আহাদ (রবিবার), ২২ মে ২০২২

বগুড়ার গাজর চাষি ও ব্যাপারিরা ভালো নেই

বগুড়ার গাজর চাষি ও ব্যাপারিরা ভালো নেই

বগুড়া সংবাদাদাতা: বগুড়ায় এবার গাজরের ভালো ফলন হয়েছে। তবে ভালো দাম না পাওয়ায় বগুড়ার গাজর চাষি এবং ব্যাপারিরা ভালো নেই।
চাষিরা বলছেন, ইতোপূর্বে গাজর চাষ করে বেশি লাভবান হলেও এবার খরচ তুলে হাতে অল্প কিছু টাকা থাকতে পারে।

আর ব্যাপারিরা বলছেন, মৌসুমের শুরুর দিকে বেশি দামে গাজরের জমি কেনায় এখন বিক্রি করতে গিয়ে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, গত ৫ বছরে বগুড়ায় গাজর চাষের জমি বেড়েছে প্রায় ১০০ হেক্টর। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বগুড়ায় গাজরের জমি ছিলো মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হেক্টর। চলতি বছরে জেলায় ১৫২ হেক্টর জমিতে গাজর চাষ করা হয়েছে। গত বছর জেলায় গাজর উৎপাদন হয়েছিলো ৩ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন। চলতি বছর গাজর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত ১৯৮৪ মেট্রিক টন ফসল সংগ্রহ করা হয়েছে।

জেলার সদর, সোনাতলা, গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও শিবগঞ্জ উপজেলায় গাজর চাষ করা হয়। গাজরের বীজ বপন করার পর আড়াই থেকে তিন মাসের ভেতর ফসল উঠানো যায়।

বগুড়া সদরের রাজাপুর ইউনিয়নের মন্ডলধরন গ্রামের গাজর চাষি আব্দুল্লাহ জানান, তিনি ৮-১০ বছর ধরে গাজর চাষ করছেন। এক বিঘা জমিতে গাজর চাষ করতে বীজ বপন থেকে উঠানো পর্যন্ত খরচ পরে প্রায় ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১১হাজার টাকার বীজ আর বাকি টাকা কামলাসহ সার পানিতে খরচ হয়। এক বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০ মণ ফসল পাওয়া যায়। গাজরের ফলন সব সময় ভালো হয়। এছাড়া গাজর চাষে ঝামেলা কম। শুধুমাত্র একবার নিড়ানি আর দুইটা সেচ দিলেই আড়াই-তিনমাসের মধ্যে গাজর উঠানো যায়।

একই গ্রামের গাজর চাষি বুলু মিয়া জানান, গত বছর তারা জমি থেকে গাজর কেজি প্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এবার ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। যে কারণে প্রতি বছর বেশি লাভ করতে পারলেও এবার সে পরিমাণ লাভ তারা করতে পারবেন না।

ব্যাপারী গাবতলী উপজেলার মধ্যকাতুলী গ্রামের আব্দুল হান্নান নামে আরেক গাজর চাষি জানান, গাজরে ঝামেলা কম। এটা বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। ব্যাপারিরা এসে ফসল দেখে জমি কিনে নেন। এক বিঘা গাজরের জমি বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায়।

গাজরের ব্যাপারি গাবতলী উপজেলার মধ্যকাতুলী গ্রামের মতিয়ার রহমান জানান, তারা প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ টন গাজর ঢাকা, কোনাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠান। তবে এবার গাজরের ব্যবসা করে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারণ গত বছর গাজরের বাজার ভালো ছিলো। যে কারণে তারা মৌসুম শুরুর দিকে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি বিঘা গাজরের জমি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। গত বছর ২০ থেকে ২৫ টাকা প্রতি কেজি দরে গাজর বিক্রি করলেও এবার প্রথমেই ১৫ টাকা এরপর ১২টাকা কেজিতে এসে ঠেকেছে। আমদানি বেশির কারণেই গাজরের দাম কম বলে জানান তিনি।

এদিকে মিনহাজুল ইসলাম নামে আরেক ব্যাপারি জানালেন, পাবনা জেলায় উৎপাদিত গাজর দেশের সিংহভাগ স্থানে গাজরের চাহিদা মেটায়। প্রতি বছর এরকম সময় পাবনার গাজর বাজার থেকে কমে যায়। যে কারণে বগুড়ার গাজর ব্যাপারিরা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে লাভ করতেন। কিন্তু চলতি বছর এখনও বাজারে পাবনার গাজর রয়েই গেছে। যে কারণে তাদের এই অবস্থা। বাজারে বগুড়ার গাজর ১২টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও পাবনার গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৩/১৪ টাকা প্রতি কেজি।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) এনামুল হক জানান, আমরা বাজারের বিষয়টি দেখি না। তবে বগুড়ায় গাজরের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ আমরা কৃষকদের গাজর চাষে উৎসাহিত করছি। তাদেরকে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন ধারণা ও পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া মানুষ স্যালাদ জাতীয় খাবার ইদানিং বেশি খাচ্ছে যে কারণে গাজরের চাহিদাও বেড়েছে। এ কারণে বগুড়ায় গাজরের চাষের জমিও বাড়ছে।

Facebook Comments Box