সাবত (শনিবার), ০২ মার্চ ২০২৪

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন যুগের সূচনা নারায়ণগঞ্জে

আর.এফ.এন নিউজ :

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন যুগের সূচনা নারায়ণগঞ্জে

বুধবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এমওইউ সই হয়। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সরবরাহ করবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কনপোরেশন। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বিদুৎ কেন্দ্র নির্মাণে দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

২০১২ সাল থেকে বর্জ্য বিদ্যুতের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও নানা উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। এরমধ্যে নতুন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হলো বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফম এহতেশামুল হক এবং পিডিবি’র সচিব মীনা মাসুদউজ্জামান নিজ নিজ পক্ষে সই করেন। এর মধ্যদিয়ে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে।

এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নসরুল হামিদ বলেন, ‘দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্যোগ নিতে হবে পিডিবিকে। এজন্য আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করতে হবে। এ ধরনের কেন্দ্র নির্মাণে ঢাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা আশা করি, তারাও বিদ্যুৎ বিভাগের এই উদ্যোগের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করবেন। কেরানীগঞ্জে বর্জ্যবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।’ আগামী ২৫ মার্চ কুষ্টিয়াতে ৪০০ কিলোওয়াটের একটি বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বর্জ্যবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে নারায়ণগঞ্জের জালকুরিতে ১০ থেকে ১২ একর জমি অধিগ্রহণ করে দেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এরইমধ্যে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগও নিয়েছে সিটি করপোরেশন।

সমাঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে,  সিটি করপোরেশন শহর থেকে সব বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। এরপর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। যেহেতু এ ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে বিক্রয় মূল্য কম, তাই এখানে পিডিবি ভর্তুকি দেবে। তবে এই বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট প্রতি উৎপাদন ব্যয় কত হবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি।

এমওইউ সই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের  মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘দুই বছর আগে ছয়টি সিটির মেয়রদের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এরমধ্যে প্রথম মেয়র হিসেবে তিনি এগিয়ে এসেছেন।’ তিনি মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে পরিবেশবান্ধব নারায়ণগঞ্জ গড়ে উঠবে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎও পাওয়া যাবে।

বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বলেন, ‘নগরের জন্য বর্জ্য হুমকি হয়ে উঠেছে। উৎপাদন খরচ বেশি হলেও এর মাধ্যমে শহরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকবে। নারায়ণগঞ্জ প্রথম সিটি করপোরেশন হিসেবে এগিয়ে এসেছে ‘ অন্য মেয়রদেরও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান বিদ্যুৎ সচিব।

ইতালিয়ান কোম্পানি ম্যানেজমেন্ট এনভায়রনমেন্ট ফিন্যান্স এসআরএলের সঙ্গে ২০১৩ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগ বর্জ্যবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করে। পরবর্তীতে কোম্পানিটি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করায় প্রকল্পটির কাজ আর শুরু হয়নি। ওই সময় বলা হয়েছিল, ঢাকার বর্জ্য দিয়ে দৈনিক ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পর্যায়ক্রমে যা বৃদ্ধি করে ১০০ মেগাওয়টে উন্নীত হবে। ঢাকায় দেড় কোটির বেশি মানুষ বসবাস করেন। নগরের বর্জ্য দিয়ে অন্তত ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করা হয়।

অনুষ্ঠানে পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালিদ মাহমুদ ছাড়াও বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ মেগাওয়াট বর্জ্যবিদ্যুৎ উৎপাদনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

Facebook Comments Box