ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ১৭ এপ্রিল ২০২১

পাট রক্ষায় প্যাকেজিং আইন বাস্তবায়ন করতে হবে : পাটমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেছেন, পাট রক্ষায় বাধ্যতামূলক প্যাকেজিং আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনে (বিজেএমসি) জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে ‘বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের বিপণনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

পাটমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে পাটের বাজার ডাউন হওয়ার কারণে পাটশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে পাটের সম্ভাবনা নষ্ট হয়েছে। বিশ্ব এখন প্লাস্টিককে বর্জন করতে শুরু করেছে। সেজন্য আমরা পাটের সুদিন নিয়ে আশাবাদী। আমাদেরকে পাটের সকল সম্ভাবনার বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। খুব দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। সরকারি এবং প্রাইভেটভাবে পাটকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। সরকারি পাটকলের চেয়ে প্রাইভেট পাটকল বাজারে পণ্য আগে আনতে পারে। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।

তিনি আরো বলেন, পাটশিল্প রক্ষায় সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার গতি দ্রুত বাড়ানো হবে। বাধ্যতামূলক প্যাকেজিং আইন শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা যদি বাধ্যতামূলকভাবে পাট পণ্যের ব্যবহার বাস্তবায়ন করতে না পারি তাহলে পাটশিল্প রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য এখন থেকে নিয়মিত পাট রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাটকে রক্ষায় আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি পাট খাতে কোনো দুর্নীতি কিংবা গাফিলতি মেনে নেব না। আমরা পাটের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। পাকিস্তান আমাদের পাটের ন্যায্য মূল্য দিত না। যার জন্য বঙ্গববন্ধুর ডাকে আমরা পাটের অস্তিত্ব রক্ষায় সেদিন আমাদের অধিকার আদায় করেছিলাম। পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে বেশি বেশি মেলার আয়োজন করতে হবে। দেশের বিভিন্ন জেলায় পাটের স্টল খুলতে হবে। তাহলে লোকালি আমাদের পাটের পণ্য কেনায় আগ্রহ বাড়বে।

মন্ত্রী বলেন, বিজেএমসি কীভাবে বাঁচবে, সেটা তাদের নিজেদেরকেই দেখতে হবে। পাট মন্ত্রণালয় কৃষকদের বাঁচাতে কাজ করছে। বিজেএমসিকে বাঁচানোর পাট মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। বিজেএমসি হলো পাট মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ। সেখানে পাটের সুদিন ফেরাতে বা বিজেএমসিকে নিজেদের অবস্থান আরো উন্নতি করতে তাদের নিজেদেরই পরিকল্পনা নিতে হবে।

সেমিনারে মুখ্য আলোচক ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পরিচালক ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন। উপস্থিত ছিলেন- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মিজানুর, বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ নাছিম, বিজেএমএর প্রতিনিধি, বিজেজিএর প্রতিনিধি,রবিজেএসএসহ পাট সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার, পাট ব্যবসায়ী, বিআরআইর মহাপরিচালক প্রমুখ।

Facebook Comments