ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

লড়াকু পাখি বুলবুলি

নিউজ ডেস্ক: অতি পরিচিত দুঃসাহসী এক পাখি। বুলবুলি হিসেবে এরা সুপরিচিত। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় পাখি। এই এলাকার বাইরে চীনেও এদের দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও ভিয়েতনাম বাংলা বুলবুলির স্থায়ী আবাস।
পৃথিবীতে এদের মোট সংখ্যা কত তা এখনো অজানা। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সে কারণে আইইউসিএন এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। বাংলার শহর-নগর-গ্রামেগঞ্জে প্রচুর বাংলা বুলবুলি দেখা যায়।

আমাদের অতিপরিচিত বাংলা বুলবুল ছোট বাদামি রঙের এক বৃক্ষচারী পাখি। এর দৈর্ঘ্য কমবেশি ২০ সেন্টিমিটার, ডানা ১০ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ২ সেন্টিমিটার, লেজ ৯.৫ সেন্টিমিটার ও পা ২.২ সেন্টিমিটার। ওজন ৪২ গ্রাম। বাংলা বুলবুলের ঠোঁট দূর থেকে কালো দেখালেও তা আসলে কালচে-নীল। চোখ কালচে বাদামি। পা ও পায়ের পাতা সামান্য বাদামি-কালো। মুখের ভেতরটা ধূসর, বেগুনি ও হলুদে মেশানো। স্ত্রী ও পুরুষ বুলবুল দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহ অপেক্ষাকৃত হালকা। মাথার কালো ঝুঁটি দেখে খুব সহজেই এদের শনাক্ত করা যায়। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা কালো বা কালচে-বাদামি। পালকের গড়ন আঁশের মতো বলে এমনটা হয়। লেজ বাদামি হলেও লেজের আগা কিছু অংশ গাঢ় বাদামি হয়ে প্রান্ত একদম সাদা। পেট অপেক্ষাকৃত ফিকে বাদামি। দেহতলে এবং কখনো কখনো উপপ্রজাতিভেদে পিঠে মাছের আঁশের মতো ফিকে দাগ থাকে। লেজের গোড়ার দিকটা সাদা। বাদামি দেহের শেষাংশ ও ডানার প্রান্ত কালচে-বাদামি। এর দেহের সবচেয়ে বিচিত্র স্থানটি হলো টকটকে লাল অবসারণী-ঢাকনি।

বাংলা বুলবুল বা বুলবুলি প্রচ- লড়াকু পাখি। লড়াইবাজ পাখি হিসেবে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি এর। ইরান, ইরাক ও আফগানিস্তানের কোথাও কোথাও এখনো বুলবুলির লড়াই হয়। বাংলাদেশেও একসময় এদের লড়াই হতো। শুধু পোষা বুলবুল নয়, বুনো বুলবুলও লড়াইয়ে মেতে ওঠে অনেক সময়। লড়াইয়ে এতই মশগুল হয়ে পড়ে যে, কখনো কখনো শিকারির কবলে পড়ে যায়। এরা শহর, গ্রাম-গঞ্জ, পাতাঝরা বন, প্যারাবন, গ্রামীণ বন, বনের প্রান্ত, ক্ষেতখামার ও বাগানে বিচরণ করে। ঝোপঝাড় ও গাছের পাতায় এরা খাবার খুঁজে বেড়ায়। তীব্র রাসায়নিক পদার্থ এরা এড়িয়ে চলে। এদের খাদ্যতালিকার বড় অংশজুড়ে রয়েছে পোকামাকড়। এ ছাড়া ফুলের পাপড়ি, মধু ও ফলও খায় এরা। আগাছাজাতীয় গাছের বীজও এরা খায়।

Facebook Comments Box