আহাদ (রবিবার), ২৭ নভেম্বর ২০২২

ভারত থেকে ভেসে আসছে মৃত গরু

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়ায় চোরাকারবারীরা গরু পাচারে বেছে নিয়েছে ভিন্ন কৌশল। তারা রাতের অন্ধকার আর ঘন কুয়াশাকে কাজে লাগিয়ে কলা গাছ অথবা কাশের ভেলার সঙ্গে ৮/১০টি করে গরুর পা বেঁধে একত্রে ভাসিয়ে দিচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতে। এতে করে গত এক মাস ধরে সীমান্তের ওপার থেকে ভেসে আসার সময় মারা যায় শত শত গরু।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রারপুর ইউনিয়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের ডুবো চরে একের পর এক ভেসে আসছে মৃত গরু। বেশি লাভের আশায় ভারতীয় চোরাকারবারীরা ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবেশ মুখ ভারতের কালাইয়ের চরের উজান থেকে স্রোতে ভাসিয়ে দেয় এসব গরু। রাতের অন্ধকার এবং ঘন কুয়াশায় বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব গরু ঢোকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। কিছু গরু এদেশের চোরাকারবারীরা উদ্ধার করলেও অতিরিক্ত ঠা-া আর পানিতে ডুবে মারা পড়ছে অসংখ্য গরু। এসব মৃত গরু আটকা পড়ছে ব্রহ্মপুত্রর বিভিন্ন ডুবো চরে।

কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর যাত্রাপুর, চিরা খাওয়া, ঝুনকার চর, অষ্টআশির চর, রলাকাটার চরসহ বেশকিছু চরে ঘুরে দেখা গেছে, নদের দুই পাড়ের এসব ডুবো চরের কোনটিতে ৪০টি, কোনটিতে ২০টি, কোনটিতে ১০টি কোনটিতে ১৫টি মৃত গরু পড়ে আছে। এসব গরুর কোনো কোনটির চামড়া নিয়ে গেছে স্থানীয় মুচিরা।

চর যাত্রাপুরের নৌকার মাঝি কোবাদ মোল্লা জানান, চর যাত্রাপুরের ডুবো চরে গত চার/পাঁচ দিনে মৃত ৯টি গরু আটকা পড়েছে। উজানের চরগুলোতে আরো অসংখ্য মৃত গরু আটকে আছে।

একই এলাকার নৌকার আরেক মাঝি শাহ আলম মিয়া জানান, আগে কাঁটাতারের ওপর দিয়ে চাঙ্গে করে গরু পাচার হয়ে আসতো। এখন কড়া পাহারায় ভারতের উজান থেকে গরুর পা বেঁধে স্রোতে ছেড়ে দিয়ে গরু পাচার করছে ভারতীয় চোরাকারবারীরা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নের ১০/১২টি ডুবোচরে অসংখ্য মৃত গরু আটকা পড়ে আছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এমন অমানবিক ভাবে গরুর পা বেঁধে নদীর স্রোতে ভাসিয়ে গরুপাচার রোধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি মৃত গরুগুলো অপসারণ করে পরিবেশ রক্ষারও দাবি জানান তিনি।

Facebook Comments Box