জুমুআ (শুক্রবার), ০১ মার্চ ২০২৪

ভোগান্তির অপর নাম পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গোটা দেশের লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে। এখানে ভোগান্তি তো আছেই কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা, যেমন তেমন, শত প্রয়োজন থাকলেও তা দ্রুত পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভিন্ন পথে গেলে অবশ্য ভিন্ন কথা। তখন আবার একদিনেই থানা থেকে হাতে পাওয়া যায়।

সাধারণত চাকরি কিংবা উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদেশ ভ্রমণের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়। আপনি দেশের একজন সুনাগরিক কিংবা কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ননÑ তার প্রমাণই হচ্ছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। যদিও পুলিশ সদর দপ্তর দাবি করছে, এখন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য অনলাইনে আবেদন করা হয়। তবে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটির জন্য অনেক সময় আবেদন বাতিল হয়ে যায়।

তথ্য প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, দেশ এখন ডিজিটাল থেকে স্মার্ট হতে যাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে যদি সময় লাগে এক থেকে দেড় মাস তা হলে স্মার্ট কনসেপ্টের ওপর আস্থা হারাবে মানুষ?

সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স মানেই ভোগান্তি। জরুরি প্রয়োজনেও তা সহজে মিলছে না। পাসপোর্ট, দেশে বিদেশে সরকারি—বেসরকারি চাকরিতে যোগদান ও অন্যান্য প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়াটা সৌভাগ্যের বিষয়। মানুষের মনে প্রশ্ন, কেন পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য এত সময় লাগবে? আবার যারা তদবির করেন, তারা দ্রুত সময়েই পেয়ে যান। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ভেরিফিকেশন্স বা ক্লিয়ারেন্স মেলে না। সীমাহীন ভোগান্তির কোনো বিকল্প নেই। সময় মতো ক্লিয়ারেন্স না আসাতে অনেকেই পরিকল্পনা মতো হজে যেতে পারছেন না। আবার অনেকেরই কাজ ছুটে যায়।

মাঠ পর্যায়ে আলাপ করে জানা যায়, দেশ যখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনেক দূর এগিয়েছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা সম্ভব হয়েছে। তখনো সহজে মিলছে না পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। এটা এখনো রয়ে গেছে সেই মান্ধাতা আমলের মতোই। ক্লিয়ারেন্স পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নোটিস পাঠাতে হবে জেলা পুলিশ সুপার ও ডিএসবি কার্যালয়ে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় তা পাঠিয়ে দিয়ে অপরাধের খতিয়ান যাচাই করা হয়। তারপর প্রকৃত গ্রহীতার কাছে সেই রিপোর্ট পৌঁছানো হয়। এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কমপক্ষে এক মাস লাগে। অনেক ক্ষেত্রে ২/৩ মাসও লাগে। আবার যিনি অন্য পথের আশ্রয় নেন তিনি ২/৩ দিনের মধ্যেই পেয়ে যান। এ জন্য তাকে খরচ করতে হয় বাড়তি অর্থ। অর্থাৎ টাকা দিলে সরাসরি থানা থেকেই একদিনে মিলছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স।

এদিকে ভুক্তভোগীরা যারা চরম ভোগান্তির মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করেছেন, তাদের সচেতন অংশটা বেশ জোর ও যুক্তি দেখিয়ে বলছেন, বর্তমানে যেখানে ন্যাশনাল আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক— সেখানে কেন আবার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দরকার? এমনকি দুদকও সর্বশেষ তাদের মতামতে পাসপোর্ট তৈরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে। পাসপোর্ট তৈরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং সত্যায়িত করার বিষয়টি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে দুদক। রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া বার্ষিক প্রতিবেদনে দুদকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ৮.৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, পাসপোর্ট যাচাই কার্যক্রমে পুলিশ কর্তৃক কথিত ঘুষ গ্রহণের সুযোগ থাকে।

Facebook Comments Box