ইয়াওমুল জুমুআ (শুক্রবার), ২১ জানুয়ারি ২০২২

রূপসার গ্রামগুলো বদলে গেছে পুকুর পাড়ের টমেটো চাষে

রূপসার গ্রামগুলো বদলে গেছে পুকুর পাড়ের টমেটো চাষে

খুলনা সংবাদাদাতা: জনপ্রিয় সবজি টমেটো বদলে দিয়েছে খুলনার রূপসা পাড়ের চিত্র। এ উপজেলার ২৮টি গ্রামে মৎস্য ঘেরের পাড়ের প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে টমেটো। ফলন ভালো হওয়ায় দুই শতাধিক কৃষক পরিবারে বিরাজ করছে খুশির আমেজ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র বলছে, রূপসা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মৎস্য ঘেরের পাড়ের জমিতে এ বছর ব্যাপক টমেটো চাষ হয়েছে। ঘেরের পাড়ে সারি সারি গাছে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা-পাকা টমেটো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম এবং ন্যায্যমূল্যে টমেটো বিক্রি করতে পেরে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।

চলতি মৌসুমে উপজেলার অধিকাংশ গ্রামজুড়ে মাছের ঘেরের পাড়ে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে এ বছর টমেটো চাষ হয়েছে। তবে ঘাটভোগ ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে সবচেয়ে বেশি জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে।

এদিকে, ঘেরের পাড়ে উৎপাদিত টমেটো কেনা-বেচার জন্য গ্রামে গ্রামে গড়ে গড়ে উঠেছে টমেটোর মৌসুমি আড়ত। স্থানীয়ভাবে এ আড়তকে ‘গালা’ বলা হয়। তাই টমেটো বিক্রি করতে সাধারণত পরিবহন খরচ লাগে না। কৃষকেরা ক্ষেত থেকে টমেটো তুলে এনে আড়তে বিক্রি করেন। টমেটো চাষে নারী ও বেকার যুবকসহ স্কুল-কলেজের ছাত্রদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে এখানকার টমেটো।

উপজেলার আনন্দনগর গ্রামে চাষি জুম্মান লস্কর বলেন, এ বছর মৎস্য ঘেরের পাড়ে দেড় বিঘা জমিতে মিন্টু সুপার নামক হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করেছি। এতে বীজ, সার, মাদা তৈরি, শ্রমিক ও কীটনাশক বাবদ প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০ মণ টমেটো (প্রতি মণ এক হাজার টাকা দরে) স্থানীয় আড়তে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আরও প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

পুটিমারি গ্রামের কৃষক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘেরের পাড়ে এক বিঘা জমিতে বিপুল প্লাস জাতের টমেটো চাষ করতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাচ্ছি। ৮০০ টাকা মণ দরে এ পর্যন্ত ২০ মণ টমেটো ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এরকম দাম থাকলে আরও ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

জুম্মান লস্কর ও রফিকুল ইসলাম ছাড়াও আনন্দনগর গ্রামের দুই শতাধিক কৃষক মাছের ঘেরের পাড়ে হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
কৃষকরা জানান, টমেটো একটি লাভজনক ও অর্থকরী সবজি। বর্তমানে আমাদের দেশে হাইব্রিড জাতের অনেক টমেটো চাষ হয়ে থাকে। এ জাতের টমেটোর ফলন অনেক বেশি। এটি স্বল্প সময়ের সবজি। জাতভেদে চারা রোপণের ৫০-৬০ দিন পর থেকেই ফল তোলা যায়। ধানের তুলনায় টমেটো চাষে ২/৩ গুণ লাভ হয়। অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় মৎস্য ঘেরের পাড়ে টমেটো চাষ বেড়েছে।

রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসের আলাইপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, বসতবাড়ি কিংবা মাঠের চেয়ে ঘেরের পাড়ে টমেটো চাষ করে অধিক ফলন পাওয়া যায়। অন্য ফসলের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি লাভ হওয়ায় মৎস্য ঘেরের পাড়ে টমেটো চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিসার ফরিদুজ্জামান বলেন, ঘেরের পাড়ে কম খরচে টমেটো চাষ করে লাভবান হওয়ায় এ উপজেলার প্রতিটি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এসব কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে এ বছর কৃষকেরা ঘেরের পাড়ে টমেটো চাষ করে আশাতীত ফলন পেয়ে লাভবান হয়েছেন।

Facebook Comments Box