে পারেন। পুরান ঢাকার কসাইটুলির কে পি রোডে কাস্বাবটুলি জামে মসজিদটি অবস্থিত।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ‘ঢাকা কোষ’ গ্রন্থ হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯০৭ সাল। নির্মাণ করেন আবদুল বারি নামক জনৈক ব্যবসায়ী। এটিকে অনেকে ‘চিনির টুকরা মসজিদ’ নামেও চিনে থাকে। কারণ মসজিদের গায়ে চিনামাটির সাদা টুকরাগুলো দেখতে চিনির দানার মতো হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা মসজিদটিকে এই নামে ডাকেন। মসজিদটি তৈরিতে উজ্জ্বল রঙের চীনামাটির তৈরি মোজাইকের ব্যবহার বেশি।

চোখ জুড়ানো স্থাপত্যশৈলী নিদর্শন কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ। মোগল স্থাপত্য রীতি অনুসরণ করে নির্মিত নান্দনিক নকশা-খচিত কাস্বাবটুলি মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে করা ‘চিনিটিকরির কারুকাজ’। চীনামাটির বর্ণিল টুকরো দিয়ে পুরো মসজিদটির নকশা করা হয়। মূল ভবনের ভেতরে ও বাইরের দেয়ালসহ সম্পূর্ণ জায়গায় চিনিটিকরি পদ্ধতির মোজাইক দিয়ে দারুণ নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চিনামাটির ভাঙা টুকরা আর রঙিন কাচ দিয়ে গোলাপ ঝাড়, আঙুরের থোকা, ফুলদানির ছবি মসজিদের দেয়ালে-খিলানে দৃষ্টিনন্দন চিত্রের উপস্থাপন তৈরি করেছে। মসজিদের ভেতরের মিহরাব ও মিহরাবের আশপাশের নকশাগুলো সবচেয়ে রঙিন ও জমকালো ভাবে তৈরি। মসজিদটির দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন নকশা ছাড়াও রয়েছে চীনামাটির টুকরো দিয়ে করা ক্যালিগ্রাফি। আয়তাকার মসজিদটির ছাদে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। চার কোণায় রয়েছে চারটি বুরুজ।

মসজিদটির সমতল কোনো ছাদ নেই। গম্বুজগুলোর উচ্চতা ৫-১২ ফুট। পদ্মফুলের নকশা করা তীর রয়েছে গম্বুজ আর বুরুজের মাথায়। ছাদের চারদিকে রয়েছে নকশাকরা অনেক টারেট। মসজিদের নকশাকে এগুলো আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

Facebook Comments Box