জুমুআ (শুক্রবার), ১২ আগস্ট ২০২২

বিচার দেরি হলে ন্যায় কথাটি ঝাপসা হয়ে যায়: আইনমন্ত্রী

বিচার দেরি হলে ন্যায় কথাটি ঝাপসা হয়ে যায়: আইনমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: জনগণকে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, মামলার বিচার করতে দেরি হলে ন্যায়বিচার শব্দের ন্যায় কথাটি আস্তে আস্তে অনেক ঝাপসা হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এই ঝাপসাটা হতে দেবেন না। যখন পরিষ্কার থাকে, তখনই যেন মামলাটা শেষ হয়, সেই কাজটা আপনারা করবেন। সেই সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াবেন। আমি জনগণের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের কাছে এটুকু অনুরোধ করছি। আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারদের সুসম্পর্ক থাকলে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়বে এবং বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে।

শনিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। মো. গোলাম সারওয়ারকে আইন ও বিচার বিভাগে পূর্ণাঙ্গ সচিব হিসেবে পদায়ন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন করার চেষ্টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম চাওয়া ছিল, জনগণকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়া। কারণ তিনি কখনো ন্যায়বিচার পাননি। এমনকি মৃত্যুর পরও ন্যায়বিচার পাননি। সেক্ষেত্রে আজকে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, বিচার বিভাগকে এমনভাবে সাজানো, যাতে বাংলাদেশের জনগণের দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার পূরণ হয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আনিসুল হক বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, বিচার বিভাগের স্বার্থে আপনারা সরকারের কাছে বা রাষ্ট্রের কাছে যা চাইবেন, দিয়ে দেওয়া হবে। বিনিময়ে দ্রুত ন্যায়বিচার চাই। পাকিস্তান আমলে দেখেছি, ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর কোনো বিচার হয়নি। এসব হত্যার বিচার না হওয়াটা আমাদের মনে ও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছে। জনগণের এই রক্তক্ষরণ আপনারা বন্ধ করবেন।

তিনি বলেন, জনগণের টাকা-পয়সায় দেশ চলে, তাদের পরিশ্রমে, তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করার কারণে আমরা এই অবস্থানে আছি। তাই তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে নিশ্চিত করতে হবে।

‘আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ হলো নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের সেতু বন্ধন। এই সেতু বন্ধন যাতে আরও দৃঢ় হয়, বিচারকদের যাতে কোনো অসুবিধা না থাকে, সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে।’ বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে সঠিকভাবে ন্যায়বিচার দিতে পারবে-এ কথা আমি যেমন বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তেমনি বিশ্বাস করেন। এমনকি জাতির পিতাও এই বিশ্বাসকে ধারণ করে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিলেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে চলার জন্য নেতৃস্থানীয় এবং প্রত্যেকটা পদে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা থাকা উচিত। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন এমন কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন। মো. গোলাম সারওয়ার দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার কারণেই আইন ও বিচার বিভাগের সচিব হয়েছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, যুগ্ম সচিব ও অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ, নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (আইন) মাহাবুবার রহমান সরকার, আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব শেখ গোলাম মাহবুব, কাস্টম, এক্সসাইজ ও ভ্যাট আপিলেট ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক (জেলা জজ) মো. সোহেল আহমেদ, বান্দরবান জেলার জেলা ও দায়রা জজ ফজলে এলাহি ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মুন্সি মশিউর রহমান, ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবর রহমান, মো. সোহেল আহমেদ বক্তব্য রাখেন। এসময় অ্যাসোসিয়েশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box