আহাদ (রবিবার), ২৭ নভেম্বর ২০২২

ভারতের ভেতরে ঢুকে গুলি চালায় নেপালি পুলিশ!

উত্তেজনার মধ্যেই বর্ডার পোস্ট পরিদর্শনে নেপালের সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি বিহার সীমান্তে নেপালি পুলিশের গুলিতে এক ভারতীয় নিহত ও দুজন গুরুতর আহত হয়। এ ছাড়া একজনকে ধরে নিয়ে যায় সীমান্তে থাকা নেপালি।

ঘটনাটি উভয় দেশের সীমান্ত নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে ৭৫ মিটার দূরে নেপালি ভূখণ্ডের ভেতর ঘটলেও ভারত এখন দাবি করছে, তাদের এলাকায় ঢুকে নেপালেরসশস্ত্র পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল গ্রামবাসীকে!

আরো পড়ুন : একমাসে সীমান্তে ১১ হত্যা -বিজিবি

বিহারের সিতামারি জেলার সীমান্তে হতাহতের ওই ঘটনার তিনদিন পর আটককৃত ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দবাজার পত্রিকাকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

তারা জানিয়েছে, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় গুলি চলেছিল সেদিন। ১০-১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে নেপালের বাহিনী। নেপাল পুলিশকে আগে কখনও এমন আচরণ করতে তার দেখেনি।

তাদের ভাষ্য কাঁটাতারবিহীন লালবন্দি-জানকীনগর সীমান্তে কখনোই কোনো কড়াকড়ি ছিল না। পাসপোর্ট-ভিসার কোনো ঝামেলা না-থাকায় দুদেশের নাগরিকরা অবাধে আসা যাওয়া করে।

ঘটনার দিন আটককৃত স্থানীয় বাসিন্দা লগনকিশোর তার ছেলে ও পরিবারকে নিয়ে সীমান্ত লাগোয়া নেপালের গ্রামে পুত্রবধূর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিল। কিন্তু সীমান্ত পেরনোর সময় তাকে আটকায় নেপাল পুলিশ।

আরো পড়ুন : থামছেনা বিএসএফের যুলুম-আগ্রাসন

লগনের দাবি, তর্কাতর্কি শুরু হলে হঠাৎই তাকে রাইফেলের বাট দিয়ে মারতে মারতে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নেপাল সশস্ত্র পুলিশ। লগনের ছেলেকেও মারধর করা হয়। সে সময় কয়েকজন ভারতীয় কৃষক জমিতে কাজ করছিল।

তারা ঘটনা দেখে এগিয়ে এলে নেপালি বাহিনী গুলি ছুড়তে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় বিকাশ যাদব। উমেশ রাম, উদয় ঠাকুর-সহ তিন কৃষক জখম হয়।

লগন বলেছে, গুলি চলার সময় আমি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলাম। সে সময় আমাকে আমাকে ভারতের এলাকায় ঢুকে ফের আটক করে নেপাল পুলিশ। সংগ্রামপুর চৌকিতে নিয়ে গিয়ে আমাকে মারধর করা হয়। জোর করে জবানবন্দি আদায় করে যে, আমি নেপালে ঢুকেছিলাম।

গত শনিবার সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে লগনকে ভারতীয় বাহিনীর হাতে তুলে দেয় নেপালের পুলিশ। ভারতীয় বাহিনীকে জানানো হয়, অস্ত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।

Facebook Comments Box