ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ০২ মার্চ ২০২১

দ্বীন ইসলাম নিয়ে কটূক্তি ও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট বরারব বিশিষ্ট নাগরিকদের স্মারকলিপি

ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট বরারব বিশিষ্ট নাগরিকদের স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য ও ফ্রান্সে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক অবমাননার অপচেষ্টায় ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ। বুধবার ঢাকার ফরাসি দূতাবাসে দেয়া এক স্মারকলিপিতে এসব ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদলিপিটি পাঠিয়েছেন মাসিক আল-বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল-ইহসান পত্রিকার সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিলের উৎযাপন কমিটির সভাপতি আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলম, বিশিষ্ট সাংবাদিক সাইয়্যিদ মুক্তাদুল হুসাইন ও সাংবাদিক মুহম্মদ আরিফুর রহমান; বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট এস. এম. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মুহম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কাজী মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, বিশিষ্ট ফার্মাসিস্ট এ.বি.এম. রুহুল হাসান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ মুহম্মদ আব্দুল আলী, বিশিষ্ট প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ আমিনুল ইসলাম মিয়া প্রমুখ।

বুধবার সকাল ১১টায় স্মারকলিপিটি ঢাকার ফরাসি দূতাবাসে প্রদান করা হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর মন্তব্য প্রসঙ্গে স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘বিশ্বব্যাপী ইসলাম সংকটে আছে’ বলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট কিছুদিন আগে এক বক্তব্যে বলেছিলো। ম্যাক্রোর মন্তব্যটি ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মের উপর অন্যায় আক্রমণ – যা আসলে হেইট স্পিচের অন্তর্ভুক্ত। মন্তব্যটি কেবল নীতিগতভাবেই ভ্রান্ত নয়, বাস্তবতার বিচারেও তা অসত্য। কেননা ইসলাম কেবল বিশ্বের ২০০ কোটিরও বেশি মানুষের অনুসৃত ধর্মই নয়, বরং ফ্রান্সসহ ইউরোপের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান ধর্মও দ্বীন ইসলাম। এই বিষয়ে ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি টাইম ম্যাগাজিনে “দ্বীন ইসলাম কীভাবে ইউরোপে দ্রুত বর্ধমান ধর্ম হয়ে উঠল” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রতিবাদলিপিতে আরো বলা হয়, গত ২১ অক্টোবরে দেওয়া এক বক্তৃতায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সরাসরিই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারকে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকে সমর্থন দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! এর দুইদিন পর ফ্রান্সের সরকারি ভবনে ওইসব ব্যঙ্গচিত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সশস্ত্র পাহারায় প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হয়েছিল। নাউযুবিল্লাহ! এতে প্রমাণিত হয়, ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে পরিকল্পিতভাবেই দ্বীন ইসলাম ও হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারকে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের অবমাননা করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

স্মারকলিপিতে বিশিষ্ট নাগরিকগণ বলেন, আমরা বাংলাদেশের মুসলিমগণের পক্ষ থেকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ইসলামবিদ্বেষী এসব মন্তব্য ও কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা ফ্রান্সে মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাসের জন্য একটি সম্মানজনক পরিবেশের দাবি জানাই।

সবশেষে ফ্রান্সে সব ধরনের ইসলামবিদ্বেষী কর্মকা- বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ফ্রান্সের সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।

Facebook Comments