ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ১৩ এপ্রিল ২০২১

মোবাইল ইন্টারনেটের গতি তলানিতে, এর মধ্যেই তরঙ্গ নিলামের আয়োজন

মোবাইল ইন্টারনেটের গতি তলানিতে, এর মধ্যেই তরঙ্গ নিলামের আয়োজন

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি খুবই শ্লথ। আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া এবং সোমালিয়ার চাইতেও খারাপ অবস্থা বাংলাদেশের। জনপ্রিয় ওয়েবসাইট স্পিডটেস্ট-এর গ্লোবাল ইনডেক্সের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত সূচকে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

শুধু ইন্টারনেটের ধীরগতি নয়, এর মূল্যও বাংলাদেশে বেশি। আর এর মধ্যেই আগামীকাল (৮ মার্চ) নতুন স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য নিলাম আয়োজন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি না হলেও মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, যে পরিমাণ ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছে তার চাইতে স্পেকট্রাম বা তরঙ্গের পরিমাণ কম থাকায় ইন্টারনেটের গতি কম হচ্ছে। এজন্য সরকার এখন ব্রডব্যান্ডকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইন্টারনেটের গতি নিয়ে ঢাকার শনির আখড়ায় বসবাস করা খায়রুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘আমি ফোরজি ব্যবহার করি। তবে ইন্টারনেটের গতি খুবই কম। এজন্য ইউটিউব চালাতে গেলে বাফারিং হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি আসে অনেক দেরিতে।’

শুধু আফ্রিকার ওই দুই দেশ নয়, মোবাইল ইন্টারনেটের গতির দিক দিয়ে ভারত কিংবা পাকিস্তানের থেকে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু বাংলাদেশের চাইতে কম গতির ইন্টারনেট রয়েছে আফগানিস্তানে।

স্পিডটেস্ট-এর গ্লোবাল ইনডেক্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোট ১৪০টি দেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬তম। যা গত বছরের চাইতে এক ধাপ পিছিয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অভিযোগ শুরু থেকেই। ঢাকার এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভবন আছে, যেখানে এখনও মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ডাটা ইউজ করা যায় না। জাতীয় সংসদ এমন একটি জায়গা। টেলিটক ছাড়া অন্য কোনো মোবাইলের নেটওয়ার্ক সেখানে ভালোভাবে পাওয়া যায় না।

এছাড়া অনেকেই আন্ডারগ্রাউন্ড কিংবা বহুতল ভবনে থেকেও ইন্টারনেটের ডাটা ইউজ করতে পারেন না। অনেকেই এলাকার ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও তারও গতি খুবই কম। এসব দেখভাল করার কেউ নেই বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

করোনার কারণে গ্রামে গিয়ে ফ্রিল্যান্সারের কাজ করছেন নজরুল ইসলাম নামে একজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামে কোনো ব্রডব্যান্ড কানেকশন নেই। আমি বাধ্য হয়েই মোবাইল কোম্পানিগুলোর ইন্টারনেট ব্যবহার করি। কিন্তু গতি কম হওয়ার কারণে কাজ করতে খুবই অসুবিধা হয়।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার এ বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর যে পরিমাণ গ্রাহক রয়েছে, সে হিসেবে তাদের স্পেকট্রাম বা বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের পরিমাণ কম। একটি সরু রাস্তা দিয়ে বেশি গাড়ি চলতে গেলে সেখানে তো কিছুটা সমস্যা হবেই। তাই সরকার এখন ব্রডব্যান্ডকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। অপারেটরগুলোকে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দিচ্ছি।’

Facebook Comments